রঘুনাথগঞ্জ এসে পৌঁছন রাহুল গান্ধী। কংগ্রেস সমর্থকদের সঙ্গেই লাল ঝান্ডা হাতে বাম কর্মীরা যোগ দিলেন ন্যায় যাত্রায়। মহম্মদ সেলিম বলেন, “২০২৪ গোটা দেশের জন্য একটা বড় সময়। সংগ্রামের সময়। আজকে দাঁড়িয়ে সব থেকে বড় প্রশ্ন সংসদীয় গণতন্ত্র থাকবে কি না। আর এই গণতন্ত্রকে বাঁচাতেই আমরা একদিকে।”
'গণতন্ত্র বাঁচানোর বার্তা' নিয়েই রাহুলের সাথে সেলিম সুজনের সাক্ষাৎ
Feb 02, 2024
‘লড়াই আরএসএস, বিজেপির বিরুদ্ধে। মমতা ব্যানার্জি আরএসএসের বিরুদ্ধে না বলে রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস, অধীর চৌধুরি, সেলিমের বিরোধীতা করে যাচ্ছেন কেন?’’ মূর্শিদাবাদে রাহুল গান্ধীর ভারত জোড় ন্যায় যাত্রায় অংশ নিয়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরিকে পাশে নিয়ে একথা বললেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম।
বাংলায় ঢুকেছে কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীর ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা। কোচবিহার হয়ে এই ন্যায় যাত্রা বৃহস্পতিবার পৌঁছেছে কংগ্রেসের গড় মুর্শিদাবাদে। বুধবার বাংলা-বিহার সীমান্তের কাছে রাহুলের যাত্রা যখন পৌঁছয়, সেই সময় তাঁর গাড়িতে হামলার অভিযোগ ওঠে। গাড়ির পিছনের কাচ ভেঙে যায়। যদিও, বিষয়টিকে হামলা বলতে নারাজ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব।
জয়রাম রমেশ বলেছেন, “ইন্ডিয়া জোটের সব বৈঠকে সব সময়ই বামপন্থীরা ছিলেন। ২৭ পার্টির তালিকায় বামেরা ছিল।”
জয়রাম রমেশ বলেছেন,”মোদী-অমিত শাহ উৎপীড়নের রাজনীতি করছেন। প্রতিশোধের রাজনীতি করছেন।বিপক্ষের একতা ভাঙতে পার্টিগুলিকে কালিমালিপ্ত করছেন। ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রাকে আটকাতে এ সব করেছেন।”
গতকাল ঝাড়খন্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের গ্রেফতারি প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন, “আমরা বিহারে প্রবেশ করার আগে নীতিশকে পাল্টি খাওয়াল। এবার আমরা ঝাড়খণ্ডে ঢুকব তার আগে হেমন্ত সোরেন গ্রেফতার হলেন।”
কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ আজ আবারও ইন্ডিয়া জোটের পক্ষে সওয়াল করেছেন। বলেছেন, “পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বারে-বারে বলেছেন উনি ইন্ডিয়া জোটে রয়েছেন। কংগ্রেস স্বাগত জানায়। কংগ্রেস এবং তৃণমূল একসঙ্গেই রয়েছে।”
রঘুনাথগঞ্জ এসে পৌঁছন রাহুল গান্ধী। কংগ্রেস সমর্থকদের সঙ্গেই লাল ঝান্ডা হাতে বাম কর্মীরা যোগ দিলেন ন্যায় যাত্রায়। মহম্মদ সেলিম বলেন, “২০২৪ গোটা দেশের জন্য একটা বড় সময়। সংগ্রামের সময়। আজকে দাঁড়িয়ে সব থেকে বড় প্রশ্ন সংসদীয় গণতন্ত্র থাকবে কি না। আর এই গণতন্ত্রকে বাঁচাতেই আমরা একদিকে।”
রাহুলের বাস যাত্রায় উপস্থিত রয়েছে প্রদেশ কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। রাহুলকে দেখতে কার্যত ভিড় কংগ্রেস নেতা-কর্মীদের মধ্যে।
কংগ্রেসের এই ন্যায় যাত্রা কর্মসূচি সিপিএম তাদের পাশে থাকবে এ কথা আগেই জানিয়েছিল। সেই মতো গতকাল মালদহর জনসভায় উপস্থিত ছিলেন শতরূপ ঘোষ। আর মুর্শিদাবাদের ন্যায় যাত্রায় উপস্থিত থাকেন সুজন চক্রবর্তী ও মহম্মদ সেলিম।
জঙ্গীপুরের পিয়ারাপুরের আমবাগানে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে কথা হয় সিপিআই (এম) নেতৃত্বের । ছিলেন মহম্মদ সেলিম, সুজন চক্রবর্তী, জামির মোল্লা, শতরূপ ঘোষ, সোমনাথ ভট্টাচার্য।
সেলিম বলেন, ‘‘আমরা চেষ্টা করছি গোটা দেশে বিজেপি বিরোধী দল গুলোকে ঐক্যবদ্ধ করার। এই রাজ্যে মমতা পিছন থেকে সেই ঐক্যকে ভাঙছে। বামপন্থীরা এবং কংগ্রেস প্রথম থেকেই আরএসএসের বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছে। তৃণমূলের জন্ম আরএসএসের সাহায্য। ওরা আরএসএসের বিরুদ্ধে যেতে পারবে না। কারণ ওরা কংগ্রেস ভেঙে তৈরি হয়েছে বিজেপির সাথে যাওয়ার জন্য।’’ তিনি বলেন, ‘‘তৃণমূলের লাশ আমরা বহন করবো না।’’
মমতা ব্যানার্জি প্রতিটি সভা থেকে লাগাতার আক্রমন করছেন বামপন্থীদের এবং কংগ্রেসকে। বামপন্থী এবং কংগ্রেসের ওপর জোট ভাঙার দায় চাপাতে চাইছেন তিনি। এই প্রসঙ্গে সেলিম বলেন, ‘‘এখন উনি বাহানা করছেন অন্যকে দোষ দিচ্ছেন নিজের ভাইপোকে বাঁচানোর জন্য। মমতা অধীর বা সেলিমের কাঁধে বন্দুক রাখতে চাইছ, আমরা মমতার মতো ভাড়ায় খাটি না।’’
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরি বলেন, ‘‘সবাই জানে গায়ের জোড়ে পঞ্চায়ের দখল করেছে তৃণমূল। ভোট লুঠ করেছে। লোকসভা নির্বাচনে ওদের ভোট লুঠ করতে দেবো না।’’
এদিন ভারত জোড় ন্যায় যাত্রা কর্মসূচি থেকে ইডি সিবিআইয়ের ভূমিকা নিয়ে বিজেপিকে আক্রমণ করেন সেলিম। তিনি বলেন, ‘‘এই রাজ্যে একজন শাহজাহানকে ধরতে পারে না ইডি, সিবিআই। অন্যদিকে রাতারাতি একজন মুখ্যমন্ত্রীকে ধরে নিল। চিদাম্বরমের বাড়ির পাঁচিল টোপকে সিবিআই ঢুকে গেলো। আর অভিষেক ব্যানার্জিকে নিয়ে কিছু বলছে না। বোঝাই যাচ্ছে সেটিং কোথায় হয়ে আছে।’’
আসামে রাহুলের এই পদযাত্রার ওপর বার বার আক্রমণ হয়েছে। এই রাজ্যেও প্রশাসনের বিরুদ্ধে বার বার অসহযোগীতার অভিযোগ উঠেছে। সেই প্রসঙ্গ টেনে সেলিম বলেন, ‘‘আসামে হেমন্ত বিশ্বশর্মা যেই রুট দেখিয়েছে সেটা মানছে মমতা ব্যানার্জি। আমরা আজ এখানে এসেছি বার্তা দিতে যে আমরা ন্যায়ের পক্ষে আছি।
We hate spam as much as you do