Tranding

01:49 PM - 04 Feb 2026

Home / Entertainment / রবিবারের ৪টি কবিতা, শাম্ব সোমা দত্ত হিমবন্ত বন্দ্যোপাধ্যায় ‌‌নির্মাল্য দাশগুপ্ত

রবিবারের ৪টি কবিতা, শাম্ব সোমা দত্ত হিমবন্ত বন্দ্যোপাধ্যায় ‌‌নির্মাল্য দাশগুপ্ত

জঙ্গলে যাও,দ্যাখো,আলো। এবং আলোর ভেতর রাত্রী জাগা অন্ধকার ও হাতকড়া  আর ক্রুশের বুকে বৃদ্ধ পিতার

রবিবারের ৪টি কবিতা,   শাম্ব  সোমা দত্ত  হিমবন্ত বন্দ্যোপাধ্যায়  ‌‌নির্মাল্য দাশগুপ্ত

৪টি কবিতা

শাম্ব

সোমা দত্ত

হিমবন্ত বন্দ্যোপাধ্যায়

‌‌নির্মাল্য দাশগুপ্ত

---------

জিভ
শাম্ব

বাবাকে হত্যার সময় ও নিশানা 
একটি উপগ্রহে আটকে গেলো।
দৈন্য গাছের শুকনো পাতায়,
শুকনো শিরায় রক্তে লেখা

 

ভীমা কোরেগাঁও।সেই আঘাতে

 

আদিম লোকে বলতে শেখে।
লিখতে শেখে আদিম লোকে।
গাছ গুড়িয়ে শুকনো পাতার
একটা ঝুড়ি একটা দেশের 

 

শুকনো বুকের স্তন্য চাটে।

 

জঙ্গলে যাও,দ্যাখো,আলো।
এবং আলোর ভেতর রাত্রী
জাগা অন্ধকার ও হাতকড়া 
আর ক্রুশের বুকে বৃদ্ধ পিতার

 

শুকনো বুকে পা রেখেছে,
পা রেখেছে "মন কি বাতে!"

 

কথা বলতে বলতে কেটে
নেওয়া জিভ একদিন ঠিক
ঠিক একদিন শুকিয়ে যাবে 
পাতার ভেতর,দাহ্য হাতের

 

আগুন পেয়ে যে দাবানল 
ছড়িয়ে যাবে এ সংঘাতে

 

হাতের কড়া কি আটকাবে?
কি আটকাবে পায়ের বেড়ি?
শুকনো বুকের স্তন্য চেটে 
হাজার জিভে প্রশ্ন ছোড়ে

 

শুকনো একটা পাতার ঝুড়ি
একটা দেশের আদিম লোকে,

 

একটা জিভের হত্যা করে 
সব রোখা যায়?

 

শুকনো পাতার 
রক্ত পড়ে একশোটা জিভ জন্ম নিলে?

 

 

স্বর
সোমা দত্ত

গানগুলি ফিরে গেলো 
কোণের দরোজা খুলে এখনো বেরোতে পারিনি
তোমার অঙ্গ থেকে খসে পড়েছে শৃঙ্গার
আমার গলা সাধা হয় নি
ভীষণ দুর্বিষহ গরম ফেনার মতো 
মাথার ভিতরে গুটিয়ে গেলাম আমি
লজ্জার মতো হীন ষড়যন্ত্রে 
বলো মূর্খ, বলো  দরিদ্র,বলো অর্বাচীন চামার
গালের উপর পড়ুক সপাটে পরিচয়
মিশে যাক মাটির ভিতর নষ্ট হয়ে যাওয়া দিন
কোনো উচ্চারণ নেই আর বাকি
ঘুমের চেয়েও মহান কোনো ধ্যানে 
আমি ডুবে যাওয়া স্বর টিকে ডাকি

 

 

একটি শোকগাথা 
 ‌‌
নির্মাল্য দাশগুপ্ত

চারিদিকে বসন্তের সুবাতাস বইছে
আমাদের জন্য নয়-----

 

কুসুমগুলি এতদিন শুকিয়ে যাচ্ছিল,
এখন গাছগুলিও

 

সূর্যের নবীন রাঙা আলো
আমাদের মুখের বাইরে পড়ে,
চাঁদের কিরণ আমাদের জন্য নয়,
নীরোর বেহালায় ছড়ের শব্দ,
আমরা নিঃশব্দ।

 

কিন্তু আমাদের ভিসুভিয়াস নেই,
একদিন লাঠি, সড়কি ছিলো,
এখন তাও হারিয়ে গেছে,

 

উপত্যকার পর উপত্যকা এখন
করোনা দেবীর উৎসব মুখরিত,
আমরা আমাদের নিঃশব্দ কপালের
চিহ্ন দেখছি আয়নায়।

 

যাদের কাঁধে বন্দুক আর পরনে নতুন পোশাক
তারা নিশ্চিন্তে অ্যালশেসিয়ান

 

আমাদের নিরন্ন ঘরে তুলসীর মালা,
আমাদের বিপন্ন দ্বারে উদাসী মা, 
আমরা ঈশ্বরের কাছে করুণার জন্য
হাত পেতে আছি।

 

ভালোবাসা কবে বন্দুক হবে
ভালোবাসা কবে আগ্নেয়গিরি হবে
মৃত্যু উপত্যকার লাশ আর কত
নদী দিয়ে বয়ে যাবে?

 

আমরা অপেক্ষায় আছি,
আমরা অপেক্ষায় আছি,
আমরা উপেক্ষায় ক্ষইতে ক্ষইতে
অপেক্ষায় অপেক্ষায় হিমালয়।

Your Opinion

We hate spam as much as you do