সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘প্রত্যেকেই রাইট টু ডিফেন্স করার অধিকার রয়েছে। মহুয়ার সম্পর্কে যিনি বলেছিলেন, তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হল না। মহুয়া মৈত্র যে ক্রস চেক করবেন, সেই সুযোগই দেওয়া হয়নি। তদন্তই হয়নি। আদানির বিরুদ্ধেও তদন্ত হল না। আর মহুয়ার বিরুদ্ধে চটজলদি একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। তাঁর পদ খারিজ করে দেওয়া হল। মহুয়া সম্পর্কে তৃণমূলের নেতারা বলেছিলেন, এটা ওঁর ব্যক্তিগত লড়াই, লড়ে নিতে পারবেন। তৃণমূলের দ্বিচারিতা ধরা পড়ল। মহুয়া মৈত্রকে সমবেদনা কুড়ানোর সুযোগ করে দিলেন।’
সাংসদ পদ খারিজ! গনতন্ত্রের প্রশ্নে মহুয়ার পক্ষে INDIA জোটের সবাই
Dec 09, 2023
সাংসদ মহুয়া মৈত্রের সাংসদ পদ খারিজ হয়েছে। মহুয়াকে আত্মপক্ষ সমর্থনে কিছু বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি, কেবল এথিক্স কমিটির সুপারিশে মান্যতা দিয়েই তাঁর সাংসদ পদ খারিজ হয়েছে বলে সোচ্চার হয়েছে তৃণমূল থেকে অবিজেপি সমস্ত দলই। কিন্তু, এবার মহুয়ার রাজনৈতির ভবিষ্যৎ কী হবে? তিনি কি আর ভোটে দাঁড়াতে পারবেন? সংসদ থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পরই মহুয়া যে ‘শ্মশানে চিতা তোলা’র হুঙ্কার দিয়েছেন, তাতে তিনি কী পদক্ষেপ করবেন? তিনি কি সুপ্রিম কোর্টে যাবেন? এমনই একাধিক প্রশ্ন উঠছে। যদিও এই সমস্ত প্রশ্নের স্পষ্ট কোনও জবাব এখনও মহুয়া বা তৃণমূলের তরফে জানানো হয়নি। তবে মহুয়ার সামনে সমস্ত পথ-ই খোলা রয়েছে বলে জানিয়েছেন লোকসভার প্রাক্তন সচিব জেনারেল পিডিটি আচারি। মহুয়ার ক্ষেত্রে সংসদীয় নিয়মটা ঠিক কী, দেখে নেওয়া যাক একনজরে।
লোকসভার প্রাক্তন সচিব পিডিটি আচারি জানান, সাধারণত পদ্ধতিগত অনিয়মের ভিত্তিতে হাউসের কার্যধারাকে চ্যালেঞ্জ করা যায় না। এটা সংবিধানের ১২২ নম্বর অনুচ্ছেদে স্পষ্ট করা রয়েছে। তবে এথিক্স কমিটির তদন্তের অগ্রাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। প্রাথমিক রিপোর্টকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এটা আদতে প্রিভিলেজ কমিটির তদন্তের বিষয় ছিল বলেও জানান আচারি।
অন্যদিকে, মহুয়া মৈত্রের সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার পথও খোলা থাকছে। ন্যায় বিচার পাওয়ার এবং সঠিকভাবে শুনানি হওয়ার দাবিতে এথিক্স কমিটির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্ট বা উচ্চ আদালতে আপিল দায়ের করতে পারেন মহুয়া। এছাড়া পুনরায় লোকসভা ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতার করার সুযোগও রয়েছে মহুয়ার।
ভারতের জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী, কোনও অভিযোগে সাংসদ পদ খারিজ হলেই তাঁর পুনরায় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ হারায় না। কোনও ব্যক্তি যদি ফৌজদারী মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন এবং তাঁর ২ বছরের বেশি কারাদণ্ড হয় তা হলে অন্তত ৫ বছরের জন্য তিনি আর ভোটে লড়তে পারবেন না। যেটা রাহুল গান্ধীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়েছিল। ফৌজদারী মামলায় রাহুল গান্ধী অভিযুক্ত হওয়ায় তাঁর সাংসদ পদ খারিজ হয় এবং আগামী লোকসভা ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ বিলীন হয়ে যায়। যদিও শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম-রায়ে সাংসদ পদ ফিরে পান তিনি। মহুয়ার ক্ষেত্রে কোনও ফৌজদারী মামলা হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই আগামী বছর লোকসভা নির্বাচনে তাঁর ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্পূর্ণ সুযোগ রয়েছে।
এদিকে গনতন্ত্র রক্ষার পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলার বাম–কংগ্রেস। সিপিআইএম থেকে কংগ্রেস নেতারা বিজেপির এমন আচরণকে তুলোধনা করলেন। বলা যেতে পারে, মহুয়া মৈত্র বাংলার বিরোধীদের মেলালেন। তৃণমূল কংগ্রেস তো তাঁর সাংসদের পক্ষে বলবেই। বিজেপি তো এই কাজ করে নিজেরা ঠিক সে কথা তুলে ধরবেই। কিন্তু সিপিআইএম এবং কংগ্রেস নেতারা সংসদীয় রাজনীতিতে বিজেপির স্বৈরাচারী ভূমিকা নিয়ে চরম নিন্দা করলেন। আর তাতে ইন্ডিয়া জোট পোক্ত হল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিষেষজ্ঞরা।
অন্যদিকে সিপিআইএম নেতা সুজন চক্রবর্তী এদিন সরাসরি বিজেপিকে তুলোধনা করলেন মহুয়া মৈত্র ইস্যুতে। তৃণমূল কংগ্রেসকে সামান্য খোঁচা দিলেও আগাগোড়া দাঁড়ালেন মহুয়া মৈত্রের পাশে। সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘প্রত্যেকেই রাইট টু ডিফেন্স করার অধিকার রয়েছে। মহুয়ার সম্পর্কে যিনি বলেছিলেন, তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হল না। মহুয়া মৈত্র যে ক্রস চেক করবেন, সেই সুযোগই দেওয়া হয়নি। তদন্তই হয়নি। আদানির বিরুদ্ধেও তদন্ত হল না। আর মহুয়ার বিরুদ্ধে চটজলদি একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। তাঁর পদ খারিজ করে দেওয়া হল। মহুয়া সম্পর্কে তৃণমূলের নেতারা বলেছিলেন, এটা ওঁর ব্যক্তিগত লড়াই, লড়ে নিতে পারবেন। তৃণমূলের দ্বিচারিতা ধরা পড়ল। মহুয়া মৈত্রকে সমবেদনা কুড়ানোর সুযোগ করে দিলেন।’
এদিন সংসদে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ভূমিকায় দেখা যায় অধীররঞ্জন চৌধুরীকে। সংসদীয় রাজনীতি তিনি ভালই বোঝেন। তার উপর বাংলা থেকে নির্বাচিত সাংসদ। অধীররঞ্জন চৌধুরী বলেন, ‘বেলা ১২টায় রিপোর্ট সাংসদদের হাতে এসেছে। তারপর ২টোর সময় আলোচনা শুরু হয়। এখানে ১২টার সময় বেরিয়ে রিপোর্ট ডাউনলোড করতে আরও সময় লেগেছে। ৪৯৫ পাতার রিপোর্ট। এত অল্প সময়ের মধ্যে কী করে কারও পক্ষে এত বড় রিপোর্ট পড়া সম্ভব? এই রিপোর্টে কোনও ভুল আছে কি না, তা কী করে বোঝা সম্ভব? এটা কোনও ছোট বিষয় নয়। এই সিদ্ধান্ত নতুন সংসদ ভবনে নজির হয়ে থাকবে। রিপোর্ট ভাল করে পড়ে দেখার জন্য অন্তত তিনদিন সময় দেওয়া হোক। এই বিষয়ে যথাযথ আলোচনা হওয়া দরকার। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ তাঁকে তো আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া উচিত। এখানে মহুয়া মৈত্রকে অন্তত বলতে দিন। তথ্য প্রমাণ ছাড়া অভিযোগের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
We hate spam as much as you do