Tranding

01:51 PM - 04 Feb 2026

Home / National / 'বামেদের অভিযোগ সঠিক' নির্বাচনী বন্ড 'অসাংবিধানিক' বলল শীর্ষ আদালত

'বামেদের অভিযোগ সঠিক' নির্বাচনী বন্ড 'অসাংবিধানিক' বলল শীর্ষ আদালত

এদিন প্রধান বিচারপতি বলেছেন, তথ‍্য জানার অধিকার 'অনুচ্ছেদ ১৯ (১) (এ)-কে লঙ্ঘন করছে নির্বাচনী বন্ড প্রকল্প। এটি অসাংবিধানিক।' ২০১৯ সালে নির্বাচনী বন্ড প্রকল্পের অন্তর্বর্তী নির্দেশ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলি যে সমস্ত বন্ড পেয়েছে, তার রেকর্ড বিশদে নির্বাচন কমিশনকে দিতে এসবিআইকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আগামী ৩ সপ্তাহের মধ্যে কমিশনকে তথ্য দিতে হবে এসবিআইকে। ব্যাঙ্কের থেকে তথ্য পেলে অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে তা প্রকাশ করতে কমিশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

'বামেদের অভিযোগ সঠিক' নির্বাচনী বন্ড 'অসাংবিধানিক' বলল শীর্ষ আদালত

'বামেদের অভিযোগ সঠিক' নির্বাচনী বন্ড 'অসাংবিধানিক' বলল শীর্ষ আদালত

15 Feb 2024,

নির্বাচনী বন্ড প্রকল্প বাতিল করে দিল সুপ্রিম কোর্ট।নির্বাচনী বন্ড 'অসাংবিধানিক' বলে বৃহস্পতিবার বর্ণনা করল শীর্ষ আদালত। ভোটে কালো টাকার খেলা বন্ধ করার লক্ষ্যে নির্বাচনী বন্ড চালু করেছিল মোদী সরকার।
লোকসভা নির্বাচনের আগে অস্বস্তি বাড়ল মোদী সরকারের। নির্বাচনী বন্ড প্রকল্প বাতিল করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। নির্বাচনী বন্ড 'অসাংবিধানিক' বলে বৃহস্পতিবার বর্ণনা করল শীর্ষ আদালত। বৃহস্পতিবার এই মামলায় নির্দেশ দেয় প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়ের নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ। অবিলম্বে নির্বাচনী বন্ড প্রদান বন্ধ করতে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (এসবিআই)-কে নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। 

এদিন প্রধান বিচারপতি বলেছেন, তথ‍্য জানার অধিকার  'অনুচ্ছেদ ১৯ (১) (এ)-কে লঙ্ঘন করছে নির্বাচনী বন্ড প্রকল্প। এটি অসাংবিধানিক।' ২০১৯ সালে নির্বাচনী বন্ড প্রকল্পের অন্তর্বর্তী নির্দেশ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলি যে সমস্ত বন্ড পেয়েছে, তার রেকর্ড বিশদে নির্বাচন কমিশনকে দিতে এসবিআইকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আগামী ৩ সপ্তাহের মধ্যে কমিশনকে তথ্য দিতে হবে এসবিআইকে। ব্যাঙ্কের থেকে তথ্য পেলে অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে তা প্রকাশ করতে কমিশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

ভোটে কালো টাকার খেলা বন্ধ করার কথা প্রচার করে নির্বাচনী বন্ড চালু করেছিল মোদী সরকার। ২০১৮ সালে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী থাকাকালীন সেই সময় নির্বাচনী বন্ডের কথা ঘোষণা করেছিলেন অরুণ জেটলি। ২০১৭ সালে অর্থ বিলের মাধ্যমে আইনে বেশ কিছু সংশোধনী এনে ২০১৮ সালে নির্বাচনী বন্ড চালু করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। এর ফলে কোনও ব্যক্তি বা কর্পোরেট সংস্থা রাজনৈতিক দলগুলিকে অনুদান দিতে চাইলে বন্ড কিনে সংশ্লিষ্ট দলকে দিতে হবে। ১ হাজার, ১০ হাজার, ১ লক্ষ, ১০ লক্ষ এবং ১ কোটি টাকা মূল্যের বন্ড পাওয়া যাবে। নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে সেই বন্ড ভাঙিয়ে নিতে পারবে রাজনৈতিক দলগুলি। তবে কে, কত টাকা দিচ্ছেন, তা বোঝা যাবে না। নির্বাচনী বন্ডে অস্বচ্ছ্বতা নিয়ে সরব হয়েছিল বিরোধীরা। বন্ড-বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছিলেন, বিশ্বের কোনও দেশে এমন ব্যবস্থা নেই। কোন কর্পোরেট সংস্থা ভোটে কাকে সাহায্য করছে, তার বিনিময়ে ক্ষমতাসীন দলের থেকে কী সুবিধা আদায় করছে, তা জানার কোনও উপায় নেই। 

আগে রাজনৈতিক দলগুলিকে, ব্যবসায়ীরা নিজেদের স্বার্থ সুরক্ষায় নিয়মিত দান হিসেবে টাকা দিত। তবে নিয়ম ছিল কুড়ি হাজার টাকার বেশি কেউ দান করলে রাজনৈতিক দলকে প্রকাশ্যে তা জানাতে হবে। সাধারণ মানুষ যাতে জানতে পারে কে কোন ধান্দায় টাকা জোগাচ্ছে। নিয়ম ছিল, কোনো কোম্পানি তার মোট আয়ের দশ শতাংশ  বা মোট মুনাফার সাড়ে সাত শতাংশের বেশি এই উদ্দেশ্যে কোনো রাজনৈতিক দলকে দান করতে পারবেনা। এর সবটাই এখন বাতিল হয়ে গিয়েছিল। এখন যে কেউ নির্বাচনী বন্ডের মাধ্যমে যে কোনো রাজনৈতিক দলকে যথেচ্ছ অর্থ জোগাতে পারছিল। ১০০০ টাকার গুণিতকে এক কোটি টাকা পর্যন্ত বিনা সুদের বন্ড যথেচ্ছ কিনে দান করা যেতে পারে। যে বা যারা এই বন্ড কিনে রাজনৈতিক দলের তহবিলে অর্থ যোগান দিচ্ছে, তাদের পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখার বন্দোবস্ত করেছিল বিজেপি সরকার। যদিও শাসক দল ও সরকার কে কোন দলে টাকা দিচ্ছে তার সবটাই জানতে পারছে। তবু কর্পোরেট মালিকরা খানিকটা বেপরোয়া হয়ে নিজেদের সর্বোচ্চ মুনাফা সুনিশ্চিত করতে ও জনগণকে প্রকাশ্যে লুটের সরকারি স্বীকৃতি বা লাইসেন্স পেতে এই বন্ড কিনছে। দেদার কালো টাকা নির্বাচনী বন্ডে বিনিয়োগের মাধ্যমে সাদা  হয়েছে গত পাঁচ বছরে। যেহেতু সবটাই গোপনে হচ্ছে তাই জনগনের জানবার সুযোগ ছিল না,  এই বাড়তি সুবিধাভোগী কর্পোরেট মালিকদের নামধাম ও তাদের লুটের সামগ্রিক পরিকল্পনা। সিপিআইএম প্রথম থেকেই নির্বাচনী বন্ডের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলিকে এভাবে অর্থ যোগানের নিয়মের বিরোধিতা করেছে। আরো একাধিক বামপন্থী দল এর বিরোধিতা করেছে। এই সময়ে  গত লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনগুলির আগে এই বন্ড বিক্রির উপর স্থগিতাদেশ চেয়ে আবেদন করলেও সর্বোচ্চ আদালত তা মঞ্জুর করেনি। ফলে সমগ্র নির্বাচনী ব্যবস্থায় কর্পোরেট মালিকদের প্রভাব উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ বেঞ্চের সাম্প্রতিক শুনানিতে উভয়পক্ষের আইনজীবী ও প্রধান বিচারপতির বক্তব্যে নির্বাচনী বন্ড, এর যৌক্তিকতা, বিপদ ইত্যাদি বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা উঠে এসেছে যা সকলের নজরে থাকা দরকার। কেন  প্রথম দিন থেকে গনতান্ত্রিক দলগুলি এই বন্ডের বিরোধিতা করে আসছে তা বোঝা সম্ভব হবে। 

Your Opinion

We hate spam as much as you do