ব্রত কথা না বাড়িয়ে পঞ্চাশ টাকা বার করে দিলো। বৃদ্ধার আর একটু হলে ভালো হয়।ব্রত কিছুটা বিরক্তি নিয়ে আরো তিরিশ টাকা দিলো। বৃদ্ধা চলে গেলো বটে, তবে খুব একটা বোধহয় খুশি হয় নি।ব্রত আর কতই বা দেবে।আর দু'একজনের কাছে দেখুক।
জমাখরচ
অনিরুদ্ধ বিশ্বাস
ব্রত প্রতিসন্ধ্যায় হাঁটে। একই রাস্তা।একই গতি।আজ হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ দেখতে পায় একটা একশো টাকার নোট পড়ে আছে।তুলে নেয়।নেবার পর যার টাকা তা র অবস্থা কল্পনা করতে থাকে। শুধুই মনে হতে থাকে,এই টাকাটা কোনো গরিব মানুষের। তার খুব অসুবিধে হবে।সাত-পাঁচ ভাবতে ভাবতে এগোতে থাকে। কিন্তু টাকাটা কিছুতেই সে পকেটে ঢোকাতে পারে না।হাতেই মুঠো করে রাখে।অথচ ফেরত দেবারও কোন উপায় নেই। কী যেন এক অস্বস্তি আজ মেঘের মত উড়ছে বুকে।খানিকটা যেতেই এলো সেই যায়গা যেখানে গত সপ্তাহেই দেখা হয়েছিলো এক জন বিধবা বৃদ্ধার সাথে।মনে পড়লো সে কথা।সেদিন এগারোটা নাগাদ বাজার করে ফিরছে ব্রত।এমন সময় দিশেহারা হয়ে একজন বৃদ্ধা তার কাছে এসে বলল,— বাবা একটা কথা বলবো,রাখবে?
— বলুন
—আমি করিমপুর থেকে আসছি,এই কল্যাণীতে ছেলে কাজ করে।কিন্তু ওকে খুঁজে পাচ্ছি না।দেখা হলো না।এখনো কিছুই খাই নি।ভাবছি বাড়ি ফিরে যাবো।কিন্তু আমার কাছে আর কোন টাকা নেই।তুমি আমাকে একটু সাহায্য করবে?
ব্রত কথা না বাড়িয়ে পঞ্চাশ টাকা বার করে দিলো। বৃদ্ধার আর একটু হলে ভালো হয়।ব্রত কিছুটা বিরক্তি নিয়ে আরো তিরিশ টাকা দিলো। বৃদ্ধা চলে গেলো বটে, তবে খুব একটা বোধহয় খুশি হয় নি।ব্রত আর কতই বা দেবে।আর দু'একজনের কাছে দেখুক।এই ভেবে বাড়ির দিকে এগোয় । এখন এই সন্ধ্যায়, ঠিক এই নির্দিষ্ট যায়গায় এসে এই কথা মনে পড়তেই ব্রত খড়-কুটোর মত কী যেন এক আশ্রয় পেলো। ঐ একশো টাকা তবে কী তার কাছে ফিরে এলো আরো বেশি হয়ে? বুকের মধ্যে আর মেঘ নেই।ফুরফুরে হাওয়া।হাল্কা। শুধু মনে হতে লাগলো “তোমায় কেন দিই নি আমার সকল শূন্য করে”।
We hate spam as much as you do