সভাপতিত্ব করেছেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। এদিন শ্রদ্ধা জানানো হয় আর জি কর হাসপাতালে নিহত চিকিৎসক ছাত্রীর স্মৃতিতে। স্লোগান ওঠে: ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’।
জনতার লড়াইয়ের মধ্যেই বেঁচে থাকবেন বুদ্ধদেব, স্মরণসভায় নেতৃত্ব
23 Aug 2024
বৃহস্পতিবার নেতাজী ইন্ডোর স্টেডিয়ামে প্রয়াত জননেতা ও রাজ্যের প্রাক্তন মূখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। স্মরণসভায় বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু তার দীর্ঘ সময়ের সাথী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এর স্মৃতিচারণ করেন। তিনি ছিলেন ৬০-এর দশকের তরুণ বিপ্লবী ছাত্র কর্মী। তারপর যুব সংগঠনের সাথে যুক্ত থেকে সারা রাজ্যে সেই সময় নতুন করে যুব সংগঠন গড়ে তোলার কাজে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য।
যখন পারিষদীয় রাজনীতির আঙিনায় ছিলেন দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত হননি। শ্রেণিশত্রুর বিরুদ্ধে ঘৃণা জাগ্রত করেছেন। কিন্তু অশালীন আচার আচরণের সাথে কোনও সম্পর্ক ছিল না।
সভাপতিত্ব করেছেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। এদিন শ্রদ্ধা জানানো হয় আর জি কর হাসপাতালে নিহত চিকিৎসক ছাত্রীর স্মৃতিতে। স্লোগান ওঠে: ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’।
যখন প্রথম বইমেলা হলো তা প্রায় ফুটপাথে হয়েছিল। কাঠের রেক তৈরি করে করা হয়। পরের বছর বুক গিল্ড করে। ৭৮ সালে বুক গিল্ড আর বুক সেলার অ্যাসোসিয়েশন বুদ্ধদেবের উদ্যোগে শুরু হয়। পরে তা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য রা মানুষের বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
স্মরণসভায় যোগ দিয়েছিলেন বিভিন্ন অংশের মানুষ। এসেছিলেন সিপিআই(এম) নেতৃবৃন্দ। এনসিপি ও আরজেডি নেতৃত্বও যোগ দিয়েছিলেন। এসেছেন প্রাক্তন ক্রিকেটার সৌরভ গাঙ্গুলি। সঞ্চালনা করেছেন গনতান্ত্রিক লেখক শিল্পীদের নেতা রজত বন্দ্যোপাধ্যায়।
হাসপাতাল থেকে বুদ্ধদেব ভট্টচার্যের স্মরণসভায় ভিডিওবার্তা দেন সীতারাম ইয়েচুরি। সিপিআই(এম) সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, তাঁর দিশা সঠিক ছিল। আজ আরও প্রাসঙ্গিক হয়েছে সেই দিশা। রোজগার, কাজের জন্য তাঁর লক্ষ্য বাস্তবায়িত হলে বাংলায় শিল্পায়ন হতো। কাজের জন্য দলে দলে বাংলার যুবকদের বাইরের রাজ্যে যেতে হতো না।
ইয়েচুরি বলেছেন, আমাদের সম্পর্ক পঞ্চাশ বছরের বেশি। জরুরি অবস্থার পর ছাত্র ও যুব সংগঠন বিস্তৃত করার পরিকল্পনা ছিল।
তিনি বলেন, সংস্কৃতির ক্ষেত্রে জোর দিতেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। কেউ কেউ মনে করে সংস্কৃতি আলাদা, শ্রেণিসংগ্রাম আলাদা, বিপ্লব আলাদা। তা মেটেই নয়। আমাদের দেশের অভিজ্ঞতায় আমরা দেখেছি সংস্কৃতি জগতের ব্যক্তিত্ব, যাঁরা কমিউনিস্ট আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কত বড় ভূমিকা নিয়েছেন। তিনি সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলকে ব্যবহার করে দক্ষিণ পন্থার মোকাবিলা করেছেন। এই ব্যবস্থার পালটা আধিপত্য গড়ে তুলতে সাংস্কৃতিক চেতনা গড়ে তোলা অবশ্যই জরুরি। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য সারা জীবন সেই লক্ষ্যে নিয়োজিত থেকেছেন।
এই সভায় সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন দীর্ঘদিন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে নেতা হিসাবে, শিক্ষক হিসাবে পেয়েছি। এই সংক্ষিপ্ত পরিসরে সব কথা বলা যায়না। শোক প্রস্তাবে আমরা তাঁর ভাবনার কথা উল্লেখ করেছি। আইসিইউ থেকে জেনারেল বেডে আসার পর সীতারাম ইয়েচুরি তাঁর বার্তা পাঠিয়েছেন।
বুদ্ধদা গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন রাজ্যকে। তাঁর ভাবনা কাজের মধ্যে দিয়ে তিনি থাকবেন। তাঁর স্বপ্নকে রূপায়িত করার লড়াই জারি থাকবে।
সভায় মহম্মদ সেলিম বলেন, স্মরণ সভা করি চোখের জল ফেলার জন্য নয়। শপথ নেওয়ার জন্য। আমাদের সমাজে, নিরাপত্তা, সমতা প্রতিষ্ঠা করা স্বপ্ন তিনি দেখেছিলেন। তাঁকে যখন মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে উৎখাত করার চক্রান্ত হলো তখন আমাদের দেশে সমতা, সাম্যের লড়াই চলছিল।
জাতি হিসাবে প্রজন্ম হিসাবে আমাদের স্বপ্ন কে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল। মানুষকে ভাগ করার যখন প্রয়াস চলছে, বুদ্ধদার ভাষায় বলতে হয় উগ্র সাম্প্রদায়িকতা। তিনি শ্রমিক কৃষক মেহনতি মানুষের সাথে সম্পৃক্ত হতে চেয়েছিলেন। গর্বে র সাথে বলতে পারি তাঁর কাজ ও কথার মধ্যে কোন ফারাক ছিল না। তার লড়াই সংগ্রাম, শিল্প বোধ রুচি বোধ সেতু বন্ধন করেছিল।
সেলিম বলেন, আমাদের চোয়াল শক্ত করতে হবে। বুদ্ধদা থাকবেন মানুষের লড়াইয়ের মধ্যে। বেঁচে থাকার লড়াইয়ের মধ্যে, বাঁচিয়ে তোলার লড়াইয়ের মধ্যে। তিনি সবাইকে নিয়ে বাঁচতে চেয়ে ছিলেন। যুবদের বেকারির জ্বালা মোকাবিলার ভাবনা থেকে বিচ্যুত হননি। কৃষির সাফল্যকে সংহত করে গরিব ঘরের ছেলেমেয়েরা যাতে তাঁদের মেধা দিয়ে বাংলাকে গড়ে তুলতে পারে সেই চেষ্টা করেছিলেন।’’
সেলিম বলেন, রবীন্দ্র ভাবনার মধ্যে আছে পূর্ণতা প্রাপ্তি হবে না কিন্তু পূর্ণতা অভিলাষী হতে হবে। বুদ্ধদা এতে জোর দিতেন। আমরা তাঁকে স্মরণে সফল হব যদি তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রয়াস বাড়াতে পারি। যা ঘাটতি আছে তা পূরণ করার শপথ নিতে হবে।
আর জি কর প্রসঙ্গে সেলিম বলেন, যে অন্যায় অনাচার হয়েছে ওই চিকিৎসকের সঙ্গে, তার জন্য রাজ্য পথে নেমেছে। যখন লাশটা পোড়াতে চাইছিল তখন এই যুব-ছাত্র কর্মীরা গাড়িটা আটকেছিল। তাঁদেরই এখন আসামি সাজানো হচ্ছে। আসল আসামিরা ঘুরে বেড়াচ্ছে। এই অন্যায়ের শেষ করতে হবে। লাগাতার আন্দোলন সংগ্রামের তীব্রতা বাড়াতে।
বুদ্ধদার ভাষায় বলতে হবে এই লড়াই লড়তে হবে জিততে হবে।
বৃহস্পতিবার নেতাজী ইন্ডোর স্টেডিয়ামে স্মরণ অনুষ্ঠানে বাইরের অংশে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সংগ্রামী জীবন ও কাজ নিয়ে একটি প্রদর্শনী হয়। অনুষ্ঠানে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের বক্তৃতা, আবৃত্তি, সাক্ষাৎকার ইত্যাদি নিয়ে একটি তথ্যচিত্রও প্রদর্শন করা হয়। তাঁর লেখা বই বিক্রি হয়।
নেতাজি ইন্ডোরে এ দিন এক যুব কর্মীর আঁকা বুদ্ধদেবের প্রতিকৃতি প্রয়াত নেতার স্ত্রী মীরা ভট্টাচার্য ও সন্তান সুচেতনের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
We hate spam as much as you do