এই অঞ্চলে বহু পুরোনো বিজেপি কর্মী দল পাল্টে তৃনমুলে যুক্ত হয়েছেন। আবার এই কেন্দ্রে গতবারের জয়ী তৃনমুল বিধায়ক শিলভদ্র দত্ত যথারীতি কদিন আগে বিজেপিতে যোগ দিয়ে খড়দহে প্রার্থী হয়েছেন।
নির্বাচন, ২১, বারাকপুরে বাম প্রার্থী ডঃ দেবাশীষ ভৌমিকের বিরুদ্ধে বহিরাগত অভিযোগ নেই
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটে আর এক আকর্ষণীয় কেন্দ্র বারাকপুর বিধানসভা ।
এই কেন্দ্রে বাম প্রার্থী সিপিএমের নৈহাটি ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ ডঃ দেবাশীষ ভৌমিক। দেবাশিসবাবু বারাকপুরের স্থায়ী বাসিন্দা । গতবছর তিনি প্রার্থী ছিলেন। গত পাঁচ বছর এলাকার মানুষের সাথে ধারাবাহিক নিবিড় যোগাযোগ ছিল। গত লকডাউনের বিপর্যয়ে টিটাগড়ে দীর্ঘ সময় কমিউনিটি কিচেন চালিয়ে বহু মানুষের অন্ন সংস্থান করেছেন। অধ্যক্ষ ডঃ ভৌমিক বারাকপুরের সাংস্কৃতিক সামাজিক আন্দোলনের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ।
এই কেন্দ্রের বিজেপির যুবনেতা সাংসদ অর্জুন সিং ঘনিষ্ঠ মনীষ শুক্লা জনসমক্ষে টিটাগড়ে মাত্র মাস পাঁচেক আগে প্রকাশ্যে খুন হন। এর ফলে এলাকায় অশান্তির পরিবেশ তৈরি হয়। বিজেপি তৃণমূলের দুই চেয়ারম্যান উত্তম দাস ও প্রশান্ত চৌধুরীর নামে অভিযোগ জানায়। এদিকে তৃনমুল বলে এটা বিজেপির অন্তদ্বন্দের ফল।
এর মধ্যে নির্বাচন চলে আসে।
বহিরাগত শব্দটা এখন বেশ চালু। এই শব্দটা সবচেয়ে বেশি কাজে আসছে বারাকপুরের বামপন্থীদের। এখানে তৃণমূল, বিজেপি উভয় প্রার্থীই বহিরাগত বলে প্রচার হচ্ছে ।
বিজেপি প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত করেছে মনীষ শুক্লার বাবা সত্তরোর্ধ ডাঃ চন্দ্রমনি শুক্লাকে। প্রসঙ্গত চন্দ্রমনিবাবু বয়স্ক এবং টিটাগড় বা বারাকপুরের বাসিন্দা নন বলে একাংশের বক্তব্য । এই অঞ্চলে বহু পুরোনো বিজেপি কর্মী দল পাল্টে তৃনমুলে যুক্ত হয়েছেন। আবার এই কেন্দ্রে গতবারের জয়ী তৃনমুল বিধায়ক শিলভদ্র দত্ত যথারীতি কদিন আগে বিজেপিতে যোগ দিয়ে খড়দহে প্রার্থী হয়েছেন।
আর তৃনমুল সদ্য দলে যোগ দেওয়া সিনেমা জগতের রাজ চক্রবর্তীকে প্রার্থী করেছে। রাজ চক্রবর্তী প্রার্থী হওয়ার পর বারাকপুর পৌরসভার তৃনমুল চেয়ারম্যান উত্তম দাস তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেছিলেন, আমি রাজ চক্রবর্তীকে চিনি না, চুন খেয়ে মুখ পুড়েছে, দই দেখলেও ভয় লাগে। পরপর তৃনমুলের জনপ্রতিনিধিদের দল থেকে নির্বাচিত হয়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে তিনি এই আশঙ্কা প্রকাশ করেন বলে জানা গেছে।
উত্তম দাসের প্রার্থী নিয়ে অপছন্দের বিষয়টি তৃণমূলের অন্দরে চাপা থাকেনি। দীর্ঘ সময় বারাকপুরের চেয়ারম্যান থাকার সুবাদে তার গনযোগাযোগ বেশি বলে উত্তমবাবু দাবীদার ছিলেন। তৃনমুলের আর এক অস্বস্তির কারন দশ বছরের সাংসদ দীনেশ ত্রিবেদীর বিজেপিতে যুক্ত হওয়া । ফলে এলাকার দলীয় প্রাক্তন সাংসদ ও বর্তমান বিধায়ক ঠিক ভোটের মুখে দলত্যাগ করায় একনিষ্ঠ কর্মীদের মধ্যে হতাশা লক্ষ করা যাচ্ছে ।
বারাকপুরের প্রবীন সিপিএম নেতা দীর্ঘ উনিশ বছরের সাংসদ তড়িৎ তোপদার ডঃ দেবাশীষ ভৌমিকের হয়ে প্রচারে নেমেছেন। এই এলাকার নির্বাচনে শিল্প স্থাপন , কর্মসংস্থান, কলকারখানার উন্নতি, শ্রমিক আন্দোলন ও মধ্যবিত্ত মানুষের রুটিরুজির লড়াইকে সামনে আনছেন প্রিন্সিপাল দেবাশীষবাবু ।
সমস্যা হচ্ছে বিজেপি বা তৃণমূলের প্রার্থী কারওরই রাজনীতি বা জনগনের আন্দোলন সংগ্রামের সাথে যুক্ত থাকার ন্যুনতম অভিজ্ঞতা নেই। এমনকি ভয়াবহ মহামারী সংকটে বিধ্বস্ত বিপর্যস্ত দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িছিলেন বলে জানা নেই।
সব মিলিয়ে বারাকপুরের লড়াই বেশ জমজমাট । বামফ্রন্ট থেকে চলে যাওয়া ভোটার পুনরায় ফিরবেন বলে ওয়াকিবহাল মহলের ধারনা। পুরাতন টিটাগড় কেন্দ্রে দীর্ঘ দিনের বাম বিধায়ক ডাঃ প্রবীন কুমার , দেবাশীষবাবুর পক্ষে প্রচারে অংশ নিয়েছেন। সব মিলিয়ে দেবাশীষবাবু বেশ কিছুটা সুবিধাজনক জায়গায় আছেন বলে মনে হচ্ছে।
We hate spam as much as you do