"স্নান সারা হল। সাথে ছিল একগাদা রাখি । হাতের কাছে ছেলে মেয়ে যারা ছিল কেউ বাদ পরল না, সবাইকে পরানো হল। পাথুরেঘাটা দিয়ে আসছি, দেখি বীরু মল্লিকের আস্তাবলে কতোগুলো সহিস ঘোড়া মলছে। হঠাৎ রবিকাকা ধা করে বেকে গিয়ে ওদের হাতে রাখি পরিয়ে জড়িয়ে ধরলেন। ওরা সকলেই মুসলমান। ওরা তো হতবাক’।"
বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে আজ ১৬ই অক্টোবর রবীঠাকুরের রাখি বন্ধন উৎসব।
লিখেছেন অশোক ভট্টাচার্য
পথই পুঁথিকে পথ দ্যাখায় যুগে যুগে। তাই গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থানকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রবীন্দ্রনাথের ডাকে সাড়া দিয়ে জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির কথক ঠাকুর, ক্ষেত্রমোহন মহাশয় পাঁজিতে এই দিনটিকে দাগিয়েও দিলেন রাখিবন্ধন বলে।
১৩১২ বঙ্গাব্দের ৩০ শে আশ্বিন; ইংরাজি ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর তৈরি হলো এক নতুন ইতিহাস।
বঙ্গভঙ্গের বিষ সেদিন হজম করতে চায়নি এই বাংলা। অবনঠাকুরের কথায়....
"স্নান সারা হল। সাথে ছিল একগাদা রাখি । হাতের কাছে ছেলে মেয়ে যারা ছিল কেউ বাদ পরল না, সবাইকে পরানো হল। পাথুরেঘাটা দিয়ে আসছি, দেখি বীরু মল্লিকের আস্তাবলে কতোগুলো সহিস ঘোড়া মলছে। হঠাৎ রবিকাকা ধা করে বেকে গিয়ে ওদের হাতে রাখি পরিয়ে জড়িয়ে ধরলেন। ওরা সকলেই মুসলমান। ওরা তো হতবাক’।"
এই কাণ্ডের ঘোর কাটতে না কাটতেই সঙ্গের সবাইকে রবীন্দ্রনাথ বললেন, চিৎপুরের বড় মসজিদ যাবেন। সেখানে সবাইকে রাখি পরাবেন।
অবন ঠাকুর লিখেছেন--
"আমি ভাবলুম, গেলুম রে বাবা, মসজিদের ভিতর একটা রক্তারক্তি ব্যাপার না হয়ে যায়’।
অনেকেই সেই ভয়ে পিছিয়ে পড়ল। কেউ কেউ সরে গেল শোভাযাত্রা থেকে, কিন্তু রবীন্দ্রনাথের কোনও দিকে খেয়াল নেই। তিনি এগিয়ে চলেছেন মসজিদের দিকে। সঙ্গে দিনু ঠাকুর, সুরেন ঠাকুর আরও অনেক।
খবর পৌঁছল জোড়াসাঁকো বাড়িতেও।সকলেই শঙ্কায় ঝামেলার ভয়ে। দারোয়ানদের তৈরি থাকতে বলা হল। শেষ পর্যন্ত ঘন্টা কয়েক পর ফিরে এলেন তাঁরা। কোথাও কোনও অশান্তির মেঘ নেই। জানা গেল বৃথা ভয় পেয়েছিলেন পিছিয়ে পড়া সঙ্গীরা।
মসজিদের ভিতরে মৌলবী থেকে শুরু করে সকলকেই শুভেচ্ছার রাখি পরিয়ে এসেছেন তাঁরা।"
আজ বাংলার ভাগ্যাকাশে যখন দুর্যোগের ঘনঘটা...তখন রাখিবন্ধন বেঁধে রাখুক আমাদেরঃ
"আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি.. "
We hate spam as much as you do