Tranding

10:11 AM - 04 Feb 2026

Home / National / দক্ষিন মোদিহীন! কর্নাটকে ঘৃণার বিরুদ্ধে ভালোবাসার জয় - রাহুলের মন্তব‍্য

দক্ষিন মোদিহীন! কর্নাটকে ঘৃণার বিরুদ্ধে ভালোবাসার জয় - রাহুলের মন্তব‍্য

কর্নাটকে নির্বাচনের প্রচারে বজরং দলের উপর নিষাধাজ্ঞা জারির কংগ্রেসের প্রতিশ্রুতি নিয়ে কটাক্ষ করেছিলেন নরেন্দ্র মোদী। শতাব্দী প্রাচীন দলের বিরুদ্ধে বজরংবলী স্লোগান নিষিদ্ধ করার চেষ্টার অভিযোগ করেছিলেন। নির্বাচনের ফল বের হওয়ার পর বজরংবলী ইস্যুতে মোদীকে পাল্টা কটাক্ষ করল কংগ্রেস। দ্রাবিড়ভূমি দখলের পর বজরংবলীর ছবিতে মিষ্টিমুখ করাতে দেখা গেল কর্মী-সমর্থকদের।

দক্ষিন মোদিহীন! কর্নাটকে ঘৃণার বিরুদ্ধে ভালোবাসার জয় - রাহুলের মন্তব‍্য

দক্ষিন মোদিহীন! কর্নাটকে ঘৃণার বিরুদ্ধে ভালোবাসার জয় - রাহুলের মন্তব‍্য


, ১৪ মে, ২০২৩


কর্নাটকের  ফল দেখাল, দেশ ভালোবাসাতেই আস্থা রাখে, ঘৃণায় নয়। শনিবার কর্নাটক বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের জয়ের পর এমনই মন্তব্য কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর । এদিন দিল্লির দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাহুল বলেন, কর্নাটকের প্রতিটি কংগ্রেস কর্মীকে অভিনন্দন। কর্নাটকে পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গরিব মানুষের জয় হয়েছে। কংগ্রেস কর্নাটকের গরিব মানুষের পাশে ছিল। এবার থেকে প্রতি রাজ্যে এই মডেল তৈরি হবে বলেও জানান তিনি। 

শনিবার গোটা দেশ তাকিয়ে ছিল কর্নাটক বিধানসভা নির্বাচনের  ফলাফলের দিকে। সকাল থেকেই কংগ্রেস ও বিজেপির জোর টক্কর চলছিল। কিন্তু শেষমেশ বিজেপিকে কুর্সি হারাতে হল। কাজ করল না মোদি ম্যাজিক। ক্ষমতা দখলের পথে ভারতের জাতীয় কংগ্রেস।  তিন অঙ্ক তো দূর, ১০০-এর অনেক  আগেই আটকে গেল গেরুয়া শিবির। কংগ্রেসের এই জয়কে ঐতিহাসিক বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। এদিন জাতীয় নির্বাচন কমিশনের শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, কংগ্রেসের ঝুলিতে ১৩৬টি আসন। বিজেপি ৬৫ ও জেডিএস ১৯ আসন পেয়েছে। অন্যান্যরা পেয়েছে ৪টি আসন। আসনের পাশাপাশি ভোট শতাংশেও বিজেপির থেকে অনেকটাই এগিয়ে কংগ্রেস। ফলাফলের নিরিখে কংগ্রেস পেয়েছে ৪৬ শতাংশ ভোট, যেখানে বিজেপি ৩৬ শতাংশ ও জেডিএস ১৩ শতাংশ ভোট পেয়েছে। 


কন্নড় ভোটারদের মন জয় করতে আগ্রাসী প্রচার চালায় পদ্ম শিবির। প্রচারঝড়ের দাঁড়িপাল্লায় ওজনে ঝুলে পড়ে বিজেপি। তুলনায় অনেক পিছিয়েছিল কর্নাটকের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। কিন্তু এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ব্যাপক প্রতিষ্ঠান-বিরোধী হাওয়া। বিজেপির দুর্নীতিকে সামনে রেখে লড়াইয়ের ময়দানে নেমেছিল কংগ্রেস। ৪০ শতাংশ কমিশনের সরকার-এই স্লোগানকে হাতিয়ার করে নির্বাচনী প্রচার চালায় কংগ্রেস। পাশাপাশি  কৃষক ক্ষোভ, আকাশছোঁয়া বাজারদর, বেকারি,  শিক্ষা নিয়ে কর্নাটকবাসীর মধ্যে অসন্তোষ ছিল। এই ইস্যুগুলিকেও তুরুপের তাস হিসেবে ব্যবহার করে কংগ্রেস। তার ফল পাওয়া গেল শনিবারই। দক্ষিণ ভারত থেকে হাত-র জাদুতে সাফ হয়ে গেল পদ্ম শিবির। রাজনৈতিক মহলের মতে, কর্নাটকের এই ফলাফলে অনেকাই বেকায়দায় পড়তে পারে বিজেপি। একইসঙ্গে আসন্ন ২০২৪-র লোকসভা ভোটে দেশের কংগ্রেস কর্মীরা বাড়তি অক্সিজেন পাবে বলে মনে করছে একাংশ। 


কর্নাটকে নির্বাচনের প্রচারে বজরং দলের উপর নিষাধাজ্ঞা জারির কংগ্রেসের প্রতিশ্রুতি নিয়ে কটাক্ষ করেছিলেন নরেন্দ্র মোদী। শতাব্দী প্রাচীন দলের বিরুদ্ধে বজরংবলী স্লোগান নিষিদ্ধ করার চেষ্টার অভিযোগ করেছিলেন। নির্বাচনের ফল বের হওয়ার পর বজরংবলী ইস্যুতে মোদীকে পাল্টা কটাক্ষ করল কংগ্রেস। দ্রাবিড়ভূমি দখলের পর বজরংবলীর ছবিতে মিষ্টিমুখ করাতে দেখা গেল কর্মী-সমর্থকদের।


শনিবার সকালে কর্নাটকে EVM খোলার সাথে সাথে প্রথম দিকে কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত ছিল। কিন্তু বেলা যতই গড়িয়েছে নির্বাচনী লড়াই থেকে পিছিয়ে পড়তে থাকে গেরুয়া শিবির। আর প্রধানমন্ত্রীর দল পিছিয়ে পড়তেই, দিল্লির কংগ্রেস দফতরে ভীড় জমাতে শুরু করেন কর্মী-সমর্থরা।


বেলা যত বাড়তে থাকে, ততই বাড়েছে ভীড়। সদর কার্যালয়ে কর্মীরা অকাল হোলিতে মেতে ওঠেন। সেই সঙ্গে চলে মিষ্টিমুখের পালা। এই সময় উৎসাহী কর্মীদের একাংশকে দেখা গেল বজরংবলীর ছবি নিয়ে উৎসবে মেতে উঠতে।


কাউকে কাউকে দেখা যায় বজরংবলীর মুখে লাড্ডু ধরতে। একজন কর্মীকে আবার দেখা যায় হনুমানের গদা হাতে ঘুরে বেড়াতে। সেই সঙ্গে চলে ‘জয় বজরংবলী’ স্লোগান। বিজেপি তথা প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে এক কংগ্রেস কর্মী বলেন, কর্নাটকের ফলাফল প্রমাণ করল বজংবলী কংগ্রেসর পাশে আছেন।


বজরংবলী তাঁদের সঙ্গে আছে বলে যে বিজেপি দাবি করেছে, তারজন্য জরিমানা করা উচিত বলে জানান ওই উৎসাহী কংগ্রেস কর্মী। উল্লেখ্য, কর্নাটকে সাম্প্রদায়িক বিভেদ সৃষ্টির পিছনে বজরং দল এবং ইসলামিক সংগঠন পপুলার ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়া (PFI)-কে দায়ি বলে মনে করে কংগ্রেস। ক্ষমতায় এলে সংগঠনগুলির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে বলে ইস্তাহারে উল্লেখ করেছিল ‘হাত’ শিবির।

এরপরেই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে সরব হয়ে ভোটপ্রচারে ইস্যু করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রামনামের পর এবার কংগ্রেস বজরংবলী স্লোগানের উপর নিষেধাজ্ঞা জারির চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। কংগ্রেসের এই চেষ্টার বিরুদ্ধে কর্নাটকবাসীকে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ডাক দেন।


চাপে পড়ে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে সুর পাল্টায় কংগ্রেসও। নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল দলের একাংশ। কিন্তু সমস্ত আশঙ্কা নস্যাৎ করে কর্নাটকবাসী কংগ্রেসের উপরই আস্থা রাখল। ক্ষমতায় এলে ইস্তাহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি লাঘু করার আশ্বাস দিয়েছিল কংগ্রেস নেতৃত্ব। বজরং দল এবং PFI-এর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় কিনা, এখন সেটাই দেখার।

Your Opinion

We hate spam as much as you do