Tranding

12:10 PM - 04 Feb 2026

Home / Article / মহালয়ায় বাঙালি- বাজল তোমার আলোর বেনু - ১ম ভাগ  পরে ২য়                                                   

মহালয়ায় বাঙালি- বাজল তোমার আলোর বেনু - ১ম ভাগ  পরে ২য়                                                   

মহালয়ার দিন পিতৃপুরুষের শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠিত হয় দ্বিপ্রহরে নদী বা হ্রদের তীরে বা শ্রাদ্ধকর্তার গৃহে। অনেক পরিবার ‘বারাণসী’ বা ‘গয়া’য় গিয়ে শ্রাদ্ধানুষ্ঠান করেন। মৃত ব্যক্তির পুত্র (বহুপুত্রক হলে জ্যেষ্ঠ পুত্র) বা পিতৃকুলের কোনো পুরুষ আত্মীয়ই শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের অধিকারী এবং শ্রাদ্ধ কেবলমাত্র পূর্ববর্তী তিন পুরুষেরই হয়ে থাকে। মাতার কুলে পুরুষ সদস্য না থাকলে সর্বপিতৃ অমাবস্যায় দৌহিত্র মাতামহের শ্রাদ্ধ করতে পারেন। কোনো কোনো বর্ণে কেবলমাত্র পূর্ববর্তী এক পুরুষেরই শ্রাদ্ধ করা হয়।

মহালয়ায় বাঙালি- বাজল তোমার আলোর বেনু - ১ম ভাগ  পরে ২য়                                                   

মহালয়ায় বাঙালি- বাজল তোমার আলোর বেনু - ১ম ভাগ  পরে ২য় 
                                                 
২৫শে সেপ্টেম্বর ২০২২

মহালয়া মানে বাঙালির উৎসব শুরুর জন‍্য কোমর বাঁধা।  শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গে নয়, ভারতের যে কোন প্রান্তে, এমনকি বিশ্বের যে কোন প্রান্তে যে সব বাঙালিরা বিভিন্ন সূত্রে বসবাস করেন, তাঁরাও ‘মহালয়া’ শব্দটির সাথে পরিচিত। ‘কৃত্তিবাসী রামায়ণ’ মতে, ‘ত্রেতা যুগে’ ‘শ্রীরামচন্দ্র’, ‘লঙ্কারাজ’ ‘রাবণ’কে বধ করার জন্য, অকালে দেবীকে আরাধনা করেছিলেন। আসল দূর্গা পূজার সময় হল বসন্ত কালে, সেটাকে ‘বাসন্তি পূজা’ বলা হয়। ‘কৃত্তিবাসী রামায়ণ’ মতে, শ্রীরামচন্দ্র অকালে-অসময়ে পূজা করেছিলেন বলে এই শরতের পূজাকে দেবীর ‘অকাল-বোধন’ বলা হয়। উল্লেখ্য যে, ‘মহর্ষি বাল্মীকি’ রচিত পুরাতন রামায়ণে, রামচন্দ্রের দুর্গাপূজার কোন উল্লেখ নেই। তবে প্রাচীনকাল থেকেই, সনাতন ধর্মে ‘মহালয়া’র বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। সনাতন ধর্মে কোন শুভ কাজ করতে গেলে, প্রয়াত পূর্বরা যাঁদের পিতা-মাতা, তাঁদের পিতা-মাতার জন্য, সাথে সমগ্র জীব-জগতের জন্য তর্পণ করতে হয়, কার্যাদি-অঞ্জলি প্রদান করতে হয়। ‘তর্পণ’ মানে খুশি করা। ‘কৃত্তিবাসী রামায়ণ’ অনুসারে শ্রীরাম লঙ্কা বিজয়ের আগে এদিনে এমনই করেছিলেন। সেই অনুসারে এই মহালয়া তিথিতে যাঁরা পিতৃ-মাতৃহীন, তাঁরা তাঁদের পূর্বপুরুষদের স্মরন করে, পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনা করে অঞ্জলি প্রদান করেন। সনাতন ধর্ম অনুসারে, এই দিনে নাকি প্রয়াত আত্মাদের মর্ত্যে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেই সব প্রয়াত আত্মার যে সমাবেশ হয়, সেটাকে ‘মহালয়’ বলা হয়। ‘মহালয়’ থেকে ‘মহালয়া’। ‘পিতৃপক্ষের’ও শেষদিন এটি। ‘পিতৃপক্ষ’ পূর্বপূরুষদের তর্পণাদির জন্য প্রশস্ত এক বিশেষ পক্ষ। এই পক্ষ - ‘পিত্রুপক্ষ’, ‘ষোলা শ্রাদ্ধ’, ‘কানাগাত’, ‘জিতিয়া’, ‘মহালয়া পক্ষ’ ও ‘অপরপক্ষ’ নামেও পরিচিত। হিন্দুদের বিশ্বাস অনুযায়ী, যেহেতু পিতৃপক্ষে ‘প্রেতকর্ম’ (শ্রাদ্ধ), ‘তর্পণ’ ইত্যাদি মৃত্যু-সংক্রান্ত আচার-অনুষ্ঠান পালিত হয়, সেই হেতু এই পক্ষ কোন ধরণের শুভকার্যের জন্য প্রশস্ত নয়। দক্ষিণ ও পশ্চিম ভারতে, ‘গণেশ উৎসবের’ পরবর্তী পূর্ণিমা (ভাদ্রপূর্ণিমা) তিথিতে এই পক্ষ সূচিত হয় এবং সমাপ্ত হয় ‘সর্বপিতৃ অমাবস্যা’, ‘মহালয়া অমাবস্যা’ বা ‘মহালয়া দিবসে’। উত্তর ভারত ও নেপালে, ভাদ্রের পরিবর্তে ‘আশ্বিন মাসের কৃষ্ণপক্ষ’কে ‘পিতৃপক্ষ’ বলা হয়। পুরাণ অনুযায়ী, জীবিত ব্যক্তির পূর্বের তিন পুরুষ পর্যন্ত ‘পিতৃলোকে’ বাস করেন। এই লোক স্বর্গ ও মর্ত্যের মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত। পিতৃলোকের শাসক হলেন ‘মৃত্যুদেবতা’ ‘যম’। তিনিই সদ্যমৃত ব্যক্তির আত্মাকে মর্ত্য থেকে পিতৃলোকে নিয়ে যান। পরবর্তী প্রজন্মের একজনের মৃত্যু হলে পূর্ববর্তী প্রজন্মের একজন পিতৃলোক ছেড়ে স্বর্গে গমন করেন এবং ‘পরমাত্মা’য় (ঈশ্বর) লীন হন এবং এই প্রক্রিয়ায় তিনি শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের ঊর্ধ্বে উঠে যান। এই কারণে, কেবলমাত্র জীবিত ব্যক্তির পূর্ববর্তী তিন প্রজন্মেরই শ্রাদ্ধানুষ্ঠান হয়ে থাকে; এবং এই শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে ‘যম’ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সূর্য ‘কন্যারাশি’তে প্রবেশ করলে ‘পিতৃপক্ষ’ সূচিত হয়। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, এই সময় পূর্বপুরুষগণ ‘পিতৃলোক’ পরিত্যাগ করে তাঁদের উত্তরপুরুষদের গৃহে অবস্থান করেন। এর পর সূর্য ‘বৃশ্চিক রাশি’তে প্রবেশ করলে, তাঁরা পুনরায় ‘পিতৃলোকে’ ফিরে যান। পিতৃগণের অবস্থানের প্রথম পক্ষে হিন্দুদের পিতৃপুরুষগণের উদ্দেশ্যে তর্পণাদি করতে হয়। মহাভারত অনুযায়ী, প্রসিদ্ধ দাতা ‘কর্ণের’ মৃত্যু হলে তাঁর আত্মা স্বর্গে গমন করলে, তাঁকে স্বর্ণ ও রত্ন খাদ্য হিসেবে প্রদান করা হয়েছিল। কর্ণ ইন্দ্রকে এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে ইন্দ্র তাঁকে বলেছিলেন যে, যেহেতু কর্ণ জীবিতাবস্থায় সারা জীবন ধরে শুধু স্বর্ণই দান করেছিলেন এবং তিনি তাঁর পিতৃগণের উদ্দেশ্যে কোনোদিন কোন খাদ্য প্রদান করেননি, তাই স্বর্গে তাঁকে স্বর্ণই খাদ্য হিসেবে প্রদান করা হয়েছে। কর্ণ জানিয়েছিলেন যে, তিনি যেহেতু তাঁর পিতৃগণের সম্পর্কে অবহিত ছিলেন না, তাই তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁর পিতৃগণকে স্বর্ণ প্রদান করেননি। এই কারণে কর্ণকে ষোলো দিনের জন্য পুনরায় মর্ত্যে ফিরে গিয়ে, পিতৃলোকের উদ্দেশ্যে অন্ন ও জল প্রদান করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এই পক্ষই ‘পিতৃপক্ষ’ নামে পরিচিত হয়। এই কাহিনীর কোনো কোনো পাঠান্তরে, ইন্দ্রের বদলে যমকে দেখা যায়। মহালয়া পক্ষের পনেরোটি তিথির নাম হল - ‘প্রতিপদ’, ‘দ্বিতীয়া’, ‘তৃতীয়া’, ‘চতুর্থী’, ‘পঞ্চমী’, ‘ষষ্ঠী’, ‘সপ্তমী’, ‘অষ্টমী’, ‘নবমী’, ‘দশমী’, ‘একাদশী’, ‘দ্বাদশী’, ‘ত্রয়োদশী’, ‘চতুর্দশী’ ও ‘অমাবস্যা’। হিন্দুধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, যে ব্যক্তি তর্পণে ইচ্ছুক হন, তাঁকে তাঁর পিতার মৃত্যুর তিথিতে তর্পণ করতে হয়। পিতৃপক্ষে পুত্র কর্তৃক শ্রাদ্ধানুষ্ঠান হিন্দুধর্মে অবশ্য করণীয় একটি অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠানের ফলেই মৃতের আত্মা স্বর্গে প্রবেশাধিকার পান। এই প্রসঙ্গে ‘গরুড়পুরাণ’ গ্রন্থে বলা হয়েছে - “পুত্র বিনা মুক্তি নাই।” হিন্দুদের বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থে গৃহস্থদের দেব, ভূত ও অতিথিদের সঙ্গে পিতৃতর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ‘মার্কণ্ডেয়পুরাণ’ গ্রন্থে বলা হয়েছে যে, পিতৃগণ শ্রাদ্ধে তুষ্ট হলে স্বাস্থ্য, ধন, জ্ঞান ও দীর্ঘায়ু এবং পরিশেষে উত্তরপুরুষকে স্বর্গ ও মোক্ষ প্রদান করেন। বাৎসরিক শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে যাঁরা অপারগ, তাঁরা ‘সর্বপিতৃ অমাবস্যা’ পালন করে তাঁদের ‘পিতৃদায়’ থেকে মুক্ত হতে পারেন। শাস্ত্র বিশেষজ্ঞদের মতে, শ্রাদ্ধ কোন বংশের প্রধান ধর্মানুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠানে পূর্ববর্তী তিন পুরুষের উদ্দেশ্যে পিণ্ড ও জল প্রদান করা হয়, তাঁদের নাম উচ্চারণ করা হয় এবং তাঁদের গোত্রের পিতাকে স্মরণ করা হয়। এই কারণে একজন ব্যক্তির পক্ষে বংশের ছয় প্রজন্মের নাম স্মরণ রাখা সম্ভব হয় এবং এর ফলে বংশের বন্ধন দৃঢ় হয়। ‘ড্রেক্সেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতাত্ত্বিক’ ‘উষা মেননের’ মতে, পিতৃপক্ষ বংশের বিভিন্ন প্রজন্মের মধ্যে সম্পর্ক কে সুদৃঢ় করে। এই পক্ষে বংশের বর্তমান প্রজন্ম পূর্বপুরুষের নাম স্মরণ করে তাঁদের শ্রদ্ধা নিবেদন করে। পিতৃপুরুষের ঋণ হিন্দুধর্মে পিতৃমাতৃঋণ অথবা গুরুঋণের সমান গুরুত্বপূর্ণ। জীবিত ব্যক্তির পিতা বা পিতামহ যে তিথিতে মারা যান, পিতৃপক্ষের সেই তিথিতে তাঁর শ্রাদ্ধানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। তবে এই নিয়মের কিছু ব্যতিক্রমও রয়েছে। পূর্ববর্তী বছরে মৃত ব্যক্তির শ্রাদ্ধ হয় ‘চতুর্থী’ (চৌথা ভরণী) বা ‘পঞ্চমী’ (ভরণী পঞ্চমী) তিথিতে। সধবা নারীর মৃত্যু হলে, তাঁর শ্রাদ্ধ হয় ‘নবমী’ (অবিধবা নবমী) তিথিতে। বিপত্নীক ব্যক্তি ব্রাহ্মণী নারীদের শ্রাদ্ধে নিমন্ত্রণ করেন। শিশু বা সন্ন্যাসীর শ্রাদ্ধ হয় ‘চতুর্দশী’ (ঘট চতুর্দশী) তিথিতে। অস্ত্রাঘাতে বা অপঘাতে মৃত ব্যক্তিদেরও শ্রাদ্ধ হয় এই তিথিতেই (ঘায়েল চতুর্দশী)। সর্বপিতৃ অমাবস্যা দিবসে তিথির নিয়মের বাইরে সকল পূর্বপুরুষেরই শ্রাদ্ধ করা হয়। যাঁরা নির্দিষ্ট দিনে শ্রাদ্ধ করতে ভুলে যান, তাঁরা এই দিন শ্রাদ্ধ করতে পারেন। এই দিন ‘গয়া’য় শ্রাদ্ধ করলে তা বিশেষ ফলপ্রসূ হয় বলে কথিত। উল্লেখ্য, ‘গয়া’য় সমগ্র পিতৃপক্ষ জুড়ে মেলা চলে। বাংলায় মহালয়ার দিন থেকেই দুর্গাপূজার সূচনা হয়। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিন দেবী দুর্গা মর্ত্যলোকে আবির্ভূতা হন। মহালয়ার দিন অতি প্রত্যুষে ‘চণ্ডীপাঠ’ করার রীতি প্রচলিত রয়েছে। ‘আশ্বিন শুক্লা প্রতিপদ তিথি’তে দৌহিত্র মাতামহের তর্পণ করেন। মহালয়ার দিন পিতৃপুরুষের শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠিত হয় দ্বিপ্রহরে নদী বা হ্রদের তীরে বা শ্রাদ্ধকর্তার গৃহে। অনেক পরিবার ‘বারাণসী’ বা ‘গয়া’য় গিয়ে শ্রাদ্ধানুষ্ঠান করেন। মৃত ব্যক্তির পুত্র (বহুপুত্রক হলে জ্যেষ্ঠ পুত্র) বা পিতৃকুলের কোনো পুরুষ আত্মীয়ই শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের অধিকারী এবং শ্রাদ্ধ কেবলমাত্র পূর্ববর্তী তিন পুরুষেরই হয়ে থাকে। মাতার কুলে পুরুষ সদস্য না থাকলে সর্বপিতৃ অমাবস্যায় দৌহিত্র মাতামহের শ্রাদ্ধ করতে পারেন। কোনো কোনো বর্ণে কেবলমাত্র পূর্ববর্তী এক পুরুষেরই শ্রাদ্ধ করা হয়। পূর্বপুরুষকে যে খাদ্য উৎসর্গ করা হয়, তা সাধারণত রান্না করে রুপো বা তামার পাত্রে কলাপাতার উপরে দেওয়া হয়। এই খাদ্যগুলি হল - ‘ক্ষীর’, ‘লপসি’, ‘ভাত’, ‘ডাল’, ‘গুড়’ ও ‘কুমড়ো’। শ্রাদ্ধকর্তাকে স্নান করে শুদ্ধ হয়ে ধুতি পরে শ্রাদ্ধ করতে হয়। শ্রাদ্ধের পূর্বে তিনি ‘কুশাঙ্গুরীয়’ (কুশ ঘাসের আঙটি) ধারণ করেন। এরপর সেই আঙটিতে পূর্বপুরুষদের আবাহন করা হয়। শ্রাদ্ধ খালি গায়ে করতে হয়, কারণ শ্রাদ্ধ চলাকালীন ‘যজ্ঞোপবীতের’ অবস্থান বারংবার পরিবর্তন করতে হয়। শ্রাদ্ধের সময় সিদ্ধ অন্ন ও ময়দা ঘি ও তিল দিয়ে মাখিয়ে ‘পিণ্ডের’ আকারে উৎসর্গ করা হয়। একে ‘পিণ্ডদান’ বলে। এরপর ‘দুর্বাঘাস’, ‘শালগ্রাম শিলা’ বা ‘স্বর্ণমূর্তি’তে বিষ্ণু এবং যমের পূজা করা হয়। এরপর পিতৃপুরুষের উদ্দেশ্যে খাদ্য প্রদান করা হয়। এই খাদ্য সাধারণত ছাদে রেখে আসা হয়। কোনো কোনো পরিবারে পিতৃপক্ষে ‘ভাগবত পুরাণ’, ‘গীতা’ বা ‘শ্রীশ্রীচণ্ডী’ পাঠ করা হয়। অনেকে পূর্বপুরুষের মঙ্গল কামনায় ব্রাহ্মণদের দান করেন।
                                                


 শাস্ত্রের গুরুগম্ভীর বিষয় এসব । তবে সারা বিশ্বের আপামর বাঙালি, ‘মহালয়া’ বলতে যেটাকে বোঝেন সেটা একটি বিশেষ অনুষ্ঠানকে। সেটা কোন শাস্ত্রীয় কর্ম নয়, রেডিওর একটি অনুষ্ঠানকে। বাঙালির রক্তের মধ্যে যদি কোনও সুর মিশে গিয়ে থাকে, সে সুর মহালয়ার। অন্য সময় রেডিওর সঙ্গে কোনওরকম সম্পর্ক না থাকলেও বছরের একটি বিশেষ দিনে ভোরবেলা আজও বাঙালি বাড়ি থেকে ভেসে আসে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’র চেনা সুর। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র-বাণীকুমারের যে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ বাঙালির ঘরে ঘরে মহালয়ার সঙ্গে সমার্থক হয়ে গিয়েছিল তার সঙ্গে স্রষ্টা হিসেবে প্রধানত তিন জনের নাম জড়িয়ে আছে। ‘বাণীকুমার’, ‘পঙ্কজকুমার মল্লিক’ আর ‘বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র’। মহালয়া উপলক্ষে ‘বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র’কে আমরা মনে রাখলেও প্রায় ভুলেই গিয়েছি অপর দুই নক্ষত্র, ‘বাণীকুমার’ ও ‘শ্রী পঙ্কজকুমার মল্লিক’কে। সত্তরের দশকের মাঝামাঝি সময় থেকেই টেলিভিশন বিভিন্ন বাড়িতে স্থান পেতে শুরু করে; এখন এ যন্ত্রটি নেই এরকম বাড়ি  খুঁজে পাওয়া শক্ত। যদিও তার আগে এক সময়ে রেডিওই ছিল খবর ও অন্যান্য অনুষ্ঠান সম্প্রচারের একমাত্র মাধ্যম, এখন সে দায়িত্ব পালন করছে টেলিভিশন। কোন অনুষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দৃশ্যের উপস্থিতি দর্শকমনকে আকৃষ্ট করে অনেক বেশি; সেজন্যই রেডিওর জৌলুষ এখন অনেকটাই স্তিমিত। হয়ত এর একমাত্র ব্যতিক্রম মহালয়ার ভোরে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’। টেলিভিশনের চেয়ে আকাশবাণীর এই অনুষ্ঠানটি এখনও লোকের কাছে অনেক বেশি প্রিয়। 
                ------- পরের অংশ - ২য় ভাগে

Your Opinion

We hate spam as much as you do