সোমবার প্রায় সাড়ে ৩০০ চাকরিপ্রার্থী কলকাত হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছিলেন। তাঁদের দাবি ছিল, যে নিয়োগ পরীক্ষা হতে চলেছে, সেখানে অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে। কমিশনের বিরুদ্ধে নিয়ম না মেনে তালিকা প্রকাশের অভিযোগ এনে ওই প্রার্থীদের একাংশ চান, তাঁদের আবার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হোক। কিন্তু মঙ্গলবার এই মামলার শুনানিতে হাইকোর্ট প্রশ্ন তোলে, এতদিন তাঁরা কোথায় ছিলেন?
SSC অযোগ্যদের মামলায় হাইকোর্টের মত 'তালিকা প্রকাশের পরও বলছেন অযোগ্য নন?'
2 September 2025
নতুন করে পরীক্ষায় (Exam) বসার অনুমতি চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেছিল দাগি চাকরিহারাদের (Tainted Candidate) একাংশ। বলা হয়েছিল, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে নয় বরং ‘অস্বচ্ছ’ পদ্ধতিতেই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু এই আর্জিতে সাড়া দিল না রাজ্যের উচ্চ আদালত। দাগিদের মামলাই খারিজ করে দিল হাইকোর্ট। বক্তব্য, এসএসসির তালিকায় (SSC List) হস্তক্ষেপ করার জন্য এটি উপযুক্ত মামলা নয়।
আগামী ৭ ও ১৪ সেপ্টেম্বর নতুন নিয়মে নিয়োগ পরীক্ষা হতে চলেছে। তাতে বসতে চেয়েই কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন দাগি চাকরিহারাদের একাংশ। তবে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়েছেন, পরীক্ষায় বসতে পারবেন না মামলাকারী দাগিরা। পাশাপাশি তাঁদের ভর্ৎসনাও করে হাইকোর্ট।
সোমবার প্রায় সাড়ে ৩০০ চাকরিপ্রার্থী কলকাত হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছিলেন। তাঁদের দাবি ছিল, যে নিয়োগ পরীক্ষা হতে চলেছে, সেখানে অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে। কমিশনের বিরুদ্ধে নিয়ম না মেনে তালিকা প্রকাশের অভিযোগ এনে ওই প্রার্থীদের একাংশ চান, তাঁদের আবার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হোক। কিন্তু মঙ্গলবার এই মামলার শুনানিতে হাইকোর্ট প্রশ্ন তোলে, এতদিন তাঁরা কোথায় ছিলেন?
মামলাকারীদের উদ্দেশে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের প্রশ্ন, “তালিকা প্রকাশ হওয়ার পরেই কেন আদালতে আসছেন? সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে। তার পরেও কীভাবে বলছেন অযোগ্য নন?” শুনানিতে বিচারপতি একাধিকবার প্রশ্ন তোলেন অযোগ্য ঘোষিত প্রার্থীদের আইনজীবীদের উদ্দেশে। তিনি বলেন, “যথেষ্ট হয়েছে। আর নয়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে তালিকা প্রকাশের পর দাগিদের পরীক্ষায় বসার দাবি কীভাবে তুলছেন?”
অযোগ্য প্রার্থীদের পক্ষে অনিন্দ্য লাহিড়ি যুক্তি দেন, ডিভিশন বেঞ্চের শর্ত অনুযায়ী তাঁর মক্কেলরা দাগি নন। তিনি বলেন, তাঁরা সাদা খাতা জমা দেননি, অন্তত একটি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। ফলে পরীক্ষায় বসার অধিকার থাকা উচিত।
কিন্তু এসএসসির পক্ষের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, এঁরা সকলেই দাগি অযোগ্য। ওএমআর শিট কারচুপির প্রমাণ মিলেছে। তিনি স্পষ্ট বলেন, “এই প্রার্থীরা র্যাঙ্ক জাম্প করে চাকরি পেয়েছেন। সিবিআইয়ের দেওয়া তালিকা মিলিয়ে আমরা নিশ্চিত হয়েছি।”
বিচারপতি ফের প্রশ্ন তোলেন, “সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্কুলে যাননি কেন? তখন আদালতে আসেননি কেন?”
মামলাকারীদের আইনজীবী পাল্টা যুক্তি দেন, যোগ্য-অযোগ্যর সমস্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। তবু তাঁদের অ্যাডমিট কার্ড দেওয়া হয়েছিল। পরে কেন তা বাতিল করা হল, সেটাই প্রশ্ন।
শেষ পর্যন্ত কলকাতা হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয় - অযোগ্যদের তালিকা নিয়ে আদালত হস্তক্ষেপ করবে না। ফলে চাকরি হারানো প্রার্থীরা নতুন করে ধাক্কা খেল আদালতে।
We hate spam as much as you do