Tranding

08:30 AM - 04 Feb 2026

Home / Politics / RSS পত্রিকায় অভিষেকের গ্রেপ্তার দাবীর বিরোধিতা, কি বলবে পদ্মে শিবির ?

RSS পত্রিকায় অভিষেকের গ্রেপ্তার দাবীর বিরোধিতা, কি বলবে পদ্মে শিবির ?

গত ২৫শে সেপ্টেম্বর আরএসএসের প্রকাশিত বাংলা পত্রিকা স্বস্তিকা "অবোধের গোবধে আনন্দ" বলে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছে যাতে রাজ্যজুড়ে দুর্নীতির দায়ে মূল অভিযুক্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কে কেন সিবিআইইডি গ্রেফতার করছে না শুধু জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দিচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং অবিলম্বে মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের দাবিতে রাস্তায় নেমেছে। এরই মধ্যে rss বা রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের পশ্চিমবঙ্গ শাখা যারা বিজেপির মূল সংগঠন এবং যে আরএসএস-এর রাজনৈতিক সংগঠনের নাম বিজেপি সেই আরএসএস তাদের বাংলা পত্রিকায় আজ এই নিবন্ধ ছেপেছে যা পদ্ম শিবির কে খুবই অস্বস্তিতে ফেলেছে।

RSS পত্রিকায় অভিষেকের গ্রেপ্তার দাবীর বিরোধিতা, কি বলবে পদ্মে শিবির ?

RSS পত্রিকায় অভিষেকের গ্রেপ্তার দাবীর বিরোধিতা, কি বলবে পদ্মে শিবির ?

০৪ অক্টোবর ২০২৩ 

বহুদিন থেকে বামপন্থীরা বলে আসছে মমতা ব্যানার্জি একসময় ছিলেন আরএসএস এর দুর্গা এবং তৃণমূল কংগ্রেস আসলে পশ্চিমবাংলায় আরএসএস এর বি টিম কিন্তু এই কথার মান্যতা বেশিরভাগ গণমাধ্যম দেয়নি। গত ২৫শে সেপ্টেম্বর আরএসএসের প্রকাশিত বাংলা পত্রিকা স্বস্তিকা "অবোধের গোবধে আনন্দ" বলে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছে যাতে রাজ্যজুড়ে দুর্নীতির দায়ে মূল অভিযুক্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কে কেন সিবিআইইডি গ্রেফতার করছে না শুধু জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দিচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং অবিলম্বে মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের দাবিতে রাস্তায় নেমেছে। এরই মধ্যে rss বা রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের পশ্চিমবঙ্গ শাখা যারা বিজেপির মূল সংগঠন এবং যে আরএসএস-এর রাজনৈতিক সংগঠনের নাম বিজেপি সেই আরএসএস তাদের বাংলা পত্রিকায় আজ এই নিবন্ধ ছেপেছে যা পদ্ম শিবির কে খুবই অস্বস্তিতে ফেলেছে।

 

রাজ্যে নানা দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত নিয়ে বিজেপি এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) নীতি কি আলাদা? এমনই প্রশ্ন তৈরি করে দিয়েছে সেপ্টেম্বরের শেষে প্রকাশিত সঙ্ঘের পত্রিকা ‘স্বস্তিকা’-র একটি নিবন্ধ।  সঙ্ঘের মুখপত্রে উল্টো দাবি করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘‘এটা ঠিক অনেকের কাছে মূল সমস্যা, অভিষেক কেন জেলের বাইরে? এটা অবান্তর চিন্তা। তদন্তকারীদের মতে গ্রেফতার তদন্তের একটি অংশ। পুরো তদন্ত নয়। মনে হয় এই একমুখী ভাবনা এখানকার বিরোধীদের সত্য থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখছে।’’


এই লেখা প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই বিতর্কের মুখে গেরুয়া শিবির। যে সংগঠনের আদর্শ নিয়ে দল চলে সেই আরএসএসের বক্তব্য জানার পরে নিচুতলার কর্মীরা কী বুঝবেন, তা নিয়ে চিন্তিত অনেক বিজেপি নেতা।

ঘটনাচক্রে, এই বিতর্ক এমন একটা সময়ে তৈরি হয়েছে যখন স্বস্তিকার ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে কলকাতায় এসেছেন আরএসএসের সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বেলুড়ে ‘স্বস্তিকা’-র একটি অনুষ্ঠানে হাজির থাকার কথা ভাগবতের। যদিও ‘স্বস্তিকা’ কর্তৃপক্ষ এবং ওই লেখক এই নিবন্ধ নিয়ে খুব ‘চিন্তিত’ নন


সঙ্ঘের পত্রিকায় এমন একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হওয়ায় তা নিয়ে প্রকাশ্যে বিজেপি নেতারাও কিছু বলতে চাইছেন না। তবে দলের ভিতরে এ নিয়ে বিস্তর আলোচনা চলছে। লেখাটি নেতা থেকে কর্মীদের মোবাইলে মোবাইলে হোয়াট্‌সঅ্যাপে ঘুরছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নাম না করা হলেও লেখার একটি অংশে সরাসরি তাঁরই সমালোচনা করা হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। লেখা হয়েছে, ‘‘রাজ্য জুড়ে সারা দিন কীর্তনের মতো বেজে চলেছে— পিসি-ভাইপো চোর।’’ প্রসঙ্গত, শুভেন্দুর মুখে সব সময়েই এই স্লোগান শোনা যায়। একই কথা বলেন দলের রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারও। তবে কি আসলে মুল দৃষ্টিভঙ্গিগত দিক থেকে আরএসএস বা বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব চায় না অভিষেক বা মুল দোষীর গ্রেপ্তার চাইছেন না?

সুকান্ত এমন কথা বললেও বিজেপির অন্দরে প্রশ্ন মিলিয়ে যাচ্ছে না। কারণ, নিবন্ধের শিরোনামেও রয়েছে বিজেপির প্রতি কটাক্ষ। ‘অভিষেক আটক ইন্দ্রিয়সুখ না রাজনৈতিক প্রয়োজন? অবোধের গোবধে আনন্দ’ শীর্ষক নিবন্ধে এমনও লেখা হয়েছে যে, ‘‘অনেকের কাছে অভিষেকবাবুর যেন-তেন প্রকার আটক ইন্দ্রিয়সুখের শামিল। কেন তিনি আটক হবেন, নির্দিষ্ট ভাবে তাঁরা জানেন না। বিষয়টি তদন্তকারী সংস্থাগুলির আওতাধীন। এটা কেবল তাঁদের ইচ্ছা।’’ এখানেই শেষ নয়, ওই নিবন্ধে এমনও দাবি করা হয়েছে যে, অভিষেকের বিরুদ্ধে কিছু ‘অসংলগ্ন উল্লেখ’ ছাড়া খাতায়কলমে কোনও অভিযোগ নেই।


এই প্রসঙ্গেই বিরোধী দলনেতা ‘হতাশায়’ রয়েছেন বলেও প্রকারান্তরে বলা হয়েছে ওই নিবন্ধে। লেখা হয়েছে, ‘‘ইডি, সিবিআই নিয়ে বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারীর হতাশাকে তাই মান্যতা দিতেই হবে। তার মানে এই নয় যে, তদন্তকারীরা তদন্ত বন্ধ করে দিয়েছেন বা উঁচুতলার রাজনৈতিক চাপে ভেঙে পড়েছেন। এ সব আজগুবি তত্ত্ব? অন্য নাম ‘সেটিং’। সন্দেহ নেই অভিষেকবাবুর গ্রেফতার বা আটক এই মুহূর্তে রাজ্যের সবচাইতে আলোচিত বিষয়।’’ এর পরে এ-ও লেখা হয়েছে যে, ‘‘আমার মনে হয় আটক বা গ্রেফতারির উপর বেশি গুরুত্ব না দেওয়াটাই রাজনৈতিক ভাবে অনেক বেশি সমীচীন।’’

‘স্বস্তিকা’র ২৫ সেপ্টেম্বরের সংখ্যায় প্রথম নিবন্ধই এটি। সম্পাদকীয়ের পরের পাতাতেই রয়েছে ‘অবোধের গোবধে আনন্দ’।

Your Opinion

We hate spam as much as you do