ইস্তাহারে ২৫টি প্রতিশ্রুতির কথা বলা হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে দেশের ৩০ লক্ষ সরকারি শূন্যপদে চাকরি, ২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নগদহীন স্বাস্থ্যবিমা, মহিলাদের আর্থিক সহায়তা, জাতগণনা এবং ৫০ শতাংশ পর্যন্ত জাতভিত্তিক সংরক্ষণ (এসসি, এসটি এবং ওবিসিদের জন্য), আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া উচ্চবর্ণের জন্য ১০ শতাংশ সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতি। এর পাশাপাশি ইস্তাহারে রয়েছে শহরের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে পরিকাঠামো উন্নয়ন কর্মসূচি চালু করার কথা।
জাতীয় কংগ্রেসের নির্বাচনী ইস্তাহার "ন্যায়ের দস্তাবেজ" প্রকাশ
5 april 2024
আসন্ন লোকসভা নির্বাচন সামনে করে নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছে রাজধানী নয়াদিল্লিতে দলের সদরদফতরে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ইশতেহার প্রকাশ করা হয়।
দিল্লিতে দলের সদর দপ্তরে শুক্রবার উপস্থিত ছিলেন সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে, পি চিদম্বরমরা। নির্বাচনী ইশতেহারকে 'নয়া পত্র' নামে অভিহিত করেছে কংগ্রেস।
সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেছেন, ‘এই ইস্তাহার ন্যায়ের দস্তাবেজ। মহিলা, তরুণ, কৃষক, শ্রমিক এবং ভাগীদারি বা জনসংখ্যা অনুযায়ী ক্ষমতায় অংশগ্রহণের ন্যায়ের দাবি রয়েছে এই ইস্তাহারে।’ প্রসঙ্গত, ‘ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা’র সময় রাহুল জানিয়েছিলেন, তাঁর এই যাত্রা পাঁচটি ন্যায়ের উপরে দাঁড়িয়ে। সে কথাই বলা হল ইস্তাহারে।
ইস্তাহারে ২৫টি প্রতিশ্রুতির কথা বলা হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে দেশের ৩০ লক্ষ সরকারি শূন্যপদে চাকরি, ২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নগদহীন স্বাস্থ্যবিমা, মহিলাদের আর্থিক সহায়তা, জাতগণনা এবং ৫০ শতাংশ পর্যন্ত জাতভিত্তিক সংরক্ষণ (এসসি, এসটি এবং ওবিসিদের জন্য), আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া উচ্চবর্ণের জন্য ১০ শতাংশ সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতি। এর পাশাপাশি ইস্তাহারে রয়েছে শহরের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে পরিকাঠামো উন্নয়ন কর্মসূচি চালু করার কথা।
ইস্তাহারে ২৫ বছরের কমবয়সি স্নাতকদের জন্য এক বছরের জীবিকামুখী শিক্ষানবিশ হওয়ার সুযোগ দেওয়ার সাংবিধানিক অধিকারের কথাও বলা হয়েছে। প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, কংগ্রেস কেন্দ্রে ক্ষমতা দখল করলে
জম্মু–কাশ্মীরের পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়া হবে। এমনকী অস্থায়ী ‘অগ্নিবীর’ নিয়োগ কর্মসূচি বাতিল করে সেনাবাহিনীতে স্থানীয় নিয়োগ কর্মসূচি ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতিও ইস্তাহারে দিয়েছে কংগ্রেস।
এতে তিন 'W' এর ওপর জোর দেয়া হয়েছে: ওয়ার্ক, ওয়েলফেয়ার ও ওয়েলথ। পাঁচটি স্তম্ভের মাধ্যমে ন্যায়বিচারের প্রতি প্রতিশ্রুতি জোরদার করা হয়েছে। স্তম্ভগুলো হলো ইয়ুথ জাস্টিস, জেন্ডার জাস্টিস, ফার্মার্স জাস্টিস, ওয়ার্কার্স জাস্টিস ও ইকুইটি জাস্টিস।
নির্বাচনী ইশতেহারে কংগ্রেস যেসব বিষয় জানিয়েছে সেগুলো হলো: এক. প্রত্যেক নাগরিকের মতো সংখ্যালঘুদেরও পোশাক, খাদ্য, ভাষা ও ব্যক্তিগত আইন পছন্দের স্বাধীনতা থাকবে। ব্যক্তিগত আইনের সংস্কারকে উৎসাহিত করা হবে। সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ ও সম্মতিতে এ ধরনের সংস্কার করা হবে।
দুই. সরকারি পরীক্ষা এবং সরকারি পদগুলোর আবেদন ফি বাতিল করা হবে। ব্যাপক বেকারত্বের কারণে, ত্রাণের এককালীন ব্যবস্থা হিসেবে সব শিক্ষার্থী শিক্ষাঋণের ক্ষেত্রে ১৫ মার্চ ২০২৪ তারিখে অপরিশোধিত সুদসহ প্রাপ্য পরিমাণটি লিখে দেয়া হবে এবং ব্যাংকগুলোকে সরকার ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে।
তিন. এলজিবিটিকিউআইএ+ সম্প্রদায়ের অন্তর্গত দম্পতিদের মধ্যে নাগরিক ইউনিয়নকে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য একটি আইন আনা হবে।
চার. জাতি ও উপ-বর্ণ এবং তাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থা গণনা করার জন্য দেশব্যাপী আর্থ-সামাজিক ও বর্ণ জনগণনা পরিচালনা করবে এবং এসসি, এসটি এবং ওবিসিদের জন্য সংরক্ষণের উপর ৫০ শতাংশ ঊর্ধ্বসীমা বাড়ানোর জন্য একটি সংবিধান সংশোধনী পাস করা হবে।
পাঁচ. জাতীয় সামাজিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় প্রবীণ নাগরিক, বিধবা এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পেনশনে কেন্দ্রীয় সরকারের অবদান মাসিক ২০০-৫০০ টাকা। কংগ্রেস এই পরিমাণ বাড়িয়ে মাসে ১০০০ টাকা করা হবে।
ছয়. গরিব মেয়েদের বছরে ১ লক্ষ টাকা দেয়া হবে। পাশাপাশি দেশে সংরক্ষণের সীমা ৫০ শতাংশ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
ইশতেহারের 'বৈদিশিক নীতি' অংশে বলা হয়েছে, নিকটতম প্রতিবেশীদের প্রতি আরও বেশি মনোযোগ দেবে কংগ্রেস। এতে বলা হয়েছে,
আমরা নেপাল ও ভুটানের সাথে আমাদের বিশেষ সম্পর্কের প্রাধান্য পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করব এবং পারস্পরিক সুবিধার জন্য তাদের শক্তিশালী করব।
কংগ্রেসের ইশতেহারে বাংলাদেশের সাথে ভারতের সম্পর্কও উঠে এসেছে। বলা হয়েছে, আমরা দক্ষিণ এশিয়ার সর্বাধিক জনবহুল দেশ ভারত তার প্রতিবেশী শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক বৃদ্ধি করব।মালদ্বীপ, মিয়ানমার ও পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক ঠিক করে মানবাধিকার রক্ষায় দেশটির সঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেয়।
We hate spam as much as you do