বিশেষজ্ঞের মতে, দেশজুড়েই প্রতিষ্ঠান বিরোধীতা চলেছে। কিন্তু ছোট ছোট ইস্যুগুলি তৃণমূলের কালো অন্ধকার ঝাঁঝে হারিয়ে গিয়েছে। এছাড়াও মেরুকরণ যত হয়েছে ততই ভোট কেটেছে। যতবার প্রধানমন্ত্রী এসে এ রাজ্যে ধর্মীয় মেরুকরণ করেছে, সংখ্যালঘু ভোট তত বেশি করে তৃণমূলে গিয়েছে। বাম ও কংগ্রেসরা যেহেতু ধর্মের এই মেরুকরণের বিরোধিতা করে গিয়েছে, তাই হিন্দু ও মুসলিম কোনও ভোটই পায়নি।
পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের ২৯ আসনে জয় কি মেরুকরণ আর ভাতা? নাকি মোদি বিরোধিতার মুখ
05 Jun 2024
2024 লোকসভা ভোটেও ২৯ আসনে জিতে বাংলায় তৃণমূলের বড় জয় । সবুজ ঝড়ে ধরাশায়ী হল গেরুয়া শিবির। ১৮ থেকে ১২
যেমন, বহরমপুরে রাজনীতিতে নবাগত ইউসুফ পাঠানের কাছে হারলেন পাঁচ বারের সাংসদ অধীর চৌধুরী। মুর্শিদাবাদে হারলেন মহম্মদ সেলিম। দাগ কাটতে পারলেন না সৃজন ভট্টাচার্য, দীপ্সিতা ধর, সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রতিকূর রহমানরা। শুধু মালদা দক্ষিণ লোকসভা কেন্দ্র রক্ষা করলেন কংগ্রেসের ঈশা খান চৌধুরী।
প্রচারে সাড়া জাগিয়েও কোনও দাগ কাটতে পারল না সিপিএমের তরুণ ব্রিগেড। বামেরা এবার তরুণ ঝকঝকে মুখেদের প্রার্থী করেছে। তাঁরা কেরিয়ারগতভাবেও সফল, প্রচারে কোনও ফাঁকি দেননি। প্রতিদিন জনসংযোগ করে গিয়েছেন। এমনকী এবারে বাম-কংগ্রেস জোটও অনেক শক্ত ছিল। তাও কেন বামেরা কোনো আসনে জিতল না । কোথাও কি সার্বিক প্রত্যাখ্যান?
বিশেষজ্ঞের মতে, দেশজুড়েই প্রতিষ্ঠান বিরোধীতা চলেছে। কিন্তু ছোট ছোট ইস্যুগুলি তৃণমূলের কালো অন্ধকার ঝাঁঝে হারিয়ে গিয়েছে। এছাড়াও মেরুকরণ যত হয়েছে ততই ভোট কেটেছে। যতবার প্রধানমন্ত্রী এসে এ রাজ্যে ধর্মীয় মেরুকরণ করেছে, সংখ্যালঘু ভোট তত বেশি করে তৃণমূলে গিয়েছে। বাম ও কংগ্রেসরা যেহেতু ধর্মের এই মেরুকরণের বিরোধিতা করে গিয়েছে, তাই হিন্দু ও মুসলিম কোনও ভোটই পায়নি।
দিন যত গেছে প্রধানত প্রথম তিন দফার পরে রাজ্য জুড়ে মেরুকরণের নানান প্রচেষ্টা চলেছে প্রধানমন্ত্রী বারবারই রাজ্যে এসেছেন এসেই হিন্দু মুসলমান এবং নাগরিকত্ব প্রশ্নের বহু বিতর্কিত কথা উল্লেখ করেছেন যার ফলে একটা সম্প্রদায় বা একশ্রেণীর মানুষের মনে আতঙ্ক তৈরি হচ্ছিল এরই মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী পঞ্চম দফার পরে যত দক্ষিণবঙ্গের দিকে ভোট এগোচ্ছিল ততই সাধুদের বিরুদ্ধে বলা থেকে শুরু করে রামকৃষ্ণ মিশন ভারত সেবাশ্রম সংঘ নিয়ে অনাবশ্যক কটুক্তি করে মেরুকরণকে তীব্র করছিলেন বলেই ওয়াকিবহনের ধারণা মেরুকরণ যত তীব্র হবে মানুষ ততই রুটি রুজির কথা ভুলে যাবে। এটাই বিজ্ঞান
এই একই দাবি করেছেন বহরমপুরের পরাজিত কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরী। তিনি বলেছেন, 'বাংলার রাজনীতি ক্রমশ ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। উদার ও ধর্মনিরপেক্ষ শক্তি যারা আছে, তাদের জন্য নির্বাচন কঠিন হচ্ছে। আমি ইউসুফ পাঠানের কাছে পরাজিত হয়েছি।আমি স্যান্ডউইচ হয়েছি। এক দিকে, হিন্দু ভোটের বিভাজন, অন্য দিকে মুসলিম ভোটের বিভাজন। আমি হিন্দু হতে পারিনি। মুসলিমও হতে পারিনি।’
যদিও বিজেপি-তৃণমূল দাবি করেছে বাম-কংগ্রেস ভোটে ভাগ বসিয়েছে। তাই আসন সংখ্যায় বদল এসেছে, এমনটাই দাবি। যদিও বামেদের দাবি , বড় বিপদ বিজেপির থেকে রক্ষা পেতেই রাজ্যের বিপদ তৃণমূলে গিয়েছে ভোট। আবার তৃণমূলের দুর্নীতি থেকে বাঁচতে অনেকেই বিজেপিকে শক্তিশালী মনে করে ভোট দিয়ে থাকতে পারে।
আসলে দুটো শক্তি, ওটা কেন্দ্রীয় সরকার এবং একটা রাজ্য সরকার এই দুজনের বিরুদ্ধে লড়াইটা বেশ খানিকটা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। একদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের চূড়ান্ত দুর্নীতি চাকরি দুর্নীতি থেকে কয়লা দুর্নীতি এবং তার থেকে উঁচু দরের নেতাদের জেলে যাওয়া ইডি সিবিআই এর সক্রিয়তা এই সবকিছুই দেখে বিরক্ত হয়ে যারা ভোট দিয়েছেন সেই নিম্ন মধ্যবিত্ত মোটামুটি শিক্ষিত মানুষ বা মধ্যবিত্ত মানুষ তাদের ভোট অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী কেন্দ্রীয় সরকার পরিচালনকারী দলের দিকেই গেছে। অন্যদিকে এই রাজ্যে ক্রমশ মানুষের রোজগারহীনতা এবং দারিদ্র্য বাড়ছে কর্মহীনতা একটা গুরুতর জায়গায় গিয়ে পৌঁছেছে। প্রকৃতপক্ষে কারোর চাকরি নেই। চাকরির কোন জায়গায় নেই। এর ফলে নিম্নবিত্ত মানুষের অসহায়তা এবং সেই অসহায়তার পাশে দাঁড়াবার ক্ষেত্রে অনুদান যা লক্ষীর ভান্ডার নামে পরিচিত তা রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসকে ভোট পেতে সাহায্য করেছে অন্যদিকে এনআরসিসিএ নামক বিভ্রান্তি বিজেপির পক্ষ থেকে যা করা হয়েছিল তাও ভোট মেরুকরণ করতে সাহায্য করেছে
বঙ্গ রাজনীতির বিশেষজ্ঞদের মতে, 'পাওয়ার'(ক্ষমতা)-এ নেই এবং কিছু পাওয়ার আশা নেই, সে কারণেই হয়তো বামেরা কোনো আসন পায়নি বা কম ভোট পেয়েছে।।
We hate spam as much as you do