রাত ১১ টা ৪৫ এ অবিশ্রান্ত বৃষ্টিতে এদের বিপন্নতার খবর এসেছে সল্টলেক ওই অঞ্চলের রেড ভলান্টিয়ার নীহারিকা দেবদত্তা-সৈকতদের কাছে। খবর পাওয়ার সাথে সাথে দুর্যোগ মাথায় নিয়ে রেড ভল্যান্টিয়াররা এদের থাকার ব্যবস্থা করে দেয়। সিপিআইএম বিধাননগর এর কার্য্যালয় 'জনকল্যান ভবন'-এ এই শিক্ষক পদপ্রার্থীদের নিয়ে এসে নিরাপদে থাকার ব্যবস্থা করে দেয়। রেড ভল্যান্টিয়ার সৌরভ, অনীশ বাবানরা যে যার গাড়ি নিয়ে, শুরু করেছিল মিশন রেসকিউ - অবস্থানকারীদের নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়ার কাজ।
দুর্যোগের রাতে সল্টলেকে অবস্থানরত শিক্ষকদের নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছে দিল রেড ভলান্টিয়ার্সরা
newscopes.in 30th july
"হাতে হাত ধরা বৃষ্টির ফোটা সব
মেঘ ভেঙ্গে যখন পৃথিবীতে নামে,
আমরা হাতে হাত ধরে পথে নামি,
আমরা দল বেঁধে গান গাই,
আমরা পবিত্র হই সেই বৃষ্টির স্নানে,
প্রাণ ফিরে আসে সব মৃতপ্রায় ফসলের প্রানে..."
বিরামহীণ অক্লান্ত বর্ষণে আজ ডুবে গেছে বিধাননগর। শহরের কোনো কোনো রাস্তায় হাঁটু জল। পয়ঃপ্রণালী অবরুদ্ধ। বৃষ্টি থামার কোনো লক্ষণ নেই। নাগাড়ে চলছে অঝোর ধারাপাত। ফলে লাফিয়ে বাড়ছে জলতল। বহু বাড়ির একতলায় বইছে জলস্রোত।
এই বৃষ্টিমুখর রাতে করুনাময়ীতে অস্থায়ী প্যান্ডেলে নিজেদের অধিকার আদায়ের দাবিতে অবস্থান করছেন একদল শিক্ষক পদপ্রার্থী। আজ এই ভয়াণক দুর্যোগের রাতে একবারের জন্যেও প্রজন্ম গড়ার এই ভবিষ্যৎ কারিগরদের খোঁজ নিতে আসেন নি প্রশাসনের কোনো আধিকারিক। খোঁজ নেয় নি পুলিশও। মনে রাখা ভাল অবস্থানকারীদের মধ্যে আছেন একাধিক মহিলাও।
না। এরা কেউ নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন। এদের সকলে বাম ডান যেকোনো পক্ষের সমর্থক। কিন্তু এরা শিক্ষকতার জন্য দীর্ঘ সময় ধরে অবস্থান করছে।
রাত ১১ টা ৪৫ এ অবিশ্রান্ত বৃষ্টিতে এদের বিপন্নতার খবর এসেছে সল্টলেক ওই অঞ্চলের রেড ভলান্টিয়ার নীহারিকা দেবদত্তা-সৈকতদের কাছে। খবর পাওয়ার সাথে সাথে দুর্যোগ মাথায় নিয়ে রেড ভল্যান্টিয়াররা এদের থাকার ব্যবস্থা করে দেয়। সিপিআইএম বিধাননগর এর কার্য্যালয় 'জনকল্যান ভবন'-এ এই শিক্ষক পদপ্রার্থীদের নিয়ে এসে নিরাপদে থাকার ব্যবস্থা করে দেয়। রেড ভল্যান্টিয়ার সৌরভ, অনীশ বাবানরা যে যার গাড়ি নিয়ে, শুরু করেছিল মিশন রেসকিউ - অবস্থানকারীদের নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়ার কাজ।
সারা বাংলার রাস্তাঘাট জলে ডুবে গেছে। এর মধ্যে গাড়ি চালানো দুঃসাধ্য ও বিপজ্জনক। গাড়ির দরজার ওপর দিয়ে বইছে জলস্রোত। ফার্স্ট গিয়ারে ইঞ্জিন গোঁ গোঁ শব্দে তীব্র প্রতিবাদ জানাতে জানাতে কোনোক্রমে এগোচ্ছে। ভয় ছিল ইঞ্জিনে জল ঢুকে গাড়ি না থেমে যায়।
সৌরভ-অনীশ-বাবানরা অবশ্য জলমগ্ন রাস্তায় যে কোনো সময় গাড়ির স্টার্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি মাথায় নিয়েই নিজেদের গাড়ি চালিয়ে অবস্থানরত শিক্ষকদের মধ্যে থেকে ১৭ জন মহিলা সহ জনা বিশেক কে পৌঁছে দিলেন জনকল্যান ভবনের নিরাপদ আশ্রয়ে। আর এই গোটা রেসকিউ অপারেশনটি শেষ হ'ল রাত দেড়টার মধ্যেই।
পশ্চিমবঙ্গে রেড ভল্যান্টিয়ারদের কাজ গত মাস চারেক ধরে বিশ্বে বন্দিত। এরই মধ্যে বিধানসভার ফলাফল বামেদের পক্ষে মোটেই সুখকর না হলেও এই সেবা কাজে কোনো বিরাম ছিল না।
শূণ্য পাওয়া দলের সমাজবদলের স্বপ্ন দেখা, মতাদর্শে অবিচল এক ঝাঁক তরুন স্বেচ্ছাসেবক মানবতার প্রতি কি অসম্ভব ভালোবাসায় ঘনঘোর দুর্যোগ মাথায় নিয়ে এমন বর্ষনক্লান্ত মধ্যরাতে নিজেদের বিপদের আশঙ্কাকে তুচ্ছ করে এভাবে ছুটে যেতে পারে আর্তের পাশে দাঁড়াতে তা দেখে অবাক না হয়ে পারা যায় না।
নিঃসন্দেহে এই রেড ভলান্টিয়ার্সরা দলমত নির্বিশেষে এই বাংলার যুবসমাজের অনুপ্রেরণার উৎস।
[ছবি ঋণঃ সৌরভ]
We hate spam as much as you do