বাংলা, বিহার ও ওড়িশার পূর্ব ইতিহাস ও পারস্পরিক যে সম্পর্ক তা তুলে ধরে নীতীশের আরও দাবি, "বাংলায় আমাদের শিকড় । বিহার ছাড়াও ওড়িশা এবং ঝাড়খণ্ডের শিকড় বাংলা । এই চারটি রাজ্যেরই একটি অভিন্ন অতীত রয়েছে । আমাদের একটি সাধারণ ঐতিহ্য আছে । বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে, গ্রামের উন্নয়ন এবং দরিদ্রদের উন্নতির জন্য জ্যোতিবাবু যে প্রচেষ্টা করেছিলেন, তা চিরদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে । তাঁর নেতৃত্বে বাংলায় কার্যকর করা পঞ্চায়েতি রাজ ও মিউনিসিপ্যাল অ্যাক্ট দেশের জন্য উদাহরণ হয়ে ওঠে । জ্যোতিদা আমাদের মতো রাজনৈতিক-সামাজিক কর্মীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবেন । যাঁরা গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য ও সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী । তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে আমি তাঁর প্রতি আমার শ্রদ্ধা ও আন্তরিক শ্রদ্ধা নিবেদন করছি ।"নীতিশ কমার
মোদি হটানোর বার্তা সহ জ্যোতি বসুর পঞ্চায়েতি আইনে প্রশংসা নীতীশের, বার্তায় তেজস্বী
Jan 17, 2024,
রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর আমলে চালু হওয়া পঞ্চায়েতিরাজ ও পৌর আইনের দরাজ প্রশংসা করলেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার । বুধবার এ বিষয়ে চিঠি লিখে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুকে জানিয়েছেন তিনি ।আজ জ্যোতি বসুর পঞ্চদশতম প্রয়াণ দিবসে নিউটাউনে 'জ্যোতি বসু সেন্টার ফর সোশাল স্টাডিজ অ্যান্ড রিসার্চ'-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনে নীতীশ কুমারের আসার কথা ছিল । কিন্তু, তাঁর পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি থাকায় তিনি আজ কলকাতায় আসতে পারেননি । তাই বিমান বসুকে চিঠি লিখে জ্যোতিবাবুর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী । শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন বিহারের উপ-মুখ্যমন্ত্রী তেজস্বী যাদবও । আবহাওয়ার পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার কারণে তিনি কলকাতায় আসতে পারেননি বলে জানিয়েছেন । তিনি ভিডিয়ো বার্তায় জ্যোতি বসুর প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন ৷বামফ্রন্ট চেয়ারম্যানকে লেখা চিঠিতে নীতীশ কুমার লিখেছেন, "এটা আমার জন্য আনন্দের বিষয় যে পশ্চিমবঙ্গের দীর্ঘদিনের মুখ্যমন্ত্রী জনপ্রিয় নেতা শ্রদ্ধেয় জ্যোতিবাবুর মৃত্যুবার্ষিকীতে 'জ্যোতি বসু সেন্টার ফর সোশাল স্টাডিজ অ্যান্ড রিসার্চ' ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হচ্ছে । এছাড়া ‘ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের সামনে চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে । আমি দুঃখিত যে, শ্রী গুরু গোবিন্দ সিং জি মহারাজের ৩৫৭ তম প্রকাশ পর্বে শ্রী গুরু গোবিন্দ সিং জি মহারাজের জন্মস্থান পটনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানগুলিতে অংশগ্রহণের কারণে ব্যক্তিগতভাবে কলকাতার অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারলাম না ।"বাংলা, বিহার ও ওড়িশার পূর্ব ইতিহাস ও পারস্পরিক যে সম্পর্ক তা তুলে ধরে নীতীশের আরও দাবি, "বাংলায় আমাদের শিকড় । বিহার ছাড়াও ওড়িশা এবং ঝাড়খণ্ডের শিকড় বাংলা । এই চারটি রাজ্যেরই একটি অভিন্ন অতীত রয়েছে । আমাদের একটি সাধারণ ঐতিহ্য আছে । বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে, গ্রামের উন্নয়ন এবং দরিদ্রদের উন্নতির জন্য জ্যোতিবাবু যে প্রচেষ্টা করেছিলেন, তা চিরদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে । তাঁর নেতৃত্বে বাংলায় কার্যকর করা পঞ্চায়েতি রাজ ও মিউনিসিপ্যাল অ্যাক্ট দেশের জন্য উদাহরণ হয়ে ওঠে । জ্যোতিদা আমাদের মতো রাজনৈতিক-সামাজিক কর্মীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবেন । যাঁরা গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য ও সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী । তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে আমি তাঁর প্রতি আমার শ্রদ্ধা ও আন্তরিক শ্রদ্ধা নিবেদন করছি ।"তবে শুধু নীতীশ কুমার নন । আজ ‘ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের সামনে চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক আলোচনায় সিপিআইএম সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরিও জ্যোতি বসুর আমলে কলকাতা ও বাংলার সম্প্রীতির কথা তুলে ধরেন । 1992 এ বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর গোটা দেশে যখন সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা চলছে, তখন বাংলা অনন্য নজির রেখেছিল বলে মত তাঁর । তবে আগামী 22 জানুয়ারি অযোধ্যায় রাম মন্দির উদ্বোধনের পর নতুন করে 'অমৃতকালে'র সূচনা হতে পারে বলেও আশংকা প্রকাশ করেছেন ইয়েচুরি। বলেন কেন্দ্রীয় সরকার যে ব্যাপক ফরেন ইনভেস্টমেন্টের কথা বলছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা বিদেশি বিনিয়োগ আমাদের দেশে অর্ধেকেরও কম হয়ে গেছে শেষ ১০ বছরে তুলনায়। দারিদ্র্যের হার বেড়েছে চরমভাবে।
সিপিআইএমের সাধারণ সম্পাদক মহঃ সেলিম তার ভাষণে জ্যোতি বসু সম্পর্কে বলেন তিনি শুধু রাজ্যের নেতা ছিলেন না গোটা দেশে কি করে ফ্রন্ট গড়ে তুলতে হয় নানা মতের রাজনৈতিক সাংস্কৃতিক দলকে এক জায়গায় করতে হয়। তা শিখিয়েছেন। কারণ তার সময়ে ভারতবর্ষে ফ্রন্ট রাজনীতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও ভিয়েতনামের মুক্তিযুদ্ধ দক্ষিণ আফ্রিকার মুক্তি সংগ্রাম এই সমস্ত কিছুর সাথে তার প্রত্যক্ষ যোগাযোগ ছিল এবং এইসব দেশের বিপ্লবী মহানায়ক দের সাথে তার সাক্ষাৎ হয়েছিল জ্যোতি বসু শিখিয়েছিলেন কি করে রাজনৈতিক সংগ্রামের সাথে সামাজিক কাজকর্মে যুক্ত হতে হয় বিপ্লবী শ্রেণীকে সামাজিক কাজকর্মের সাথে যুক্ত হতে হবে, সেই কারণে তিনি বিভিন্ন সামাজিক সংস্থা গড়ে তোলার কাজে লিপ্ত ছিলেন। পিপলস রিলিফ কমিটি তার উদ্যোগের একটি ফল। ভারতবর্ষের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বলতে গিয়ে মোঃ সেলিম বলেন ভারতবর্ষের বৈচিত্রকে ব্যবহার করে বিজেপি আরএসএস নিজেদের জেন্ডা কে প্রয়োগ করছে এবং সমস্ত রাজ্যে নানান স্টাইলে গোলমাল পাকিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে। তারা বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যের তত্ত্বকে বিকৃতভাবে ব্যাখ্যা করছে এর বিরুদ্ধে সকলকে রুখে দাঁড়াতে হবে বর্তমান সময়ে বিজেপির যে কোন এজেন্ডাকে দেশের মিডিয়া যেভাবে প্রচার করছে এবং মানুষের মাথায় ঢুকিয়ে দিচ্ছে। তাতে মনে হচ্ছে ২৩ শে জানুয়ারি বা ২৬ শে জানুয়ারি থেকে ২২ শে জানুয়ারি একটু বেশি গুরুত্বপূর্ণ। মানুষকে প্রচারে নিয়ে যাচ্ছে এমন ভাবে তার মস্তিষ্কে ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে এশিয়ার অন্য কিছু চিন্তা করবে না অন্য কিছু দেখবে না। জ্যোতি বসু সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড কালচারাল স্টাডিস সংস্থা সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করবে সারা দেশ জুড়ে তারপর গবেষণা করবে সামাজিক অবস্থান নির্ণয় করবে
অনুষ্ঠানে অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক প্রভাত পট্টনায়ক এবং বিশিষ্ট সাংবাদিক পি সাইনাথ যে বার্তা পাঠান তা পাঠ করে শুনেন গণশক্তি প্রাক্তন সম্পাদক দেবাশীষ চক্রবর্তী।
সমস্ত অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু সংস্থার সাধারণ সম্পাদক রবীন দেব সকলকে সংবর্ধনা জানান
We hate spam as much as you do