ছাত্রের পরিবারের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে তৃণমূলের উপপ্রধানের কাছে যাওয়া হয়। সমস্যার কথা জানাতেই তিনি জানান, তাঁকে ওই টাকা তুলে দিতে হবে। রাজি না হওয়ায় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে এখন বৃত্তির টাকাও তুলতে পারছে না তফসিলি জাতিভুক্ত ওই পড়ুয়া।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা ছাত্রের অ্যাকাউন্টে, উপপ্রধানকে দিতে হবে
19 Jan 2023,
অ্যাকাউন্টে হিসেবের বাইরে টাকা ঢুকছিল। কোনওভাবেই হিসেবে মেলাতে পারছিলেন না। তারপর খোঁজ নিয়ে জানা গেল, ওই টাকা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের। আর তারপর থেকেই হুলুস্থুল পড়ে গেছে দক্ষিণ ২৪ পরগণার পাথরপ্রতিমার কামদেবপুর গ্রামে। কী ভাবে লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা স্কুলছাত্রের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকছে, তা নিয়ে অবাক ছাত্রের পরিবার-সহ অনেকেই।
ছাত্রের পরিবারের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে তৃণমূলের উপপ্রধানের কাছে যাওয়া হয়। সমস্যার কথা জানাতেই তিনি জানান, তাঁকে ওই টাকা তুলে দিতে হবে। রাজি না হওয়ায় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে এখন বৃত্তির টাকাও তুলতে পারছে না তফসিলি জাতিভুক্ত ওই পড়ুয়া।
স্কুলছাত্রের দাদু শুকদেব দাস জানিয়েছেন, নাতির বৃত্তির টাকার জন্য উপপ্রধানের গ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্রে একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলেন তাঁরা। তাতে কয়েক দফায় স্কুল থেকে পাঠানো ২,০০০ টাকা জমা পড়েছে। কিন্তু টাকা তুলতে গিয়ে তিনি দেখেন, জমা হয়েছে ৮,০০০ টাকা। কোথা থেকে এই টাকা এল? খোঁজ নিয়ে শুকদেব জানতে পারেন, ওই টাকা লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের। তারপর ওই টাকা ফেরতের জন্য চাপ দেওয়া হয় তাঁদের। এমনকি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে অ্যাকাউন্টও। বৃত্তির টাকাও তুলতে দেওয়া হচ্ছে না। তাঁরা এখন প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্র চালানোর সুযোগ নিয়ে এই দুর্নীতি চালিয়ে যাচ্ছেন অনেকেই। জানা গিয়েছে, স্থানীয় প্রমিলা হাইস্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র প্রভাস দাসের অ্যাকাউন্টে কয়েক দফায় স্কুলে থেকে পাঠানো ২ হাজার টাকা জমা হয়েছিল। টাকা তুলে গিয়ে স্কুল ছাত্রের পরিরার জানতে পারে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মোট ১০ হাজার টাকা জমা পড়েছে। তারপরই জানা যায় ওই টাকা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের।
লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পটি মোট দু'টি শ্রেণিতে ভাগ করে যোগ্য প্রাপকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠায় রাজ্য। তফসিলি জাতি, উপজাতি এবং অনগ্রসর শ্রেণির ক্ষেত্রে মাসে ১০০০ টাকা এবং সাধারণ শ্রেণির (জেনারেল কাস্ট) বধূদের ৫০০ টাকা করে সরকারি সহায়তা দেওয়া হয়। স্কুল ছাত্রের অ্যাকাউন্টে সেই সরকারি প্রকল্পের টাকা কীভাবে ঢুকেছে, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। প্রকল্পের সঙ্গে যুক্তদের কাজকর্ম নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে। এই প্রকল্পে কোনও দুর্নীতি হচ্ছে বলেও মনে করছেন অনেকে।
We hate spam as much as you do