গ্যালিলিও দেখিয়ে দিয়েছে সূর্য দাঁড়িয়ে পৃথিবী ঘুরছে। এখন দেখছি শাসকের চার পাশে চোর দালালরা ঘোরে। চাকরি থেকে ওষুধ সব জায়গায় দুর্নীতি। রাজ্যের মন্ত্রী চাল চুরি করেছে। সব জায়গা লুটে পুটে নষ্ট করেছে। সম্মেলনে আলোচনা হয়েছে গোটা দুনিয়াতে যারা মানুষকে পিষে মারতে চায় তার বিরুদ্ধে মানুষ এক হচ্ছে। খেটে খাওয়া মানুষ ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। বিদেশ থেকে ভারতীয়দের যখন শিকল পরিয়ে পাঠালো তখন কোন কথা নেই। মোদী ট্রাম্পের কাছে মাথা নুইয়ে রেখেছে
ডানকুনিতে CPI(M) রাজ্য সম্মেলনের সমাবেশ উপচে পড়ল মাঠের এপার ওপার
25 Feb 2025
ডানকুনি স্পোর্টিং ক্লাবের মাঠ উপচে পড়ল। মাঠ ছাপিয়ে ভিড় ছড়িয়ে গেল ডান দিকে-বাঁ দিকে প্রায় এক কিলোমিটার। কিন্তু মাঠের ভিতরে ২২ গজ ফাঁকা রাখা হল। ডানকুনি স্পোর্টিং মাঠে ক্রিকেট খেলা হয়। পিচ যাতে নষ্ট না হয় সে কারণে ওই অংশটি লাল কাপড় দিয়ে ঘিরে দিয়েছিল পার্টির আয়োজকেরা ।
প্রকাশ্য সমাবেশে তখন সবেমাত্র দেবলীনা হেমব্রমের বক্তৃতা চলছে। তারই মধ্যে সিপিএমের হুগলি জেলা সম্পাদক দেবব্রত ঘোষের কাছে বার্তা এল পুলিশের তরফে। বলা হল, আপনারা ঘোষণা করে দিন, মাঠে আর লোক ধরবে না। আরও যাঁরা আসছেন তাঁরা যেন রাস্তাতেই দাঁড়িয়ে পড়েন। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অভ্যর্থনা সমিতি ঘোষণা করল, ‘‘কমরেড, আপনারা দাঁড়িয়ে পড়ুন। আর মাঠের দিকে আসবেন না।’’ দীর্ঘ পথে লাগানো ছিল লাউডস্পিকার। ফলে বক্তৃতা শুনতে কারও অসুবিধা হয়নি।
মঙ্গলবার সিপিআই(এম)’র ২৭তম পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সম্মেলনের প্রতিনিধি অধিবেশনের সমাপ্তির পর ডানকুনি ফুটবল ময়দানে প্রকাশ্য সমাবেশ শুরু হয়। সমবেশে মঞ্চে মহম্মদ সেলিম বলেন, আজকের সমাবেশ প্রমাণ করছে সিপিআইএম ছিল আছে থাকবে। কিছু এনজিও, মিডিয়া ভেবেছিল আমাদের মুছে দেওয়া যাবে, কিন্তু না। শহীদের কলজের রক্ত দিয়ে লাল ঝান্ডা তৈরি হয়েছে। কৃষক, সংখ্যালঘু, সবার জন্য লড়াই করে সিপিআই এম তৈরি হয়েছে। ৫৫০’র বেশি প্রতিনিধি সম্মেলনে ছিলেন। সমাজের সব অংশের মানুষ ছিলেন। পাহাড় থেকে এসেছিলেন অনেকে। যারা ভেবেছিল সিপিআই এম শেষ তারা লিখছে কি খাওয়া হয়েছে সম্মেলনে। আর যখন ফাইভ স্টার হোটেলে হয়, দিল্লি নবান্ন থেকে উপহার আসে তখন কিছু হয় না। তার বন্দনা করা হয় আমরা মানুষকে নিয়ে লড়াই করি, তাদের থেকে রসদ জোগাড় করি। আমরা ইলেক্টোরাল বন্ড নি না। মানুষের টাকায় পার্টি চালাই।
ওরা বিভিন্ন সংস্থার থেকে টাকা নিয়েছে ভোটের সময় আর আমাদের তার ট্যাক্স দিতে হচ্ছে। আমরা মামলা করেছিলাম। তারপর যখন নাম প্রকাশের কথা এলো বললো নাম দেবে না। মোদী সরকার আড়াল করতে চেয়েছিল। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের কোথায় নাম প্রকাশ করেছে। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য চেয়েছিলেন রাজ্যের মানুষের মেধা দিয়ে রাজ্য গড়তে। বামফ্রন্টের সময় স্কুল হয়েছে, তৃণমূল স্কুল তুলে দিচ্ছে। বিজেপি বলছে বিকাশ, মোদী বলছে উন্নয়ন একই কথা সাইন বোর্ড আলাদা। আর জি কর কাণ্ড দেখিয়ে দিয়েছে কলকাতা পুলিশ আর সিবিআই’বের রূপ। দিল্লি থেকে কলকাতা সত্য প্রকাশ করতে চায় না। আমরা বলছি সব প্রকাশ করতে হবে। এই চন্দননগরে একজন নারির মৃত্যু হয়েছে। মমতা কিছু বলছে না। আমি এবং মীনাক্ষী সভাশেষে চন্দন নগরে ওই মেয়েটির বাড়ি যাবো। গত তিন বছর মানুষকে সংগঠিত করার চেষ্টা করেছি। ওরা মানুষকে ভাগ করতে চাইছে। দাঙ্গা হাঙ্গামা করছে। যে দাঙ্গা করলো তাকে মোদী পদ্মশ্রী দিল। আমাদের এর বিরুদ্ধেই লড়াই করতে হবে। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বলেছিলেন দাঙ্গাবাজদের মাথা গুড়িয়ে দিতে হবে। আমরা বলছি গুন্ডা দাঙ্গাবাজের কোন স্থান হবে না এই রাজ্যে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে দাঙ্গা হয়েছে। আমাদের সজাগ থাকতে হবে। কোন দাঙ্গা করতে দেওয়া হবে না। ধর্ম আর রাজনীতিকে আলাদা রাখতে হবে। বাংলাদেশে ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক শক্তি ক্ষমতায় আসার পর সংখ্যালঘু, বিরোধী দলের লোকেরা আক্রান্ত হচ্ছেন। আমার আমাদের দেশেও এই ঘটনা দেখেছি। বাংলাদেশে যারা সংখালুগুদের হয়ে লড়ছে আমরা তার পাশে। এই রাজ্যে আমাদের সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। আমাদের দেশ বহুত্ববাদী। আরএসএস গোটা দেশে জাত নিয়ে বিভাজন করছে। আর মমতা বলেছিল আমাদের বিরুদ্ধে বিজেপিকে নিয়ে লড়াই করবে। আজ ওরা জোট করে চেপে বসেছে। বিজেপিকে দিয়ে তৃণমূলকে হটানো যাবে না, আর জি কর প্রমাণ করেছে। মোহন ভগবৎ বললো এই বিষয় তারা রাজ্যকে সমর্থন করবে, তার পর থেকে এক রিপোর্ট, একে এক করে সবাই ছার পাচ্ছে। জিনিসের দাম বেড়েছে। কৃষকেরা দাম পাচ্ছে না। আচ্ছেদিন না সর্বনাশ ডেকে এনেছে মোদী মমতা। আগামী ২০ এপ্রিল ব্রিগেড সমাবেশ, গরিব মানুষের সমাবেশ হবে। আগামী ২০ এপ্রিল ব্রিগেড ভরানোর আগে নিজের পাড়ায় মহল্লায় লড়াই হবে প্রতিদিন লড়াই হবে। পঞ্চায়েত নির্বাচনে বলেছিলাম চোর ধরো জেল ভরো, সেই নির্বাচনে প্রতিরোধের স্পৃহা জেগেছিল। বাইনারী ভেঙে গিয়েছিল। সিপিআই(এম)কে শক্তিশালী করতে হবে, বামপন্থী ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। মানুষকে সাথে নিয়ে আমাদের চলতে হবে। মানুষ আমাদের পাশে এসেছে। ২৬ থেকে ২৬ এর লড়াই শুরু করবো।
সিপিআইএম সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ কারাত বলেন, গত সম্মেলন থেকে এই সম্মেলন পর্যন্ত দলীয় কর্মীরা সাহসের সাথে কাজ করেছেন সব প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করে। গরীবের দাবি দাওয়া নিয়ে লড়াই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন পার্টি কর্মীরা। অনেক দমন পীড়নকে সহ্য করে এগিয়ে যেতে হচ্ছে। বিজেপির সাম্প্রদায়িক নীতি এবং তৃণমূলের অপশাসনের বিরুদ্ধে চলছে লড়াই। গোটা দেশে আমরা সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুধে লড়াই করছি। কেন্দ্রীয় সরকারের জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে চলছে লড়াই। দেশের সংবিধান শেষ করার জন্য বিজেপির যেই ভূমিকা তার বিরুদ্ধে ধর্মনিরপেক্ষ শক্তি গুলোকে সাথে নিয়ে আমরা লড়াই চালাচ্ছি। রাজ্যে তৃণমূলের যেই সরকার চলছে তা দুর্নীতিগ্রস্থ। এই সরকারের যেই জনবিরোধী চরিত্র তার বিরুদ্ধে চলছে লড়াই, তার সাথে বিজেপির সাম্প্রদায়িক রাজনীতি। কারাত আরও বলেছেন, গত তিন বছর বাংলার মানুষ ১০০ দিনের কাজ পাচ্ছেন না। তাদের কাজের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এটা কখনো মেনে নেওয়া যায়না। কাজের অধিকার আইন সবার জন্য। কিন্তু মমতার সরকার সেই আইনকে উপেক্ষা করছে। হাজার হাজার কোটি টাকার যেই ক্ষতি মানুষের হয়েছে তা পূরণ করতে হবে। মহিলাদের নিরাপত্তা নেই রাজ্যে। চারদিন এই রাজ্যের বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় দেখেছি নারী নির্যাতনের খবর। এই জেলারই এক মহিলার গতকাল মৃত্যু হয়েছে কটূক্তির হাত থেকে বাঁচতে। এর থেকে নিন্দনীয় কিছু হতে পারে না। আর জি কর কাণ্ড গোটা দেশ দেখেছে।
বক্তব্য রাখতে গিয়ে পার্টির একমাত্র মহিলা জেলা সম্পাদক নেত্রী দেবলীনা হেমব্রম বলেন জঙ্গলমহলে আমাদের কমরেডের খুন করেছে, শালকুকে খুন করেছে কারণ ওরা মানুষের সাথে ছিল। ওরা ভেবেছিল চুপ করিয়ে রাখবে। কিন্তু লাল ঝান্ডার কর্মীরা চুপ করে থাকে না। বিজেপি তৃণমূল মানুষকে ঠকিয়েছে। এদেরকে তাড়াতে হবে, না হলে শান্তি নেই।
নারী নির্যাতনের বাড়ছে, আর মুখ্যমন্ত্রী বলছে ছোট ঘটনা, অপরাধীরা উৎসাহ পাচ্ছে। বিজেপি বলছে, ওরা সব করে দেবে। ওরা বলছে ভাতা দিচ্ছে, সেই টাকা কোথা থেকে আসছে? মানুষের টাকা থেকে দিচ্ছে। ওদের জমিদারি নয় মানুষের অধিকারের এই ভাতা। মুখ্যমন্ত্রী বলছে বামপ্ন্থীদের সময় ভুল কাজ, দুর্নীতি হয়েছে তারপর বলছে ফাইল নেই।
আদিবাসী হোস্টেল স্কুল বন্ধ করে দিচ্ছে। ওরা চায়না প্রান্তিক মানুষ শিক্ষিত হোক ওদের প্রশ্ন করুক। ধর্ম নিয়ে রাজনীতি হচ্ছে, ধর্ম সংস্কৃতি আলাদা। মানুষ সবাই। আমাদের সবার দাবি এক, কেন আমরা আলাদা হয়ে লড়াই করবো। আমাদের অধিকার আদায় করতে হবে। এক হতে হবে সবাইকে। আমাদের নেতৃত্ব ভেবেছিল রাজ্যের ছেলে মেয়েগুলো উন্নতি করুক। ওদের সহ্য হলো না। ওরা চায়নি প্রান্তিক মানুষ উঠে দারাক, সেই জন্য খুন করেছে। আমাদের বাইরে ভিতরে দুই জায়গায় লড়াই করতে হবে। সংসদে, বিধানসভায় লাল ঝান্ডা নেই তাই মানুষের অধিকার হারিয়ে যাচ্ছে। কেউ কথা বলার নেই।
মীনাক্ষী মুখার্জী বলেছেন, রাস্তায় দাঁড়িয়ে থেকে আমাদের কমরেডরা লড়াই করছে। কিছুক্ষন আগে পুলিশ ফোন করে বলেছে ভির অনেক, আর যেন লোক না আসে। আমরা গোটা রাজ্যের পুলিশকে বলতে চাই, লড়াই চোখে চোখ রেখেই হবে।
গ্যালিলিও দেখিয়ে দিয়েছে সূর্য দাঁড়িয়ে পৃথিবী ঘুরছে। এখন দেখছি শাসকের চার পাশে চোর দালালরা ঘোরে। চাকরি থেকে ওষুধ সব জায়গায় দুর্নীতি। রাজ্যের মন্ত্রী চাল চুরি করেছে। সব জায়গা লুটে পুটে নষ্ট করেছে। সম্মেলনে আলোচনা হয়েছে গোটা দুনিয়াতে যারা মানুষকে পিষে মারতে চায় তার বিরুদ্ধে মানুষ এক হচ্ছে। খেটে খাওয়া মানুষ ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। বিদেশ থেকে ভারতীয়দের যখন শিকল পরিয়ে পাঠালো তখন কোন কথা নেই। মোদী ট্রাম্পের কাছে মাথা নুইয়ে রেখেছে। জবাব দিতে পারবে কেন স্যালাইন বিষ, জবাব দিতে পারবে কেন ডাক্তার মেয়ের মৃত মুখ দেখে আমাদের গাড়ি আটকাতে হলো, কেন মিড ডে মিলে ঠিক খাবার দেওয়া হচ্ছে না? নিজে পারবে ওই খেয়ে বাঁচতে।
সভাপতিত্ব করেন হুগলি জেলা সিপিআইএমের সম্পাদক দেবব্রত ঘোষ।
We hate spam as much as you do