Tranding

10:27 AM - 04 Feb 2026

Home / National / ওড়িশায় বাংলা বলার জন‍্য পরিযায়ী শ্রমিককে পিটিয়ে খুন

ওড়িশায় বাংলা বলার জন‍্য পরিযায়ী শ্রমিককে পিটিয়ে খুন

স্থানীয় সূত্রে খবর, কাজের সন্ধানে কয়েকদিন আগেই ওড়িশার সম্বলপুরে গিয়েছিলেন জুয়েল। স্থানীয় কয়েকজন দুষ্কৃতী তাঁদের বাংলাদেশি সন্দেহে বেধড়ক মারধর করে। গুরুতর আহত হন জুয়েল শেখ। পরে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজন শ্রমিককেও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। পরিবারের একমাত্র ছেলের অকাল মৃত্যুতে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন বাবা-মা ও আত্মীয়স্বজনেরা।

ওড়িশায় বাংলা বলার জন‍্য পরিযায়ী শ্রমিককে পিটিয়ে খুন

ওড়িশায় বাংলা বলার জন‍্য পরিযায়ী শ্রমিককে পিটিয়ে খুন

  Dec 26, 2025, 


ভিনরাজ্যে গিয়ে বাংলায় কথা বলার শাস্তি মৃত্যু। এর আগেও বাংলায় কথা বলায় বাংলাদেশি সন্দেহে মারধর-অকথ্য ভাষা, গালিগালাজ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি বাংলাদেশে পুশব্যাকও হয়েছে। আর এবার দেশের আরও এক ডাবল ইঞ্জিন রাজ্যে বাংলায় কথা বলায় পিটিয়ে মেরে ফেলার অভিযোগ উঠল মুর্শিদাবাদের এক পরিযায়ী শ্রমিককে। ঘটনায় জখম আরও দুইজন। আধার কার্ড দেখিয়ে মারের হাত থেকে তারাও রেহাই পাননি বলে অভিযোগ। 


সূত্রের খবর ওড়িশায় কাজ করতে গিয়ে বাংলাদেশি সন্দেহে মুর্শিদাবাদের এক পরিযায়ী শ্রমিককে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে, ওড়িশার সম্বলপুর জেলায়। মৃত যুবকের নাম জুয়েল শেখ (২১)। তাঁর বাড়ি বাংলার মুর্শিদাবাদের সুতি থানার চকবাহাদুরপুর এলাকায়।

স্থানীয় সূত্রে খবর, কাজের সন্ধানে কয়েকদিন আগেই ওড়িশার সম্বলপুরে গিয়েছিলেন জুয়েল। স্থানীয় কয়েকজন দুষ্কৃতী তাঁদের বাংলাদেশি সন্দেহে বেধড়ক মারধর করে। গুরুতর আহত হন জুয়েল শেখ। পরে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজন শ্রমিককেও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। পরিবারের একমাত্র ছেলের অকাল মৃত্যুতে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন বাবা-মা ও আত্মীয়স্বজনেরা।


পুলিশ সূত্রে খবর, বুধবার রাত সাড়ে আটটা নাগাদ স্থানীয় একটা চায়ের দোকানে চা খেতে যান জুয়েল ও তার সঙ্গে থাকা আরও দুই বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিক বন্ধুরা। সেই সময় দোকানে উপস্থিত থাকা আরও পাঁচজন হঠাৎ করে তাদের উপর চড়াও হয় বলে অভিযোগ। আরও অভিযোগ- মুর্শিদাবাদের বাসিন্দাদের বাংলাদেশি তকমা দাগিয়ে দেওয়া হয়। আক্রান্ত জুয়েলরা আধার কার্ড দেখালেও তাতেও রেহাই মেলেনি। তারপরও থামেনি গণপিটুনি। কোনওমতে সেখান থেকে অপর দুই বন্ধু আরিক ও পলাশ পালাতে সমর্থ হলেও পারেনি জুয়েল। গণপিটুনির জেরে ঘটনাস্থলে মারা যান তিনি। 

এদিকে গোটা ঘটনাটি সামনে আসার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ভিনরাজ্যে কাজ করতে যাওয়া বাংলার শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। পরিবারের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে এবং দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা। যদিও বাংলায় কথা বলার জন্য গণপিটুনি সেই অভিযোগ খারিজ করেছে ওড়িশা পুলিশ। বরং বিড়ি চাওয়া নিয়ে বচসার জেরে এই ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। তবে অভিযুক্ত ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 

Your Opinion

We hate spam as much as you do