সিপিআইএম-এর মধ্যে বিশেষ আলোচনা যা তা হল শুধুমাত্র নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি নয় ধারাবাহিক তীব্র আন্দোলনে যেতে হবে । বর্তমানে আনিস খান হত্যার প্রতিবাদ ও সঠিক তদন্ত তদন্তের দাবিতে এবং ডেউচা পাচামিতে কয়লাখনির জন্য উচ্ছেদ এর বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আন্দোলন নতুন পথের সন্ধান দিতে পারে বলে সিপিআইএম মনে করছে।
সিপিআইএমের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের ২৬ তম সম্মেলন শুরু হল কলকাতায়
শুরু হল সিপিআইএমের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের ২৬ তম সম্মেলন।
এবারের সম্মেলনে আয়োজন কলকাতা প্রমোদ দাশগুপ্ত ভবনের অডিটরিয়ামে। প্রায় সাড়ে ৩০০ প্রতিনিধি এবং শতাধিক দর্শক প্রতিনিধি এই সম্মেলনে আগামী তিন বছর পশ্চিমবঙ্গের কমিউনিস্ট পার্টি এবং বামপন্থী আন্দোলন কোন অভিমুখে আন্দোলন সংগ্রামকে নিয়ে যাবেন তা স্থির করবেন।
ইতিমধ্যে সকাল দশটায় রক্ত পতাকা উত্তোলন করেছেন বিমান বসু। সম্মেলনে উপস্থিত আছেন সিপিএমের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি সহ সর্বভারতীয় নেতৃত্ব।
মূলত আন্দোলন-সংগ্রামের কর্মসূচিকে ভিতরে আরও তীব্র করা যায় তারই পরিকল্পনা গ্রহণ করা এই সম্মেলনের উদ্দেশ্য । নিশ্চিতভাবে পার্টির কথা বামফ্রন্টের জনসমর্থন যথেষ্টই গত ১০ বছরে কমেছে। নিশ্চিতভাবেই রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত সরকারের প্রশ্রয় পেয়ে আরএসএস তাদের সংগঠন এবং শাখা বৃদ্ধি করতে পেরেছে যার ফলে রাজ্যে বিজেপি একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে।
নিশ্চিতভাবে তৃণমূল কংগ্রেস যদি মনে করত রাজ্যে এই হিন্দুত্ববাদী শক্তির উত্থানকে প্রতিহত করবে তাহলে সরকারের শক্তি দিয়ে তা তারা অনেকটাই রুখতে পারতো। কিন্তু তা হয়নি বরং রাজ্যে বামপন্থীদের ওপরই বেশি আক্রমণ নেমে এসেছে।
এমতাবস্তায় সিপিআইএমের সম্মেলন নানা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে মুখর হবে বলে ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা। ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের জনবিরোধী নীতি মানুষের জীবনকে অসুবিধার মধ্যে ফেলেছে একদিকে উদার অর্থনীতির আবহে বেড়েছে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি। অন্যদিকে গোটা পৃথিবী জুড়ে শক্তিশালী হচ্ছে পরিচিতি সত্তার রাজনীতি। এরমধ্যে সাধারণ মানুষের দাবি নিয়ে গণসংগ্রাম পরিচালনা যা ক্রমশ শ্রেণী-সংগ্রামের রূপ নেয় তা সংগঠিত করতে হবে। সিপিআইএম-এর মধ্যে বিশেষ আলোচনা যা তা হল শুধুমাত্র নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি নয় ধারাবাহিক তীব্র আন্দোলনে যেতে হবে । বর্তমানে আনিস খান হত্যার প্রতিবাদ ও সঠিক তদন্ত তদন্তের দাবিতে এবং ডেউচা পাচামিতে কয়লাখনির জন্য উচ্ছেদ এর বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আন্দোলন নতুন পথের সন্ধান দিতে পারে বলে সিপিআইএম মনে করছে। এই সময়ে অনুষ্ঠিত পাঁচটি রাজ্যের নির্বাচনের ফলাফল অনেকটাই বিজেপির পক্ষে গেছে সেই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যেটা, তা হল দেখা যাচ্ছে উত্তরপ্রদেশের মত রাজ্যে বহু কেন্দ্রে যুক্ত প্রার্থী থাকলে বিজেপি র পরাজয় ঘটতো।
সেক্ষেত্রে নিশ্চিতভাবেই সিপিআইএমের এপ্রিল মাসে যে পার্টি কংগ্রেস হবে তাতে আগামী লোকসভা নির্বাচনের কোন রণকৌশল গৃহীত হবে তা আলোচনা হবে আগামী তিনদিন এই সম্মেলন চলবে।
We hate spam as much as you do