Tranding

11:40 AM - 04 Feb 2026

Home / National / সাহসিকতার পুরস্কার প্রাপকের ছেলে মৃত 'ভুয়ো এনকাউন্টারে', চাপের মুখে কাশ্মীরে তদন্তের নির্দেশ

সাহসিকতার পুরস্কার প্রাপকের ছেলে মৃত 'ভুয়ো এনকাউন্টারে', চাপের মুখে কাশ্মীরে তদন্তের নির্দেশ

ভুয়ো এনকাউন্টারের অভিযোগ ঘিরে উপত্যকায় বিক্ষোভের উত্তাপ ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী । হাড় কাঁপানো ঠান্ডাকে উপেক্ষা করেই সেখানে প্রতিবাদে শামিল সাধারণ মানুষ । তাতে হায়দরপোরা-কাণ্ডে এবার ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিতে বাধ্য হলেন জম্মু-কাশ্মীরের লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহা

সাহসিকতার পুরস্কার প্রাপকের ছেলে মৃত 'ভুয়ো এনকাউন্টারে', চাপের মুখে কাশ্মীরে তদন্তের নির্দেশ

সাহসিকতার পুরস্কার প্রাপকের ছেলে মৃত 'ভুয়ো এনকাউন্টারে', চাপের মুখে কাশ্মীরে তদন্তের নির্দেশ

 

গত সোমবার হায়দরাপোরায় উপত্যকার পুলিশের গুলিতে চারজনের মৃত্যু হয় । পুলিশ জানায়, মৃতদের মধ্যে দুই পাকিস্তানি জঙ্গি রয়েছে । বাকি দু’জনের নাম মহম্মদ আলতাফ ভাট এবং মুদাসির গুল ৷ শুরুতে পুলিশ দাবি করে, জঙ্গিদের গুলিতেই মৃত্যু হয়েছে আলতাফ এবং মুদাসিরের ৷ পরে দাবি করা হয়, জঙ্গিদের সঙ্গে পুলিশের গুলি বিনিময় চলাকালীন মাঝে পড়ে মৃত্যু হয়েছে দু’জনের ৷

 

নভেম্বর শেষ হওয়ার পথে তাপমাত্রা একটু একটু করে নামছে গোটা দেশে । কিন্তু ভুয়ো এনকাউন্টারের অভিযোগ ঘিরে উপত্যকায় বিক্ষোভের উত্তাপ ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী । হাড় কাঁপানো ঠান্ডাকে উপেক্ষা করেই সেখানে প্রতিবাদে শামিল সাধারণ মানুষ । তাতে হায়দরপোরা-কাণ্ডে এবার ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিতে বাধ্য হলেন জম্মু-কাশ্মীরের লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহা । দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করার আশ্বাস দিলেন তিনি 

 

সোমবার হায়দরাপোরার ঘটনায় ইতিমধ্যেই কাশ্মীর পুলিশ তথা কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে সব মহল থেকে । এমন পরিস্থিতিতে লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজের দফতর থেকে টুইট করা হয়, ‘হায়দরপোরা এনকাউন্টার-কাণ্ডে অ্যাডমিরাল পদমর্যাদার অফিসারকে দিয়ে ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে । নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিপোর্ট জমা পড়বে, তার ভিত্তিতে সরকার দোষীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করবে । জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসন উপত্যকার মানুষের নিরাপত্তায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ । কোনওরকম অবিচার বরদাস্ত করা হবে না ।’উপত্যকার ডিজিপি দিলবাগ সিংও নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন । তিনি বলেন, ‘‘নিহতদের পরিবারের দাবি খতিয়ে দেখছি আমরা । যদি কিছু ভল হয়ে থাকে, তা শুধরে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত আমরা । পুলিশও তদন্ত করছে । কী নিয়ে অভিযোগ, তা খতিয়ে দেখছি আমরা । হায়দরপোরা এনকাউন্টারে ঠিক কী হয়েছিল, দেখা হচ্ছে । মানুষের নিরাপত্তায় আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ । তদন্তে কোনও ঢিলেমি করা হবে না ।


সোমবার হায়দরাপোরায় উপত্যকার পুলিশের গুলিতে চারজনের মৃত্যু হয় । পুলিশ জানায়, মৃতদের মধ্যে দুই পাকিস্তানি জঙ্গি রয়েছে । বাকি দু’জনের নাম মহম্মদ আলতাফ ভাট এবং মুদাসির গুল ৷ শুরুতে পুলিশ দাবি করে, জঙ্গিদের গুলিতেই মৃত্যু হয়েছে আলতাফ এবং মুদাসিরের ৷ পরে দাবি করা হয়, জঙ্গিদের সঙ্গে পুলিশের গুলি বিনিময় চলাকালীন মাঝে পড়ে মৃত্যু হয়েছে দু’জনের ৷
তারপরে ফের বয়ান বদল করে আলতাফ এবং মুদাসিরকে জঙ্গিদের সহযোগী বলে দাবি করে উপত্যকার পুলিশ ৷ বলা হয়, আলতাফের বাড়িতেই জঙ্গিরা লুকিয়েছিল এবং সেখান থেকেই পুলিশকে লক্ষ্য করে তারা গুলি চালাতে শুরু করে ৷ অন্যদিকে, মুদাসির জঙ্গিদের নাশকতামূলক কাজকর্মে সাহায্য করতেন বলে পুলিশের দাবি ৷মৃতদের কাছ থেকে নাশকতামূলক পরিকল্পনার নথি, ২টি পিস্তল, ৩টি ম্যাগাজিন, ৬টি মোবাইল, ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রোটোকল প্রযুক্তি-সহ ৬টি কম্পিউটার, আলফা, বিটা, গামা কোড, আমেরিকার একটি মানচিত্রও উদ্ধার হয় বলেও জানায় পুলিশ ৷ কিন্তু পুলিশের দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা ৷ তাঁদের অভিযোগ, যে দু’জনকে জঙ্গিদের আশ্রয়দাতা বলে প্রতিপন্ন করতে চাইছে পুলিশ, তাঁরা স্থানীয় বাসিন্দা ৷ কোনও প্রমাণ ছাড়া বাড়ি থেকে আচমকা তাঁদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয় ৷ তার পর মেরে ফেলা হয় ভুয়ো এনকাউন্টারে ৷নিহত মুদাসির পেশায় দন্ত চিকিৎসক ছিলেন ৷ তাঁর স্ত্রী হুমেইরা দু’বছরের মেয়েকে কোলে নিয়ে রাস্তায় প্রতিবাদে নেমেছেন ৷ তাঁর স্বামী জঙ্গিদের সাহায্য করতেন, পুলিশকে এর প্রমাণ পেশ করতে হবে বলে দাবি তুলেছেন তিনি ৷ তিনি বলেন, ‘‘সৎ পথে রোজগার করে সংসার চালাতেন আমার স্বামী ৷ যে পুলিশ তাঁকে হত্যা করল, কয়েক দিন আগে রাওয়ালপোরায় একটি বিয়েবাড়িতে, তারাই স্বামীর সঙ্গে গল্পগুজব এবং একসঙ্গে খাওয়া দাওয়া করছিল ৷

 

আলতাফ পেশায় ব্যবসায়ী ছিলেন ৷ তাঁর ১৩ বছরের কন্যা জানায়, আচমকা বাড়ি থেকে তার বাবাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় ৷ পরে সে জানতে পারে যে,মারা গিয়েছে ৷ মেয়েটি জানিয়েছে, বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশের কাছে ছুটে যায় সে ৷ জানতে চায়, কেন মেরে ফেলা হল বাবাকে ৷ কিন্তু তাঁকে বিধ্বস্ত অবস্থায় দেখে সকলে হাসতে থাকে ৷শুধু তাই নয়, যে দু’জনকে পুলিশ পাকিস্তানি জঙ্গি বলে দাবি করছে, তাঁদের মধ্যে একজনকে আমির মাগরে বলে শনাক্ত করা গিয়েছে ৷ পুলিশে তাঁকে জঙ্গি বলে চিহ্নিত করলেও, স্থানীয়দের দাবি, মুদাসিরের ক্লিনিকে সহযোগীর কাজ করতেন আমির ৷ তাঁর বাবা আবদুল লতিফ মাগরের দাবি, ঠান্ডা মাথায় তাঁর ছেলেকে খুন করা হয়েছে ৷আবদুল মাগরে নিজেই উপত্যকায় নাশকতা বিরোধী হিসেবে পরিচিত ৷ ২০০৫ সালে পাথর দিয়ে এক জঙ্গিকে মেরে ফেলেছিলেন তিনি ৷ তার জন্য সেনাবাহিনীর তরফে তাঁকে সম্মানিতও করা হয়েছিল ৷ জঙ্গিদের হাত থেকে বাঁচতে সারা জীবন ছেলেমেয়েকে লোকচক্ষুর আড়ালে সরিয়ে রাখতেন তিনি ৷ কিন্তু ভুয়ো এনকাউন্টারে ছেলেকে মেরে ফেলার পর এখন ছেলের দেহও পুলিশ ফেরত দিচ্ছে না বলে অভিযোগ আবদুলের ৷ তাঁর কথায়, ‘‘আমার ছেলের দেহ পর্যন্ত ফেরত দেওয়া হচ্ছে না ৷ সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের এই কি পুরস্কার ! আজও আমার বাড়িতে পাহারা দেয় সেনা ৷ কাল তো তাহলে আমাকেও মেরে ফেলে জঙ্গি বলে দাগিয়ে দিতে পারে !’’পুলিশ জানিয়েছে, কুপওয়াড়া জেলার হান্দোয়ারায় নিহতদের সমাধিস্থ করা হয়ে গিয়েছে । কিন্তু মৃতদের পরিবারের দাবি, অবিলম্বে সবক’টি দেহ ফেরত দিতে হবে তাদের । নইলে প্রতিবাদ চলবেই ।

Your Opinion

We hate spam as much as you do