কর্নওয়ালিস কোডের প্রধান বিষয় ছিল চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত। এই বন্দোবস্তের অধীনে জমিদারকে জমির একচ্ছত্র মালিক বলে ঘোষণা করা হয়। মালিক হিসেবে জমিদার তার ভূসম্পত্তি অবাধে হস্তান্তর বা দান করার অধিকার লাভ করেন। জমিদারির ওপর সরকারি রাজস্ব ঘোষণা করা হয়। চুক্তি মোতাবেক সরকারি রাজস্ব পরিশোধে ব্যর্থ হলে জমি নিলামে বিক্রয় করে বকেয়া আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়। প্রথমে বাংলায় এই কোড চালু হয়েছিল এবং পরে মাদ্রাজে এই কোড অনুসরণ করা হয়। এই কোডে ভারতীয়দের চাকরিতে উচ্চপদ না দেওয়া, বা সরকারি অফিস থেকে বঞ্চিত করার কথাও বলা রয়েছে।
২৩০ বছর পর বাতিল কর্নওয়ালিস কোড, সম্মতি দিলেন রাজ্যপাল
1st aoril 2023,
ব্রিটিশ শাসনের সময় ভারতের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল লর্ড কর্নওয়ালিস ১৭৯৩ সালে আইন জারি করেছিলেন। যা কর্নওয়ালিস কোড নামে পরিচিত। কিন্তু, ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্তি পাওয়ার পরেও এখনও পর্যন্ত সেই আইন কাগজে কলমে রয়ে গিয়েছিল। অবশেষে ২৩০ বছর পর সেই কোড বাতিল হল। বুধবার রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস রাজ্য বিধানসভায় পাস হওয়া ওয়েস্ট বেঙ্গল ল্যান্ড লজ (রিপেলিং) বিল, ২০২৩-এ সম্মতি দিয়েছেন।
কর্নওয়ালিস কোডের প্রধান বিষয় ছিল চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত। এই বন্দোবস্তের অধীনে জমিদারকে জমির একচ্ছত্র মালিক বলে ঘোষণা করা হয়। মালিক হিসেবে জমিদার তার ভূসম্পত্তি অবাধে হস্তান্তর বা দান করার অধিকার লাভ করেন। জমিদারির ওপর সরকারি রাজস্ব ঘোষণা করা হয়। চুক্তি মোতাবেক সরকারি রাজস্ব পরিশোধে ব্যর্থ হলে জমি নিলামে বিক্রয় করে বকেয়া আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়। প্রথমে বাংলায় এই কোড চালু হয়েছিল এবং পরে মাদ্রাজে এই কোড অনুসরণ করা হয়। এই কোডে ভারতীয়দের চাকরিতে উচ্চপদ না দেওয়া, বা সরকারি অফিস থেকে বঞ্চিত করার কথাও বলা রয়েছে।
রাজ্যপাল টুইট করে জানিয়েছেন, এই কঠোর আইন ভারতীয় জনগণের স্বার্থের জন্য ক্ষতিকারক বলে প্রমাণিত হয়েছে। তা বাতিল করা হয়েছে। পরামর্শের ভিত্তিতে রাজ্য আইন কমিশন এবং রাজ্য আইন বিভাগ, এই আইনগুলি প্রথমে চিহ্নিত করে এবং পরে রাজ্য বিধানসভা এই আইন বাতিল করার জন্য একটি বিল পাস করা হয়। রাজ্যপাল সেই বিলে সম্মতি দেওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই বাতিল হয়ে গেল কর্নওয়ালিস কোড। উল্লেখ্য, ১৭৯৩ সালে ভারতের ব্রিটিশ গভর্নর জেনারেল লর্ড কর্নওয়ালিস ৪৮টি রেগুলেশন বা আইন জারি করেন। সেগুলিতে বলা হয় কর্নওয়ালিস কোড। এই কোডের মাধ্যমে বকেয়া খাজনা আদায়ের জন্য প্রজাদের দৈহিক নির্যাতন করার চিরাচরিত প্রথা নিষিদ্ধ করা হয় এবং জমিদারদের সকল দাবি আদায়ের জন্য বলপ্রয়োগের পরিবর্তে আদালতের আশ্রয় নেওয়ার বিধান করা হয়।
We hate spam as much as you do