সুদূর দিগন্তে কে যেনো তবু হাতছানি দেয় প্রাণের আবেগ-তাড়িত চেতনা তারই দিকে ছোটে। G
কবিতা
অনামিকা মিত্র
হারাণ মন্ডল
সঙ্ঘমিত্রা ভদ্র
বিষবৃক্ষ
অনামিকা মিত্র
জীবনচক্রে পা ফেলতেই
আষ্টে-পৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে বহু শাখা-প্রশাখা।
জানিনা কোন ইতিহাসের
মাটিতে রোপন করা হয়েছিল—
এই বীজ।
সেখান থেকে উজ্জীবিত হয়- এক বৃহৎ বিষবৃক্ষ।
মনে হয় এর মৃত্যু নেই চির অমর
যুগ যুগ ধরে এর ডাল-পালা ক্রমশ ছড়িয়ে পড়েছে চতুর্দিকে ।
রাত থেকে দিন, দিন থেকে রাত আমরা এই ভয়াবহ চক্রের পরিধিতে
ঘুরেই চলেছি প্রতিনিয়ত।
এক জীবনে তুষের আগুনের মত
সবাই পুড়ছি ধিক ধিক করে।
কখনও ভাবি , ঐ তুষের আগুন থেকে
আমরা সবাই হয়ে উঠি এক একটা— লাল ধারাল অস্ত্র
আর খণ্ড খণ্ড করে ফেলি ঐ বিষাক্ত ভয়ঙ্কর গাছটাকে।
ধর্মান্ধতা
হারান মন্ডল
এখানে মসজিদ ভাঙলে , ওখানে ভাঙে মন্দির ।
একই শরীরে বার বার বিদ্ধ হয় সাম্প্রদায়িকতার তির ।
অথচ , হিংসা - ভাঙচুরের কথা বলেনি কোনো ধর্মে ।
পুরাণে - কোরাণে নেই কোনো ভেদ । ভেদাভেদ যত হয় মানুষের দুষ্কর্মে ।
যে ধর্মে বন্দিত হয় মানবিকতার গুণ ।
প্রতিহিংসার কারণে হাজারো বছরের ক্ষতে কেন ছিটাও নুন ।
ক্ষুদ্র স্বার্থে যারা প্রতিনিয়ত ভাঙছে দেবতার বসতি।
তারা হিন্দু নয় , নয় মুসলিমও । তারা ভিন্ন এক জাতি ।
রক্তে পিছল হয় জাতির যাত্রাপথ ধর্মান্ধতার কারণে ।
বিশ্ব জয় হয় - সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে।
যে রোষানলে তুমি পোড়াচ্ছ তোমার প্রতিবেশীর ঘর ,
লজ্জা কি পাবে না তুমি কোনো দিন , সে যদি হয় তোমার জীবনের সহচর ?
প্রেরণা প্রত্যূষ||
সঙ্ঘমিত্রা ভদ্র
বিপন্ন সময়ের স্রোতে
ভেসে যায় উদভ্রান্ত মন
কোথায় তীরের ঠিকানা?
খুঁজে যেতে হয় প্রতীতি ---অনুক্ষণ।
খড়কুঁটো হয়ে ভাসে কত
স্বপ্নিল-শতদল ---
ছোঁয়ার আগেই তা ঝরে যায়
সব আশা চূর্ণ হয় নিষ্ফল হতাশায়।
সুদূর দিগন্তে কে যেনো তবু
হাতছানি দেয়
প্রাণের আবেগ-তাড়িত চেতনা
তারই দিকে ছোটে।
থামে না যে কিছুতেই থামে না
ভেসে যাওয়া উদভ্রান্ত মন
শুধু নিষ্পন্দ হয়
কল্পনা-সিক্ত দু'চোখের পাতা।
জীবনের এ কী খেলা?
ভাঙার গানেই থাকে গড়ার প্রেরণা!
We hate spam as much as you do