Tranding

01:47 PM - 04 Feb 2026

Home / Politics / DYFI এর ইনসাফ যাত্রা ১১তম দিনে। রাস্তা জুড়ে ক্লান্তিহীন হাঁটার শেষ ব্রিগেডের মাঠে।

DYFI এর ইনসাফ যাত্রা ১১তম দিনে। রাস্তা জুড়ে ক্লান্তিহীন হাঁটার শেষ ব্রিগেডের মাঠে।

দশদিনের দীর্ঘ কিলোমিটার পথ পায়ে হাঁটা হয়েছে। যুব সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক মীনাক্ষী মুখার্জির নেতৃত্বে পদযাত্রা চলছে। এই পথের প্রায় পুরোটাই তিনি পায়ে হেঁটেছেন। জেলায় জেলায় পথসভাগুলোতে স্থানীয় সমস্যার পাশাপাশি কেন্দ্র, রাজ্য – দুই সরকারের বিরুদ্ধেই বক্তারা বক্তব্য রাখছেন। রাজ্য ভাগের হুমকি, সাম্প্রদায়িক বিভাজনের চেষ্টা, মৌলবাদের বিরুদ্ধে কথা বলছেন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় সংযোগ স্থাপন করার চেষ্টা করছেন। চা বাগানের শ্রমিকদের সমস্যার কথা সরাসরি তাঁদের মুখ থেকে শুনেছেন

DYFI এর ইনসাফ যাত্রা ১১তম দিনে। রাস্তা জুড়ে ক্লান্তিহীন হাঁটার শেষ ব্রিগেডের মাঠে।

DYFI এর ইনসাফ যাত্রা ১১তম দিনে। রাস্তা জুড়ে ক্লান্তিহীন হাঁটার শেষ ব্রিগেডের মাঠে।

 November 13, 2023

পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে ২০২২ নভেম্বর মাস থেকে দীর্ঘ বেশ কয়েকদিন বামফ্রন্টের নেতৃত্বে গ্রাম পদযাত্রা দিয়ে যুক্তরাজ্যের প্রান্তে প্রান্তে থাকা মানুষের সাথে প্রত্যক্ষ যোগাযোগের প্রক্রিয়া শুরু এরই মধ্যে দেশজুড়ে জাতীয় কংগ্রেসের রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে ভারত জোড়ো যাত্রা এক বিরাট প্রভাব ফেলেছে ভারতের একেবারে দক্ষিণ প্রান্ত থেকে শুরু করে ভারতের মাঝখান দিয়ে গিয়ে একেবারে উত্তরে শ্রীনগরে পৌঁছে সেই পদযাত্রা শেষ হয়েছিল। ভারত জোড়ো যাত্রায় রাহুল নির্বাচনী প্রচার করেননি। বরং মূল বার্তা ছিল ‘নফরত কে বাজার মে মহব্বত কা দুকান খোলনে আয়া হুঁ’, অর্থাৎ ঘৃণার বাজারে ভালবাসার দোকান খুলতে এসেছি। তবে ভারত জোড়ো যাত্রা কর্ণাটক বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস বিজেপিকে হারাতে সাহায‍্য করেছে। এরপর তৃণমূল কংগ্রেস গ্রাম জুড়ে একটি পদযাত্রা করে যা শুধুমাত্র বিলাসিতা বিপুল খরচ ও সরকারি ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে চলে এবং প্রচুর সমালোচিত হয়।


এর পরে বৃহত্তম বাম যুব সংগঠন ভারতের গণতান্ত্রিক যুব ফেডারেশন (ডিওয়াইএফআই) এবার পদযাত্রার আয়োজন করেছে। ডিওয়াইএফআই অগাস্ট মাস নাগাদ সাংবাদিক সম্মেলন করে জানায় ৩ নভেম্বর ২০২৩ থেকে ৬ জানুয়ারি ২০২৪ (পরে শেষের তারিখ বদলে ২২ ডিসেম্বর ২০২৩ করা হয়) পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের প্রত্যেকটা জেলা ছুঁয়ে কোচবিহার থেকে কলকাতা পর্যন্ত পদযাত্রা (ইনসাফ যাত্রা) হবে এবং ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি যুব সংগঠনের ডাকে ব্রিগেড সমাবেশ হবে। মূলত কর্মসংস্থান, নিয়োগ দুর্নীতি, সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মীয় বিভাজন, মৌলবাদের মত বিষয়গুলোকে নিয়ে রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে পদযাত্রায় প্রচার চলবে।


গত ৩রা নভেম্বর থেকে কোচবিহারে এই পদযাত্রা আরম্ভ হয়েছে। কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, ফালাকাটা, বানারহাট, ধূপগুড়ি, ময়নাগুড়ি, জলপাইগুড়ি হয়ে চতুর্থ দিন দার্জিলিং সপ্তম দিন উত্তর দিনাজপুর হয়ে পদযাত্রা নবম দিনে মালদার গাজলে পৌঁছেছিল। মুর্শিদাবাদে এসে পৌঁছেছে আজ একাদশ দিনে।
ইনসাফ যাত্রার ১১'তম দিনে মুর্শিদাবাদের ফারাক্কা থেকে শুরু হলো ইনসাফ যাত্রা।ইনসাফের দাবিতে, অধিকার আদায়ের যাত্রায় আছেন বিশিষ্ট নাট্যকার সৌরভ পালোধী।
এখানে আগামী ১৬-১৭ তারিখে ডি ওয়াই এফ আই এর প্রাক্তন সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক মহঃ সেলিম বক্তব্য রাখবেন।

দশদিনের দীর্ঘ কিলোমিটার পথ পায়ে হাঁটা হয়েছে। যুব সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক মীনাক্ষী মুখার্জির নেতৃত্বে পদযাত্রা চলছে। এই  পথের প্রায় পুরোটাই তিনি পায়ে হেঁটেছেন। জেলায় জেলায় পথসভাগুলোতে স্থানীয় সমস্যার পাশাপাশি কেন্দ্র, রাজ্য – দুই সরকারের বিরুদ্ধেই বক্তারা বক্তব্য রাখছেন। রাজ্য ভাগের হুমকি, সাম্প্রদায়িক বিভাজনের চেষ্টা, মৌলবাদের বিরুদ্ধে কথা বলছেন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় সংযোগ স্থাপন করার চেষ্টা করছেন। চা বাগানের শ্রমিকদের সমস্যার কথা সরাসরি তাঁদের মুখ থেকে শুনেছেন। লক্ষণীয় বিষয়, পথচলতি সাধারণ মানুষও তাঁকে পেয়ে নিজের দৈনন্দিন সমস্যার কথা বলছেন।  মীনাক্ষী এগিয়ে চলেছেন তার নিজস্ব ভঙ্গিমায় রাজ্যজুড়ে দুর্নীতি দেশজুড়ে উগ্রতা, এর বিকল্পে এক ঘরোয়া বন্ধু পাশের বাড়ির মেয়েটা ভূমিকায় মীনাক্ষী। চা বাগান থেকে খনি শ্রমিক পাড়ার মোড় থেকে রাস্তার ধারে জমে থাকা মানুষ কেউ ফুল ছিটিয়ে কেউ জড়িয়ে ধরে কেউ গান গেয়ে আপন করে নিচ্ছেন। একক দক্ষতায়, সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও পদযাত্রাকে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন। এই মুহূর্তে তিনি বাংলার রাজনীতির অন্যতম জনপ্রিয় মুখ। তাঁকে একবার স্পর্শ করার জন্য মানুষের আকুতি চোখে পড়ার মত। তৃণমূল বা বিজেপি করা মানুষও নিরাপদ দূরত্ব থেকে বলছেন “মেয়েটার কথা ভাল লাগে।”

রাস্তার মোড়ে মোড়ে নবীন, প্রবীণ, কিশোরী কিশোরী, যুবক যুবতীরা মীনাক্ষীর সঙ্গে নিজস্বী তোলার আবদার নিয়ে অপেক্ষা করছেন। বানারহাট মোড়ে রাত্রি নটার সময়ে এক প্রবীণা অপেক্ষা করছিলেন মীনাক্ষীর হাতে ফুল দেবেন বলে। ১৯৮৫ সালে পার্টি সদস্যপদ পাওয়া একজন মীনাক্ষীকে দেখবেন বলে সকাল থেকে রাস্তায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেছেন। শিলতোর্সা সেতুর কাছে রীতিমত পথ আটকে স্থানীয়রা সমস্যার কথা জানিয়েছেন। এমন অজস্র ঘটনা ঘটছে। প্রান্তিক মানুষ মিছিলে হাঁটছেন, গতযৌবন মানুষ অভাব অভিযোগ নিয়ে হাঁটছেন। কেউ বলছেন একদিনের কাজের ক্ষতি হল, আগামীকাল উপার্জন খুঁজতে হবে। তবুও হাঁটছেন। ষাটোর্ধ্ব মানুষ বলছেন এই মিছিলের সঙ্গে কলকাতা পর্যন্ত যাবেন। পদযাত্রায় একটা দানপাত্র ঘুরছে। পথসভায় সাহায্যের আবেদন জানাতেই গরিব এবং মধ্যবিত্তরা সেই দানপাত্র ভরে দিচ্ছেন।


DYFI নেতৃত্ব বলেছিল তৃণমূল, বিজেপির নকল যুদ্ধ ভেস্তে দিয়ে আসল সমস্যায় ফিরতে হবে। বেকারদের কর্মসংস্থান, পরিযায়ী শ্রমিক, দুর্নীতি, চা বাগান, শ্রমিক, কৃষকের দৈনন্দিন সমস্যা দিয়ে দ্বিদলীয় রাজনৈতিক চর্চা ভাঙার চেষ্টা করছে ইনসাফ যাত্রা।   পদযাত্রা দেখে  বলা যায় যে এই পদযাত্রা বাংলায় যে বাণিজ্যিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি আমদানি হয়েছে তার বিপক্ষে বাংলার চিরায়ত আবেগের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে সফল হয়েছে।  রাত্রিবাস, আহার, আয়োজন – কোথাও আজকের কর্পোরেট রাজনীতির ছোঁয়া নেই। স্থানীয় সংগঠকরা নিজেদের উদ্যোগে সামর্থ্য অনুযায়ী বাহুল্যহীন প্রয়াস করছেন।

বিভিন্ন গণমাধ্যম যারা ব্যস্ত আছে রাজ্যের মন্ত্রীর দুর্নীতি নিয়ে তাদের সময় নেই
ইনসাফ যাত্রার প্রচার করবার । বহুলপ্রচলিত বৈদ্যুতিন সংবাদমাধ্যমে এর উপস্থিতি নেই। তা সত্ত্বেও ইনসাফ চেয়ে হাজার হাজার যুবক-যুবতী হাঁটছেন আর রাস্তার ধারে গোটা উত্তরবঙ্গ জুড়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন আরো হাজার হাজার মানুষ   বামপন্থীরা এ কথা বলেন শূন্য হলেও মানুষের দাবি নিয়ে তারা রাস্তায় হাঁটবেন। একদিকে চূড়ান্ত দুর্নীতি অন্যদিকে সামনে পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনকে সামনে রেখে গোটা দেশজুড়ে পুনরায় সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের চেষ্টা আস্তে আস্তে চাপা পড়ে যাচ্ছে দেশের হাজার হাজার বেকারের কর্মসংস্থান উপযুক্ত বেতনের দাবি রাস্তায় তো শিল্প গুলোকে বেসরকারিকরণ এর বিরুদ্ধে জনমত গঠনের দাবি পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে দিকে দিকে কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া এইসব দাবি নিয়েই মীনাক্ষী, ধ্রুবজ্যোতি, কলতানরা হাঁটছেন। তাদের এই হাঁটা শেষ হবে ৭ই জানুয়ারি ব্রিগেডের মাঠে। 

তারপরই দেশজুড়ে এক গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। দেশের ঐক্য, সংহতি, বৈচিত্র, সংবিধান বিপন্ন হবে নাকি তা রক্ষা করবেন দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ তা নির্দিষ্ট হবে। নিঃসন্দেহে পশ্চিমবঙ্গের এই বিপুল সংখ্যক যুবক যুবতীর রাস্তা জুড়ে দাবি আদায়ের স্লোগানের মধ্যে দিয়ে এই লড়াইও ত্বরান্বিত হবে । 

 

Your Opinion

We hate spam as much as you do