উত্তর ও কমিটিগুলি নানা থিমের সুসজ্জিত রেপ্লিকা প্রতিমা নিয়ে এসেছেন। নানা রং, বৈচিত্রের দেখা মিলছে এই মিছিলে। কোথাও রঙিন মুখোষ, কোথাও ফানুশ, কোথাও আবার লাল পাড় সাদা শাড়িতে শঙ্খ হাতে মহিলাদের ঢল। সব মিলিয়ে উৎসবের নানা রঙে মেতে উঠেছে শহর কলকাতা। রাজপথে দেখা যাচ্ছে মোহনবাগান এবং ইস্টবেঙ্গলের প্রতিনিধিদের। ঢাকের তালে তালে দলের সদস্যদের বল জাগলিং করতে দেখা যাচ্ছে।
পুজোর আগেই পুজো শুরু, রেড রোডে সংবাদের ক্যামেরা ঘুরুক দূর্নীতি থেকে আড়ম্বরে
Sep 1, 2022,
পূজোর একমাস আগে থেকে পূজো পূজো রব। এইসময়কালে তৃণমূল সরকার খুবই বিপদে পড়েছে। কিছুতেই সংবাদ মাধ্যমের ক্যামেরা নানা দূর্নীতি ছেড়ে বেরোচ্ছে না। এর থেকে জনগনের চোখ ঘোরানো যাচ্ছে না। তাই ভরসা বাঙালীর মহা উৎসব দূর্গাপূজো। সঙ্গে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি। সুতরাং একমাস আগেই এ রাজ্যে শুরু হল দেবী পক্ষ।সংবাদ মাধ্যমের ক্যামেরা ঘুরুক এই আনন্দানুষ্ঠানের দিকে।
রঙিন ব্যানার, ফেস্টুন থেকে শুরু করে লাল পাড় সাদা শাড়িতে শঙ্খ হাতে মহিলাদের ঢল। কোথাও আবার মাতৃপ্রতিমার রেপ্লিকা হাতে পুজো কমিটিগুলো সামিল হয়েছেন পদযাত্রায় । বর্ণাঢ্য মেগা ব়্যালির নানা মুহুর্তের ছবি ক্যামেরাবন্দি করতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে পড়ছেন মুখ্যমন্ত্রী।
উৎসববিলাসী কলকাতায় (Kolkata) একমাস আগেই পুজোর মেজাজ। শহরে লাগল উৎসবের রং। জোড়াসাঁকো থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শুরু হয়েছে। মিছিলের অগ্রভাগে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাতটি ওয়ার্ডের মধ্যে দিয়ে এই শোভাযাত্রা । অগনিত মানুষের ঢল নেমেছে শহরে। রাস্তার দু'পাশে উৎসাহী মানুষের ভিড়ও চোখে পড়ার মতো। ইউনেস্কোর হেরিটেজ স্বীকৃতিকে ধন্যবাদ জানিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই পদযাত্রার ডাক দিয়েছে। যেখানে তাঁর সঙ্গে পা মেলাচ্ছেন বহু বিশিষ্টজনেরা। দুর্গাপুজোর চেনা ছবি একমাস আগে থেকেই শহরকে উৎসবমুখর করে তুলেছে। বৃষ্টি শেষে আকাশ পরিষ্কার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের উৎসাহ আরও দ্বিগুন হয়ে উঠেছে।
উৎসবের এই টুকরো মুহূর্তগুলির। রেড রোডের দিকে শোভাযাত্রা যত এগোচ্ছে, ততই যেন উৎসবের এই রং আরও গাঢ়ো হচ্ছে। বিশ্ব সেরা বাংলার এই হেরিটেজ স্বীকৃতিকে উদযাপন করতে প্রতিটি পুজো কমিটি নিজেদের মতো করে মিছিলে সামিল হয়েছেন। পুজো কমিটিগুলি তাঁদের ব্যানারের সঙ্গে সঙ্গে নিজস্ব থিম, সংস্কৃতি ফুটিয়ে তুলেছেন পোশাকের মাধ্যমে। রয়েছে রঙিন ছাতা, ফেস্টুন। কেউ ধুনুচি হাতে নাচছেন, কেউ সেজেছেন মা দুর্গা। কেউ আবার সঙ্গে এনেছেন দুর্গাপ্রতিমার রেপ্লিকা। রাস্তার ধারে ছোট ছোট মঞ্চ তৈরি হয়েছে যেখান থেকে পুজোর গান বাজানো হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর পুজোর গান বাজছে মিছিলজুড়ে।
উত্তর ও কমিটিগুলি নানা থিমের সুসজ্জিত রেপ্লিকা প্রতিমা নিয়ে এসেছেন। নানা রং, বৈচিত্রের দেখা মিলছে এই মিছিলে। কোথাও রঙিন মুখোষ, কোথাও ফানুশ, কোথাও আবার লাল পাড় সাদা শাড়িতে শঙ্খ হাতে মহিলাদের ঢল। সব মিলিয়ে উৎসবের নানা রঙে মেতে উঠেছে শহর কলকাতা। রাজপথে দেখা যাচ্ছে মোহনবাগান এবং ইস্টবেঙ্গলের প্রতিনিধিদের। ঢাকের তালে তালে দলের সদস্যদের বল জাগলিং করতে দেখা যাচ্ছে।
নিরাপত্তার বেষ্টনীতে মুড়ে ফেলা হয়েছে শহরকে। পদযাত্রায় মোতায়েন হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী। লালবাজার সূত্রে খবর, রেড রোড চত্বরকে মোট ১০টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। প্রত্যেক সেক্টরের দায়িত্বে রয়েছেন একজন করে ডিসি পদমর্যাদার অফিসার। গিরিশ পার্ক থেকে ডোরিনা ক্রসিং পর্যন্ত নিরাপত্তার দায়িত্বে ১২ পুলিশ আধিকারিক। এছাড়াও ৫৫টি পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে।
এই মিছিলের জেরে এদিন শহরের বেশকিছু রাস্তায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়। বন্ধ বন্ধ রাখা হয় রেডরোডের মতো রাস্তা। সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ বন্ধ রাখা হচ্ছে দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত। দুপুর ৩টে পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ থাকবে চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউতে। বন্ধ রাখা হতে পারে ডোরিনা ক্রসিংও। এছাড়াও বিভিন্ন রাস্তায় যান চলাচল ঘুরিয়ে দেওয়া হবে বলে জানা যাচ্ছে। এছাড়া এই মিছিলের জেরে শহরের কয়েকটি স্কুলে এদিন ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আংশিক ছুটিও ঘোষণা করা হয়েছে কোনও কোনও স্কুলে।
সমালোচনায় বিরোধীরা
তবে এই মিছিলের তীব্র সমালোচনা করেছে বিজেপি। এদিন বিজেপির সর্বভারতীয় সহসভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, "কাজকর্মের কথা বলবেন না। সরকারি পয়সায় খাওন দাওন ফূর্তি করুন। দুর্গাপুজোর ছুটি বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ঈদের ছুটি বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আনন্দ ফূর্তি যতদিন চলে ততদিন চলুক ধারদেনা করে। তারপর যা হওয়ার হবে। চাকরিবাকরি ইন্ডাস্ট্রি কলকারখান কিছু নেই। লেখাপড়াও উঠে যাচ্ছে স্কুল কলেজ থেকে। এরম একটা মূর্খদের রাজ্য তৈরি করে এখানে পার্মানেন্ট উনিই রাজত্ব করবেন। বোম্বাগড়ের রাজার মতো। এটাই ওনার রেসিপি, রাজনীতি। লুঠপাট হচ্ছে, ভাবার দরকার নেই, আমি তো আছি। আসুন না, আনন্দ করুন । এভাবে রাজনীতি চলছে। বাংলাকে শ্মশান করে দিয়ে যাবেন, বন্ধ্যা করে দিয়ে যাবেন। আগামী দিনে আর কিছই থাকবে না।"
We hate spam as much as you do