সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তাঁর আরও বার্তা, “মানুষকে আমরা যদি বলি, এককাট্টা হও, তবে আমাদের নৈতিক অধিকার থাকবে না, এক সঙ্গে থাকব না, এটা বলার। ব্যাপকতম ঐক্য গড়তে হবে।” সিপিআই (এম-এল) লিবারেশেনের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্যও বলেছেন, “ধর্মকেন্দ্রিক জাতীয়তাবাদ ছিল না আমাদের। জাতীয়তাবাদ বুলডোজ়ার-রাজনীতি কেন্দ্রিক হলে এবং সেটাকে মেনে নিলে সংবিধান রক্ষা করা যাবে না।”
"সংবিধান বাঁচাও" গনতান্ত্রিক শক্তিগুলোর ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের ডাক উপচে পড়ল মৌলালি যুবকেন্দ্র
02-Jun-2025
দেশে সংবিধান বিপন্ন, এই ভয়ংকর বিপদের সম্ভাবনাকে সামনে রেখে জোটবদ্ধ লড়াইয়ের ডাক দিল বাম, কংগ্রেস ও বিভিন্ন গনতান্ত্রিক শক্তি। এর সঙ্গেই বিজেপির বিরুদ্ধে ‘ভাগাভাগি’র রাজনীতির অভিযোগে সরব হয়েছেন কংগ্রেস নেতা কানহাইয়া কুমার। মৌলালি যুব কেন্দ্রে সোমবার আয়োজিত ‘সংবিধান বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ কনভেনশনে উপস্থিত হয়ে বিরোধী নেতৃত্বের গলায় এমনই নানা সুর শোনা গিয়েছে।
বিজেপি এবং আরএসএসের উদ্দেশে কানহাইয়ার বক্তব্য, “গণতন্ত্রের জন্য যাঁরা রক্ত ঝরাননি, যাঁরা সাম্রাজ্যবাদের অংশ ছিলেন, তাঁরাই আজ চেয়ারে বসে গণতন্ত্রের গলা চেপে ধরছেন। দেশবাসীর মধ্যে ভাগাভাগি করার চেষ্টা চলছে। ১৪০ কোটি মানুষকে খণ্ডিত করলে দেশের উন্নয়ন হবে?” সংবিধানে সকলের জন্য সে সমান অধিকারের কথা বলা হয়েছে, তা নষ্টের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তাঁর আরও বার্তা, “মানুষকে আমরা যদি বলি, এককাট্টা হও, তবে আমাদের নৈতিক অধিকার থাকবে না, এক সঙ্গে থাকব না, এটা বলার। ব্যাপকতম ঐক্য গড়তে হবে।” সিপিআই (এম-এল) লিবারেশেনের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্যও বলেছেন, “ধর্মকেন্দ্রিক জাতীয়তাবাদ ছিল না আমাদের। জাতীয়তাবাদ বুলডোজ়ার-রাজনীতি কেন্দ্রিক হলে এবং সেটাকে মেনে নিলে সংবিধান রক্ষা করা যাবে না।” তবে বিরোধী-একতার ‘খামতি’র কথাও মনে করাতে চেয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। তাঁর মতে, “আমাদের কাছে এখন দেশ, সংবিধান না কি রাজনৈতিক দল বড়, সেটাই প্রশ্ন হয়ে দেখা যাচ্ছে। ‘ইন্ডিয়া’ জোট হয়েছে। সংবিধান রক্ষার প্রশ্নে আমরা বিরোধী দলগুলি একত্রিত হয়েছি। কিন্তু লক্ষ্য এবং সমন্বয় সংক্রান্ত খামতি মেটাতে পারিনি।” সম্মেলনে বক্তৃতা করেছেন আইএসএফ বিধায়ক নওসাদ সিদ্দিকী, সাংবাদিক সিদ্ধার্থ বরদারাজন,
মিথ্যা খবর ছড়ালে ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। ‘অপারেশন সিন্দুর’-র সময়েও ভুয়ো খবর ছড়ানো হয়েছে। অথচ সংবিধানের পক্ষে, দেশের পক্ষে কথা বললে সেই সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
‘সংবিধান বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ কনভেনশনে একথা বলেছেন ‘দ্যা ওয়ার’-র সংবাদ পোর্টালের সম্পাদক সিদ্ধার্থ বরাদরাজন। এদিন কনভেনশনে আহয়ায়কদের তরফে কল্লোল মজুমদার ও প্রসেনজিত বসু বলেন, দেশের পাশাপাশি রাজ্যেও সংবিধান আক্রান্ত। কারণ গণতন্ত্রকে ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে এ রাজ্যে। সে কারণে সংবিধান রক্ষার পক্ষে একজোটে বড় লড়াইয়ে নামতে হবে।
এছাড়া বক্তব্য রাখেন সিপিএম নেত্রী সায়রা শাহ হালিম প্রমুখ।
প্রসেনজিৎ বসু, আলি ইমরান রামজ, কল্লোল মজুমদার প্রমুখের আহ্বানে হওয়া কনভেনশন থেকে পহেলগাম হামলা পরবর্তী ঘটনা নিয়ে সংসদে অধিবেশ ডাকা, ওয়াকফ সংশোধনী, নাগরিকত্ব সংশোধিত আইন বাতিলের দাবিও উঠেছে। রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে গণতন্ত্রের অবক্ষয় হয়েছে বলে অভিযোগ করে তা পুনরুদ্ধারের দাবিও জানানো হয়েছে।
We hate spam as much as you do