রাজার নীতি আজ ভ্রষ্টতা বিবেক চেনায় মৃত্যু, মুখোশ পরা জগৎ নিরব প্রত্যেকে যেন শত্রু।
সবাই জেগে আছে
শঙ্কর ভট্টাচার্য
"এস না মা---
পর্দা সরিয়ে একটু দেখি,
কোন হতভাগ্য চলেছে মৃত্যুর দোরগোড়ায়।"
"খবরদার নয়,
ঘরের আলো পড়বে রাস্তায়।
হয়ত ধেয়ে আসবে লম্পট মাতালের দল"।
'মা' তার অভিজ্ঞতা দিয়ে বোঝায় অবুঝ মেয়েটাকে।
শিঁকলের আওয়াজ রাতের নীরবতা ভাঙে।
এক বন্দী চলেছে রাইখস্টাগের রাস্তা ধরে,
তাকে নিয়েই এমন মহামছিল।
এ পথের শেষ কোথায় জানেনা কেউ।
হয়ত আজ ই গিলে ফেলবে গোটা মানুষটাকে,
নয়ত নামিয়ে দেবে কোন জানোয়ারের খাঁচায়।
খুবলে খুবলে খাবে অভুক্ত শার্দুলগুলো।
হঠাৎ কানে আসে এক কর্কশ কন্ঠস্বর
"লুক স্ট্রেইট, নো রাইট , নো লফট্"
অবাক হয় মেয়েটা,
এতদিনত বাঁয়ে তাকানো ছিল মানা
হুকুম ছিল----
'ঈশ্বরের সেবক যারা,শুভকর্মে যারা আগুয়ান
বাঁ চোখ রেখ বন্ধ করে,সোজা পথে কর আত্মবলিদান'।
আরও একটা বেসুরো আওয়াজ কানে আসে,
কেউ সুর করে কিছু পড়ার চেষ্টা করে।
হয়ত বন্দীর অপরাধের বিবরন।
সবটা শুনে মেয়েটা এক ঢোক জল খায়।
ঐ একই কারন অন্য কিছু নয়,
অন্য অপরাধীদের মতন এই লোকটাও মানেনি
ঈশ্বরের চেয়েও শক্তিমান এক মানুষকে।
আকাশের দিকে হাত ছুড়ে বলেনি
"হায় ই হিটলার"।
গতকালই মেয়েটা দেখেছে
এক অভিনব শোভাযাত্রা,
কবি,লেখক,শিল্পী,সাহিত্যিক,দার্শনিক
অথবা রাজনীতির পোড় খাওয়া নেতা
আকাশের দিকে হাত পা ছুড়েছে বিস্তর,
থেমে থেমেই শব্দের বিস্ফোরন
'হায় ই হিটলার'।
পিছনের এক পেল্লায় রথে
এক মহাপুরুষ,নগরের অধিকর্তা,
হাসি হাসি মুখ করে বলে
"পার পাবেনা কেউ,আরও কেউ আছে নাকি?
কে আছে এমন আমার চোখকে দেবে ফাঁকি?
কলেজের এক ছোঁড়া
সে আবার খানিক কাব্যি করে বলে
"এ পাশে চাঁদের পাহাড়, ওপাশে কেবল গুঁতো,
ধন,যশ,মান ছেড়ে কি করে বাঁচবে ভুতো?"
আরও কোন ঘরে
বৃদ্ধ মুলার তার নাতিকে ছড়া শোনায়,
"রাতের আঁধার গাঢ় হয়ে এলে
হায়নার চোখ জ্বলবে,
নিশীথ রাতের অন্ধকারে তাঁরই আইন চলবে"।
এবার মেয়েটা পর্দা সরাতেই
এক ঝলক আলো ঢোকে ঘরে।
সাথে পিশাচের উল্লাস।
মৃত্যুর কি বর্নাঢ্য শোভাযাত্রা ।
হঠাত্ চোখ যায় ডাইনে বাঁয়ে
এপাশে-ওপাশে,ওপরে-নীচে,
সব ঘরেতেই একটু করে আলো জ্বলছে।
মেয়েটার মুখে হাসির টোল পড়ে,
আসলে সবাই জেগে আছে।
অণুগল্প
সৌম্য ঘোষাল
ওগো,ওঠো, একটা ভালো খবর আছে, এই যে তোমার অফিসের কাজের মানসিক চাপে রাতে ঘুম আসতে আসতে বারোটা/একটা হয়ে যায় তার একটা ওষুধ পেয়ে গেছি গো, আজ থেকে দুপুরেরগুলোও অফিস থেকে ফিরে আর রাতেরগুলো রাতে খাবার পর - ব্যাস; ভদ্রলোক ঘুম ভেঙে উঠে স্ত্রীর মুখের দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইলেন।
মহারণ
দেব চক্রবর্তী
অর্থ চেনায় পৃথিবীটা কার
যুদ্ধ চেনায় কামান,
মানুষ চেনায় পাশবিকতা
হিংসাটা দাদা কমান।
দেশ বলে কার সীমানা কতটা
পতাকা চেনায় ক্ষমতা,
বিদেশ চোখে পরাধীনতা
হিংসা ছড়ান জনতা।
কাম-হর্ষ নারীর মূল্য
আমরা তো জানি নারীও সমান,
পুরুষ চেনায় নারীও খাদ্য
হিংসাটা দাদা কমান।
ধর্ম চেনায় মানুষে বিভেদ
সমাজে ব্যক্তি মহান,
জাতি চিনিয়েছে বজ্জাতি যত
দাদা হিংসাটা শুধু থামান।
বারুদ চেনায় হাতের থাবা
আকাশ চেনায় যুদ্ধ ,
বিজ্ঞান আজ পরাবাস্তব
শান্তি যে অবরুদ্ধ।
শিক্ষা চেনায় বেকারত্ব
অজ্ঞ চেনায় বিধান,
শিশুটি চেনায় শিশু-শ্রমিক
দাদা, হিংসাটা শুধু থামান।
রাজার নীতি আজ ভ্রষ্টতা
বিবেক চেনায় মৃত্যু,
মুখোশ পরা জগৎ নিরব
প্রত্যেকে যেন শত্রু।
বিশ্ব চেনায় দুর্বিশ্বায়ন
আধুনিকতায় প্রাণ
একবিংশ বিকোয় মারণ
দাদা, হিংসাটা শুধু কমান।
অতীতের হিত মহান কাব্য
বর্তমানে ম্লান
ভবিষ্যতে শূন্য পৃথিবী
হিংসাটা শুধু থামান॥
We hate spam as much as you do