Tranding

11:48 AM - 04 Feb 2026

Home / Entertainment / পুজোর খাওয়া দাওয়া, মহাষ্টমীর ভোগ নানা যায়গায় নানা স্বাদের।

পুজোর খাওয়া দাওয়া, মহাষ্টমীর ভোগ নানা যায়গায় নানা স্বাদের।

মহাষ্টমীর সকালে খাওয়া হবে খিচুড়ি, লাবড়া, মিষ্টিকুমড়ার ছক্কা, মুচমুচে কুমুড়ি, চাটনি, দই। রাতে লুচি, বেগুন ভাজা, আলুর দম, রাবড়ি, রসগোল্লা এসব।

পুজোর খাওয়া দাওয়া, মহাষ্টমীর ভোগ নানা যায়গায় নানা স্বাদের।

মল্লিকবাড়ির পুজোর ছবি

পুজোর খাওয়া দাওয়া, মহাষ্টমীর ভোগ নানা যায়গায় নানা স্বাদের। 


আজ মহাষ্টমী। দুর্গাপুজোয় প্রত্যেক দিন সকালে পুজোর শেষ পর্বে এবং সন্ধ্যায় থাকে মঙ্গলারতি। তার পর পুষ্পাঞ্জলি।


পুরোহিত মহাশয়ের মন্ত্রোচ্চারণ শুনে শুনে 
পুস্পাঞ্জলী দেবার পর  প্রণাম-মন্ত্র—


সর্বমঙ্গলমঙ্গল্যে/ শিবে সর্বার্থসাধিকে/ শরণ্যে ত্রম্বকে গৌরী/ নারায়ণি নমোহস্তু তে!!/ সৃষ্টিস্থিতিবিনাশানাং/ শক্তিভূতে সনাতনি/ গুণাশ্রয়ে গুণময়ে/ নারায়ণি নমোহস্তু তে!!/ শরণাগতদীনার্ত/ পরিত্রাণপরায়ণে/ সর্বস্যর্তিহরে দেবি/ নারায়ণি নমোহস্তু তে!!

 

এই ক্ষেত্রে ভোগ খুব জরুরী। আর অনেকের মতে ধুতি পাঞ্জাবী পরে ভোগ খাওয়ার মজাই আলাদা।

 

নৈবেদ্য ছাড়াও অনেক ক্ষেত্রে রান্না করা যে খাদ্যসামগ্রী দেবতাকে নিবেদন করা হয় তাকে বলে ভোগ! নৈবেদ্যর প্রকৃতি সব ধরনের পুজোতে প্রায় এক রকম, 

 

কিন্তু বর্ণভেদ ও লোকাচার অনুসারে রান্না করা ভোগ নিবেদনে কিছু পার্থক্য দেখা যায় বিভিন্ন পুজোয়! সাধারণ ভাবে পশ্চিমবঙ্গে রান্না করা অন্ন ভোগ (অর্থাৎ খিচুড়ি, তরকারি ইত্যাদি) নিবেদন করা হয় কেবলমাত্র ব্রাহ্মণ বাড়ির পুজোয়! 

 

আর অ-ব্রাহ্মণ পরিবারে দেওয়া হয় লুচি ও পাঁচ রকম ভাজা! কিন্তু পূর্ববঙ্গের অনেক অ-ব্রাহ্মণ পরিবারেও অন্নভোগ নিবেদনের রীতি দেখা যায়! কিন্তু বারোয়ারি-সর্বজনীন পুজোগুলির ক্ষেত্রে অন্নভোগ দেবতাকে নিবেদন করবার প্রথা বহুল প্রচলিত।

 

সপ্তমী পেরিয়ে আজ মহাষ্টমী ও আগামীকাল মহানবমী। ধূপধুনো, ঢাকের বাদ্যি আর শরৎশুভ্রতায় চলছে দুর্গাপূজা। একই সঙ্গে চলছে ভোগ নৈবেদ্য আর ভূরিভোজ। হরেক পদের খাবার ছাড়া দুর্গাপূজা আসলে জমে না। রাজসিক এ পূজার প্রতিটি পর্বে আছে ভোগের আলাদা নিয়ম। সেই সঙ্গে খাবারদাবারে আছে আঞ্চলিক ভিন্নতা।


মহাষ্টমীর সকালে খাওয়া হবে খিচুড়ি, লাবড়া, মিষ্টিকুমড়ার ছক্কা, মুচমুচে কুমুড়ি, চাটনি, দই। রাতে লুচি, বেগুন ভাজা, আলুর দম, রাবড়ি, রসগোল্লা এসব। 


কোনো কোনো অঞ্চলে, যেমন উত্তরবঙ্গে বিভিন্ন কারনে লুচি খাওয়া হবে সকালে। দুপুরে খিচুড়ি ও অন্যান্য খাবার। রাতে খিচুড়ি বা ভাত, নিরামিষ তরকারি দিয়ে।

নারকেলের কোনো পদ মহাষ্টমীতে বানানো হবে না। এর বিভিন্ন ব্যাখ্যা আছে বিভিন্ন জনের কাছে। একটি সরল ব্যাখ্যা হলো, অষ্টমী তিথিতে শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিন। তাই এদিন নারকেল খাওয়া হবে না। সে যাক, নারকেল ছাড়াও এদিন জমে যায় বিশেষ করে লুচি আর লাবড়ায়। সঙ্গে যদি থাকে মিষ্টি, তাহলে তো কথাই নেই। ভোগের প্রসাদে পায়েস থাকে। তাই অষ্টমী ও নবমীতে খাবারে পায়েস থাকে সাধারণভাবে।

কোনো কোনো অঞ্চলে নবমীতে বানানো হয় নারকেলের নাড়ু। আবার কোনো অঞ্চলে নাড়ু বানানো হয় পঞ্চমীতে। প্রচলিত আছে, ঢাকে কাঠি পড়ে গেলে আর গুড়ের পাক দেওয়া যায় না। নবমীতে নাড়ু থাকবে। সঙ্গে থাকবে নিরামিষ খিচুড়ি। মহাষ্টমী ও মহানবমীতে ভোগ হয় রাজসিক গুণে। উত্তম নিরামিষ উপাচারে ভোগ দেওয়া হয় দুর্গাকে উদ্দেশ করে। হয় মহাপ্রসাদ। ফলে অষ্টমী ও নবমীর খাবারে খিচুড়ি থাকবে। সঙ্গে থাকবে সবজি কিংবা পাঁপড় ভাজা, লাবড়া। সঙ্গে পায়েস।

পুরুলিয়ায় বিলুপ্ত রাজবাড়িতে পঞ্চব্যঞ্জনে আজও থালা আসে রাজরাজেশ্বরীর ঠাকুর দালানে। এখানকার পদ কিছুটা অন্যরকম। অষ্টমীতে নিরামিষ হলেও নবমীতে জমিয়ে মাছ মাংসের নিবেদন।

 সেখানেই থালা ছাড়া বাকি ভোগের অংশ ঠাকুরকে নিবেদন করা হয়। লক্ষ্মী ভোগ চালের ভাত, কোনকা শাক, অরহর ডাল, বড়ি, কুঁদরি, পটল, আলু, বেগুন ভাজা, পাঁচমেশালি সবজি, আলু-কুমড়োর তরকারি, মাছ ভাজা, বলির পাঁঠার মাংস, পায়েস, বোঁদে, রসগোল্লা, সন্দেশ। পুরুলিয়ার কাশীপুরের পঞ্চকোট রাজপরিবারের পঞ্চব্যঞ্জনের পরম্পরা আজও অটুটু।  

 

রাজ্য মৎস্য উন্নয়ন নিগমের উদ্যোগে একবার দেবীর ভোগে ছিল মোহন পোলাও, বেগুন ভাজা, শোল পোড়া, মাগুর মাছের টক ও পায়েস।
শোনা যায় বর্ধমানের সর্বমঙ্গলা মন্দির কিংবা চিল্কিগড়ের কনকদুর্গার মন্দিরে দুর্গাকে মাছের ভোগ দেওয়া হয়।  পুজোর ভোগের মতোই মালসা ও শালপাতায় মুড়ে।

Your Opinion

We hate spam as much as you do