একাধিক অভিযোগ জমা পড়লেও এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর কোনও রুট মার্চ হয়নি। সিপিআই(এম) নেতৃবৃন্দ কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার না করার অভিযোগে সরব। দিল্লির ইশারায় তৃণমূলকে সুবিধা করে দিতে নির্বাচন কমিশনকে ঠুঁটো রাখছে বিজেপি, এই অভিযোগও তুলেছে সিপিআই(এম)। সিপিআই(এম) দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য কানাই দেব ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘‘সিপিআই(এম)’র এজেন্ট এবং জনতাকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে তৃণমূল। আসলে ওরাই হারের ভয়ে ভুগছে। কিন্তু এসব করে কোনও লাভ নেই।
যাদবপুরে সিপিএমের পোলিং এজেন্টের স্বামী সহ বয়স্কদের মারধর, অভিযুক্ত তৃণমূল
31 May 2024
শেষ দফার লোকসভা ভোটের ঠিক আগে ফের পঞ্চায়েত নির্বাচনের সন্ত্রাসের স্মৃতি ফিরছে পশ্চিমবঙ্গে । ভাঙড়ে তৃণমূল-আইএসএফ (TMC-ISF) সংঘর্ষে বোমা ও গুলিতে পাঁচ জনের জখম হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার মাঝেই যাদবপুরের গাঙ্গুলি বাগানের রবীন্দ্র পল্লিতে সিপিএমের (CPI(M)) পোলিং এজেন্টের স্বামীকে বেধড়ক মারধর ও ফর্ম কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠল। পুলিশ ও তৃণমূলের স্থানীয় কাউন্সিলারের মদতে তাদের দলের পোলিং এজেন্টের স্বামী সহ বেশ কয়েকজন প্রবীণ দলীয় কর্মীর উপর হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ বাম শিবিরের। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ করেছেন যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী সৃজন ভট্টাচার্য। পুলিশকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন বাম কর্মী-সমর্থকরা।
স্থানীয় সিপিএম কর্মীদের অভিযোগ, পাটুলি থানার ওসি ও স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলারের মদতে ৭২ বছর বয়সী ক্যানসারে আক্রান্ত এক বৃদ্ধা সহ বেশ কয়েকজন প্রবীণ মানুষের উপর হামলা চালিয়েছে ঘাসফুল শিবিরের লোকেরা। প্রবীণ বাম কর্মীদের রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত রয়েছে সঞ্জীবন ঘোষ সহ বেশ কয়েকজন।
বৃহস্পতিবার রাতে ১০১ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা সিপিআই(এম) কর্মী সমর্থকদের হুমকি দেয় ও মারধর করে। রবীন্দ্রপল্লীর তিন জায়গায় এবং সংলগ্ন রায়পুর এলাকায় এমন হামলা চালানো হয়। বয়স্করা আহত হন। সিপিআই(এম)’র পোলিং এজেন্টদের আক্রমণের লক্ষ্য করেছে তৃণমূল। মহিলারাও বাদ পড়ছেন না। তেমন শুরু হয়েছে প্রতিরোধও।
খবর পেয়ে শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থলে যান যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রের সিপিআই(এম) প্রার্থী সৃজন ভট্টাচার্য। তাঁকে দেখে এলাকাবাসীরা এগিয়ে আসেন। সবিস্তারে ঘটনা জানান। তাঁরা বলেন, পাটুলি থানাকে জানানো হলেও থানা কোনও পদক্ষেপ নেয়নি।
কিছু পরেই থানার এক আধিকারিক রবীন্দ্রপল্লীতে পৌঁছান। হামলার সময়ে ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ। দীর্ঘ সময় এলাকায় আসেনি। ক্ষোভ তীব্র ছিল এলাকায়। পাটুলি থানার ওই আধিকারিককে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখান বাসিন্দারা।
একাধিক অভিযোগ জমা পড়লেও এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর কোনও রুট মার্চ হয়নি। সিপিআই(এম) নেতৃবৃন্দ কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার না করার অভিযোগে সরব। দিল্লির ইশারায় তৃণমূলকে সুবিধা করে দিতে নির্বাচন কমিশনকে ঠুঁটো রাখছে বিজেপি, এই অভিযোগও তুলেছে সিপিআই(এম)।
সিপিআই(এম) দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য কানাই দেব ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘‘সিপিআই(এম)’র এজেন্ট এবং জনতাকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে তৃণমূল। আসলে ওরাই হারের ভয়ে ভুগছে। কিন্তু এসব করে কোনও লাভ নেই। সজাগ রয়েছেন পার্টিকর্মীরা। সজাগ এই অঞ্চলের জনতা। মানুষ যাতে অবাধে ভোট দিতে পারেন তার জন্য আমরা তৈরি। তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা এলাকার মানুষের প্রতিরোধের মুখে পড়ছে।’’
পাটুলি থানার ওসি এবং আইসি’র ভূমিকায় তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বৃহস্পতিবার সিইও দপ্তরে সিপিআই(এম) রাজ্য কমিটির প্রতিনিধিদল এই থানার ওসি’র ভূমিকার বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন।
দেব বলেছেন, ‘‘যে পুলিশ আধিকারিকরা মনে করছেন তৃণমূলের তল্পিবাহক হয়ে জনতার অভিযোগ সম্পর্কে নীরব থাকবেন, জনতা তাঁদের ক্ষমা করবেন না।’’
এপ্রসঙ্গে ওই এলাকার সিপিএমের পোলিং এজেন্ট অভিযোগ করেন, বেশ কয়েকদিন ধরেই তাঁকে হুমকি দিচ্ছিল তৃণমূলের কয়েকজন দুষ্কৃতী। পুলিশকে জানিয়েও কোনও সুরাহা হয়নি। শুক্রবার দুপুর ১২টা নাগাদ তাঁর বাড়ির সামনেই স্বামীকে বেধড়ক মারধর করে ফর্ম কেড়ে নেয় তৃণমূলের তিনজন দুষ্কৃতী। ঘটনাটির প্রতিবাদ জানাতে গেলে ক্যানসারে আক্রান্ত এক বৃদ্ধা সহ আরও দুজন সিপিএম কর্মীকেও মারধর করা হয়। এখনও পর্যন্ত পুলিশ অভিযুক্তদের ধরতে পারেনি।
এই বিষয়ে অভিযোগ জানানোর দীর্ঘক্ষণ পর ঘটনাস্থলে গেলে পুলিশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন স্থানীয় সিপিএম কর্মী ও সমর্থকরা। বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনাও তৈরি হয়। যাদবপুরের বাম প্রার্থী সৃজন ভট্টাচার্যকেও দেখা যায় পুলিশ আধিকারিকদের এই বিষয়ে প্রতিবাদ জানাতে। পরে পুলিশের তরফে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
We hate spam as much as you do