অভিযোগ, এ দিন তিন তলা ওই ভবনে এসএফআই ও ডিওয়াইএফআই-এর কার্যালয়ে ঢুকে পড়ে একদল তৃণমূলের সমর্থক। নেতাজি নগর এলাকার ওই বাড়িতে প্রবেশ করে লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে তৃণমূলের পতাকা। সিপিএম প্রার্থী মৃত্যুঞ্জয় চক্রবর্তী জানিয়েছেন, এ দিন তৃণমূলের জয়লাভের পর ওই অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। কার্যত দলীয় কার্যালয় দখল করে নিয়েছে তৃণমূল।
ফল প্রকাশের পর বামেদের পার্টি অফিস দখল! অভিযোগ মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের সামনেই ঘটেছে
তৃণমূলের বিরুদ্ধে বামেদের কার্যালয় দখলের অভিযোগ নেতাজি নগরে।
দলের শীর্ষ নেতৃত্ব বারবার বার্তা দেওয়ার পর ফের অভিযোগ উঠল শাসক দলের বিরুদ্ধে। পুরভোটের ফল প্রকাশের পরই বামেদের কার্যালয় দখলের ছবি দেখা গেল কলকাতায়। কলকাতা পুরসভার ৯৮ নম্বর ওয়ার্ডে এসএফআই ও ডিওয়াইএফআই-এর কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে সেই ভিডিয়ো। ওই ওয়ার্ডের তৃণমূল প্রার্থী অরূপ চক্রবর্তীর জয় ঘোষণা হওয়ার অব্যবহিত পরেই দেখা গিয়েছে এই ছবি। বাস্তহারা সমিতির অফিসও দখল করা হয়েছে বলে অভিযোগ। বামেদের কার্যালয়ে এ দিন তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। ঘটনাস্থলে তৃণমূলের বিজয়োৎসব চলাকালীম উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসও।
অভিযোগ, এ দিন তিন তলা ওই ভবনে এসএফআই ও ডিওয়াইএফআই-এর কার্যালয়ে ঢুকে পড়ে একদল তৃণমূলের সমর্থক। নেতাজি নগর এলাকার ওই বাড়িতে প্রবেশ করে লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে তৃণমূলের পতাকা। সিপিএম প্রার্থী মৃত্যুঞ্জয় চক্রবর্তী জানিয়েছেন, এ দিন তৃণমূলের জয়লাভের পর ওই অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। কার্যত দলীয় কার্যালয় দখল করে নিয়েছে তৃণমূল। এলাকার মানুষ এ ব্যাপারে মুখ খুলতে চাননি। তবে এলাকায় গিয়ে খতিয়ে দেখা হয়েছে যে, প্রকাশ্যে আসা ভিডিয়োতে যে বাড়িটি দেখা যাচ্ছে, সেটাই ওই এলাকায় বামেদের কার্যালয়। কার্যালয়ের সামনে ডিজে বাজিয়ে চলছে তৃণমূলের বিজয়োৎসব। আর সেখানেই উপস্থিত রয়েছেন জয়ী তৃণমূল প্রার্থী অরূপ চক্রবর্তী ও রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। তবে ঘটনার সময় মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
তৃণমূল নেতা দেবু টুডুর দাবি, এটি বাস্তুহারা সমিতির অফিস, বামেদের অফিস কি না, তা স্পষ্ট নয়। কংগ্রেস নেত্রী সুস্মিতা বিশ্বাস বলেন, এ ভাবে বিরোধীদের কন্ঠরোধ করা হচ্ছে। বোঝা যাচ্ছে গণতন্ত্র বিপন্ন। তাঁর কথায়, তৃণমূল এটাই প্রমাণ করতে চাইছে যে বিরোধীদের কোনও অস্তিত্ব তারা রাখতে চাইছে না। অভিষেক বারবার দলীয় কর্মীদের বার্তা দেওয়ার পরও কী ভাবে এমন ঘটনা ঘটল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা।
সিপিএম নেতা চন্দন চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘এখনও সার্টিফিকেট নিয়ে বাড়ি ফেরেননি, তার মধ্যেই এ ভাবে দলীয় কার্যালয়ে ঢুকে সব ছুড়ে ফেলে দেবেন?’ তিনি বলেন, ‘একটা ওয়ার্ডে এত বছর ধরে সিপিএম ছিল বলে, এখন তাদের পার্টি অফিস দখল করে নিতে হবে? রেড ভলান্টিয়ারদের অক্সিজেন সিলিন্ডার ছুড়ে ফেলে দেওয়া হবে, আর একজন মন্ত্রী সেটা বসে বসে দেখবেন? এরপরেও সবাই চুপ থাকবেন?’
এই ঘটনার নিন্দা করেছেন তৃণমূলের আর এক জয়ী প্রার্থী তথা প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তিনি বলেন, ‘যারা এ কাজ করেছে, তারা অন্যায় করেছে।’
ছবি - tv9
We hate spam as much as you do