রাজ্যে কংগ্রেস ছিল দলহীন, নেতাহীন, উদ্দেশ্যহীন। লড়াইয়ের মানসিকতাটুকু পর্যন্ত তাদের ছিল না। এ সার্বিক হতাশা আরও বৃদ্ধি পায় সোনিয়া, রাহুল ও প্রিয়াঙ্কার অনাগ্রহে। সেই শূন্যতা পূরণে প্রবল উৎসাহে এগিয়ে আসে আপ। দেখা যাচ্ছে, কংগ্রেসের ভোটে সবচেয়ে বড় ঘা মেরেছে আপ। মুসলমান ভোটে ভাগ বসিয়েছে আসাউদ্দিন ওয়েইসির দল এআইএমআইএমও।
গুজরাট! আপ, ওয়েইসির বিরোধী ভোট ভাগের ফল বিজেপির রেকর্ড জয়
December 08, 2022
টানা সপ্তমবার গুজরাটে ক্ষমতায় আসাই শুধু নয়, আসন দখলের ক্ষেত্রেও রেকর্ড সৃষ্টি করল বিজেপি। বিধানসভার মোট ১৮২ আসনের মধ্যে কংগ্রেসকে ১৭–তে নামিয়ে তারা একাই পেল ১৫৬টি। রাজ্যের ভোট–ইতিহাসে এত আসন আজ পর্যন্ত কোনো দল পায়নি। কিন্তু এ মধুর জয়ে কাঁটা হয়ে বিঁধে রইল হিমাচল প্রদেশ। পার্বত্য এ রাজ্যে বিজেপিকে হারিয়ে ক্ষমতা দখল করে নিল কংগ্রেস।
রাজ্য গঠনের পর এত খারাপ ফল কংগ্রেস কখনো করেনি। এবারের ভোটে কংগ্রেস পেল মাত্র ১৭টি আসন। বিজেপি যেখানে প্রায় ৫৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে, কংগ্রেসের প্রাপ্ত ভোটের হার সেখানে কমে হয়েছে সাড়ে ২৬ শতাংশ। নির্বাচন কমিশনের রিপোর্ট দেখাচ্ছে, আম আদমি পার্টি (আপ) পাঁচটি মাত্র আসন জিতলেও তাদের প্রাপ্ত ভোটের হার ১৩ শতাংশের মতো। গুজরাটে আসন জেতার মধ্য দিয়ে আপ জাতীয় দলের মর্যাদাও পেয়ে গেল।
গুজরাটের ভোট বিশ্লেষণ দেখাচ্ছে দলিত, আদিবাসী ও গ্রামাঞ্চলে কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটিগুলোতে এবার বড়ভাবে ঘা মেরেছে বিজেপি। রাজ্যের শাসক দল তা করেছে পরিকল্পনামাফিক। এসব এলাকা থেকে ২০১৭ সালের ভোটে জয়ী কংগ্রেসের মোট ২০ বিধায়ককে বিজেপি দলত্যাগ ঘটিয়ে তার প্রভাব বাড়িয়েছে। গুজরাটে কংগ্রেসের সবচেয়ে বড় ভরসা ছিলেন আহমেদ প্যাটেল। তাঁর মৃত্যু যে শূন্যতা সৃষ্টি করে, কেউ তা পূরণ করতে পারেননি। যে তিন তরুণ নেতা ২০১৭–তে কংগ্রেসের ৭৮ আসন জয়ে প্রধান ভূমিকা নিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে দুজন হার্দিক প্যাটেল ও অল্পেশ ঠাকোরকে বিজেপি দলে টেনে নেয়। এ ভাঙনের মোকাবিলা কংগ্রেস করতে পারেনি। বস্তুত, এ রাজ্যে কংগ্রেস ছিল দলহীন, নেতাহীন, উদ্দেশ্যহীন। লড়াইয়ের মানসিকতাটুকু পর্যন্ত তাদের ছিল না। এ সার্বিক হতাশা আরও বৃদ্ধি পায় সোনিয়া, রাহুল ও প্রিয়াঙ্কার অনাগ্রহে। সেই শূন্যতা পূরণে প্রবল উৎসাহে এগিয়ে আসে আপ। দেখা যাচ্ছে, কংগ্রেসের ভোটে সবচেয়ে বড় ঘা মেরেছে আপ। মুসলমান ভোটে ভাগ বসিয়েছে আসাউদ্দিন ওয়েইসির দল এআইএমআইএমও।
২০০২ সাল থেকে রাজ্য বিধানসভার কোনো নির্বাচনে তারা হারেনি। ১৯৯৫ সালে কংগ্রেসের মাধব সিন সোলাঙ্কির ১৪৯ আসন জয়কেও এবার তারা ছাপিয়ে গেল। পাঁচ বছর পরের ভোটের সময় বিজেপির রাজ্য শাসনের মেয়াদ হবে ৩২ বছর। পশ্চিমবঙ্গের বাম ফ্রন্টের চেয়ে দুই বছর কম। পরের ভোট জিতলে সেটা হবে সর্বকালীন রেকর্ড।
We hate spam as much as you do