উনিশ শতকের শেষদিকে তৈরী বিশুদ্ধতাবাদী খ্রিস্টীয় সংগঠন জিহোবা'স উইটনেসেস কলুষিত পৃথিবীর ধ্বংস এবং পরিবর্তে পৃথিবীতে ঈশ্বরের স্বর্গরাজ্য স্থাপনে বিশ্বাসী। কেরলে এরা বিশেষ শক্তিশালী। ডমিনিক ছিলেন এদেরই প্রাক্তন সদস্য।ডমিনিক জানিয়েছেন প্রাক্তন সদস্য হিসেবে তিনি জিহোবা'স উইটনেসেসের প্রতি আস্থা হারিয়েছিলেন। সংগঠনের সঙ্গে তার বিরোধ হওয়াতেই তিনি সংগঠনের প্রার্থনায় সভায় বোম রেখে আসেন। বিস্ফোরণে সংগঠনের সকলকে হত্যা করাই ছিল তার উদ্দেশ্য।
কেরল বিস্ফোরণের দায়স্বীকার, থানায় আত্মসমর্পণ ডমিনিক মার্টিনের
Oct 29, 2023
কেরলের কালামাসেরির প্রার্থনা সভায় বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করল এক ব্যক্তি। ত্রিশুর জেলার কোদাকোরা থানায় সে আত্মসমর্পণ করেছে বলে জানায় কেরল পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, ওই ব্যক্তির নাম ডমিনিক মার্টিন। আত্মসমর্পণের পর পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নিয়েছে। ওই ব্যক্তির মানসিক সুস্থতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে মেঙ্গালুরু থেকে আরিককোড যাচ্ছিল ওই ব্যক্তি। তার সঙ্গে একটি ব্যাগও ছিল। ব্যাগে সন্দেহজনক দ্রব্যও উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ওই ব্যক্তি জানিয়েছেন, যে খ্রীষ্ট ধর্মীয় যে গোষ্ঠীর প্রার্থনা চলছিল, তিনি তারই সদস্য।
ডমিনিক মার্টিন এখন কোচিরই বাসিন্দা। ভাড়া থাকে।ডমিনিক মার্টিন বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছেন। ভিডিও বার্তায় ডমিনিক জানাচ্ছেন তিনি জিহোবা'স উইটনেসেস নামক একটি খ্রিস্টীয় ধর্মীয় গোষ্ঠীর প্রাক্তন সদস্য।
তাদের তদন্তের সময়, আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ ডমিনিকের ফোনে অপরাধমূলক চাক্ষুষ প্রমাণ আবিষ্কার করেছে, যা ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) ট্রিগার করতে ব্যবহৃত রিমোট কন্ট্রোল প্রকাশ করেছে। আশ্চর্যজনকভাবে, ডমিনিক মার্টিন, যিনি নিজেকে জিহোবা'স উইটনেসেস একজন সদস্য বলে দাবি করেন, তিনি একটি ফেসবুক লাইভ ভিডিওর মাধ্যমে প্রকাশ্যে অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন যা তিনি কোডাকারা থানায় প্রবেশ করার ঠিক আগে শেয়ার করেছিলেন। এই ভিডিওতে, তিনি ব্যাখ্যা করেছেন যে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের কাছে তাদের অভ্যাসগুলি পরিবর্তন করার জন্য বারবার আবেদন করা সত্ত্বেও যে তিনি বিশ্বাস করেন যে ঘৃণা প্রচার করে, তারা অবিচলভাবে তা করতে অস্বীকার করেছিল। ফলস্বরূপ, তিনি সম্মেলনে একটি বোমা ফাটানোর সিদ্ধান্ত নেন।
ডোমিনিক মার্টিনকে 1967 সালের বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনের (UAPA) অভিযুক্ত করা হয়েছে, অন্যান্য গুরুতর অভিযোগ সহ, এই ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে৷
বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই একজন মহিলার মৃত্যু হয়েছিল, এর্নাকুলাম জেলার মালায়াতুর থেকে লিবিনা নামে চিহ্নিত ১২ বছর বয়সী মেয়েটি আজ ভোরে কালামাসেরি সরকারী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার আঘাতে মারা যায়। মেয়েটির শরীরের ৯৫ শতাংশ পুড়ে যাওয়া অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
কালামাসেরির আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে একাধিক বিস্ফোরণের সময় ৫০ জনেরও বেশি ব্যক্তি আহত হয়েছিল, কিছু গুরুতরভাবে, যেখানে সংখ্যালঘু খ্রিস্টান গোষ্ঠী, যিহোবার উইটনেসেস অনুগামীরা তিন দিনব্যাপী প্রার্থনা সভার শেষ দিনের জন্য জড়ো হয়েছিল।
উনিশ শতকের শেষদিকে তৈরী বিশুদ্ধতাবাদী খ্রিস্টীয় সংগঠন জিহোবা'স উইটনেসেস কলুষিত পৃথিবীর ধ্বংস এবং পরিবর্তে পৃথিবীতে ঈশ্বরের স্বর্গরাজ্য স্থাপনে বিশ্বাসী। কেরলে এরা বিশেষ শক্তিশালী। ডমিনিক ছিলেন এদেরই প্রাক্তন সদস্য।ডমিনিক জানিয়েছেন প্রাক্তন সদস্য হিসেবে তিনি জিহোবা'স উইটনেসেসের প্রতি আস্থা হারিয়েছিলেন। সংগঠনের সঙ্গে তার বিরোধ হওয়াতেই তিনি সংগঠনের প্রার্থনায় সভায় বোম রেখে আসেন। বিস্ফোরণে সংগঠনের সকলকে হত্যা করাই ছিল তার উদ্দেশ্য।
পাশাপাশি ডমিনিক দাবী করে বলেছেন জিহোবা'স উইটনেসেসেস যথেষ্ট জাতীয়তাবাদী নয়। তারা প্রার্থনায় জাতীয় সঙ্গীত গায় না। জিহোবা'স উইটনেসেসকে শবক শেখানোর এটাও একটা কারণ বলে দাবী করেছেন ডমিনিক।
কেরালা পুলিশ জানিয়েছে, এই বিস্ফোরণটি কোনও আইইডি বিস্ফোরণ। NIA-এর পাশাপাশি রাজ্যের পুলিশও সিট গঠন করে তদন্ত করবে। আন্তর্জাতিক জঙ্গি গোষ্ঠীর কোনও যোগ আছে কিনা, খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
(সমস্ত তথ্য সংগৃহিত। সত্যতা যাচাই করা হয়নি)
We hate spam as much as you do