Tranding

10:08 AM - 04 Feb 2026

Home / National / ভারতবর্ষের ২২০ বছরের অর্ডিন্যান্স ফ্যাক্টরি বোর্ড তুলে দেওয়া হল। দেশের প্রতিরক্ষা বেসরকারীকরনের পথে।

ভারতবর্ষের ২২০ বছরের অর্ডিন্যান্স ফ্যাক্টরি বোর্ড তুলে দেওয়া হল। দেশের প্রতিরক্ষা বেসরকারীকরনের পথে।

OFB ৪১ টি কারখানা নিয়ন্ত্রণ করত। যাতে ৮১৭০০ এর বেশি কর্মচারী যুক্ত ছিল । এর বার্ষিক লেনদেন প্রায় ১৯০০০ কোটি টাকা। এই সবগুলি সাতটি ডিফেন্স পাবলিক সেক্টর ইউনিটে (ডিপিএসইউ) বিভক্ত করা হবে।

ভারতবর্ষের ২২০ বছরের অর্ডিন্যান্স ফ্যাক্টরি বোর্ড তুলে দেওয়া হল। দেশের প্রতিরক্ষা  বেসরকারীকরনের পথে।

ভারতবর্ষের ২২০ বছরের অর্ডিন্যান্স ফ্যাক্টরি বোর্ড তুলে দেওয়া হল। দেশের প্রতিরক্ষা  বেসরকারীকরনের পথে।

ভারতে সশস্ত্র বাহিনীকে অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং পোশাক সরবরাহ করত 220 বছর বয়সী অর্ডিন্যান্স ফ্যাক্টরি বোর্ড।

বৃহস্পতিবার অর্ডিন্যান্স ফ্যাক্টরি বোর্ডের (ওএফবি) অস্তিত্বের শেষ দিন ছিল। অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি বোর্ড, যা ভারতে সশস্ত্র বাহিনীকে অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং পোশাক সরবরাহ করছে, আজ ১ অক্টোবর ২০২১ থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেল।

OFB  ৪১ টি কারখানা নিয়ন্ত্রণ করত।
 যাতে ৮১৭০০ এর বেশি কর্মচারী যুক্ত ছিল । এর বার্ষিক লেনদেন প্রায় ১৯০০০ কোটি টাকা। এই সবগুলি সাতটি ডিফেন্স পাবলিক সেক্টর ইউনিটে (ডিপিএসইউ) বিভক্ত করা হবে।

OFB ভেঙে দেওয়ার পরিকল্পনাটি বেশ কিছুদিন ধরে কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকারের এজেন্ডায় ছিল, যা ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের পরপরই প্রস্তাব করা হয়েছিল। দেশজুড়ে তুমুল প্রতিবাদ হয়। 
এবং ইউনিয়নগুলো  ধর্মঘটের ডাক দেয়। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার অপ্রত্যাশিতভাবে ধর্মঘটের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এবং কার্যত মন্ত্রীসভার নিজস্ব সিদ্ধান্তে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়, সংসদে এই বিষয়ে আলোচনা হয়নি। অত্যন্ত দ্রুততার সাথে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা এই বছরের ১৬ জুন এই পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। মঙ্গলবার, সরকার ঘোষণা করেছিল যে অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি বোর্ড ১ অক্টোবর থেকে বন্ধ হয়ে যাবে ।

সাতটি উত্তরসূরি DPSU হল:

•Munitions India

•Armoured Vehicles Nigam

• Advanced Weapons and    Equipment India

• Troop Comforts

• Yantra India

• India Optel

• Gliders India

প্রস্তাবিত কর্মচারীদের কি হবে?
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তার বিবৃতিতে বলেছে, উৎপাদন ও উৎপাদন উভয় ইউনিট থেকে দ্রবীভূত OFB- এর গ্রুপ A, B এবং C- এর কর্মচারীদের নতুন DPSU- তে স্থানান্তরিত করা হবে।

প্রতিরক্ষা খাতে সংস্কারের পরামর্শ দেওয়ার জন্য ২০০০ সাল থেকে চারটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পারিক্কর কর্তৃক গঠিত একটি ছাড়া, তিনটি —TKS নায়ার কমিটি (২০০০), বিজয় কেলকার কমিটি (২০০৫), এবং ভাইস অ্যাডমিরাল রমন পুরী কমিটি (২০১৫) - OFB এর কর্পোরেটাইজেশনের পক্ষে।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল ডিবি শেকটকারের নেতৃত্বাধীন চতুর্থ কমিটি ভিন্নমত পোষণ করে, সমস্ত অর্ডিন্যান্স ইউনিটের নিয়মিত অডিটের পক্ষে এবং তাদের কর্মক্ষমতা উন্নত করার জন্য সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পক্ষে।

 OFB কিভাবে কাজ করে?

সরকারের OFB ওয়েবসাইট অনুসারে, OFB এর শিল্প স্থাপন ১৮০১ সালে ঘটেছিল।

যাইহোক, এর উৎপত্তি ১৭৭৫ সালে পাওয়া যেতে পারে, যখন ইংল্যান্ডের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতের সামরিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক দখলদারির লক্ষ্যে কলকাতার ফোর্ট উইলিয়ামে বোর্ড অব অর্ডন্যান্স প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দেয়।

 

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ইছাপুরে ১৭৮৭ সালে পশ্চিমবঙ্গে উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় ইছাপুরের ব্রিটিশ  একটি গান পাউডার কারখানা প্রতিষ্ঠা করে। ১৮০১ সালে কাশিপুরে বন্দুকবাহী এজেন্সি আসে।  এই হল OFC এর সূচনা।

১৯৭৯ সালে ‘অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি বোর্ড’ এই নামকরণ চালু হয়  কেন্দ্রের জনতা পার্টি সরকারের আমলে কাজ শুরু হয় ।

সরকার বলছে যে অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি বোর্ডকে সাতটি ডিপিএসইউ দিয়ে প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন খাতে সংস্কার করবে। কৃষি ক্ষেত্রে সবুজ বিপ্লব এবং দুগ্ধজাত দ্রব্যে শ্বেত বিপ্লবের মতো প্রতিরক্ষা খাতেও পরিবর্তন আসবে। কেন্দ্রীয়  সরকার পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও সংস্কার করার কথা বলেছে। 

প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং এই সপ্তাহের শুরুতে বলেছিলেন  "আমরা কৌশলগত অংশীদারিত্বের মডেলের মাধ্যমে যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার, ট্যাঙ্ক এবং সাবমেরিন সহ মেগা প্রতিরক্ষা কর্মসূচির সুযোগ খুলেছি যা আমাদের বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে আগামী বছরগুলোতে বিশ্বের সেরা হতে সাহায্য করবে," এইকথা বলে তিনি OFB এর শেষ তারিখ ঘোষণা করেছিলেন।
অদ্ভুতভাবে মন্ত্রী বলেন  প্রকাশ্যে ডিফেন্স ক্ষেত্র বেসরকারীকরণ দেশের বৃহৎ পুঁজিকে লাভবান করবে।

সবচেয়ে বড় ক্ষোভের বিষয় পশ্চিমবঙ্গকে সম্পুর্ণ বঞ্চিত করা হয়েছে।  এই নতুন সাতটি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা কোম্পানির মধ্যে তিনটির হেড অফিস হলো উত্তরপ্রদেশের কানপুরে। একটি হেডঅফিস হলো তামিলনাড়ুর আভাডিতে, একটির দেরাদুনে, একটির পুনেতে ও আরেকটি নাগপুরে। 
উত্তরপ্রদেশের কানপুরে পাঁচটি প্রতিরক্ষা কারখানা আছে, সেখানে তিনটি কোম্পানির হেডঅফিস হয়েছে। এদিকে কলকাতায় তিনটি প্রতিরক্ষা কারখানা আছে, কলকাতায় ছিল অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি বোর্ডের সর্বভারতীয় হেডকোয়ার্টার। কলকাতা থেকে সম্পুর্ণ তুলে নিয়ে যাওয়া হল।

 

তথ্য সংগ্রহে - অমিত ভট্টাচার্য, অনির্বাণ সরকার ও চিরন্তন গাঙ্গুলী 

Your Opinion

We hate spam as much as you do