Tranding

01:28 PM - 04 Feb 2026

Home / National / মোদি সরকারের নিন্দা করে, সংবিধান দিবস বয়কট করলেন ১৪বিরোধী দল।

মোদি সরকারের নিন্দা করে, সংবিধান দিবস বয়কট করলেন ১৪বিরোধী দল।

বিরোধীদের বক্তব্য ভারতীয় সংবিধানকে সবথেকে বেশি যিনি অগ্রাহ্য করছেন, তিনিই সংবিধান দিবসে অংশ নিচ্ছেন? গণতন্ত্রকে যে সরকার প্রতি মুহূর্তে ধ্বংস করছে, তারাই গণতন্ত্রের জয়গান গাইছে সংবিধানকে সামনে রেখে? বিজেপি বিরোধী তাবৎ দল এভাবেই নরেন্দ্র মোদিকে তীব্র আক্রমণ করে সংসদ ভবনে সংবিধান দিবসের অনুষ্ঠান বয়কট করল।

মোদি সরকারের নিন্দা করে, সংবিধান দিবস বয়কট করলেন ১৪বিরোধী দল।

মোদি সরকারের নিন্দা করে, সংবিধান দিবস বয়কট করলেন ১৪বিরোধী দল।

newscopes.in 
গতকাল ২৬শে নভেম্বর সংবিধান দিবস উদযাপন উপলক্ষে, রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ শুক্রবার সংসদের কেন্দ্রীয় হলে একটি প্রস্তাবনা পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সুচনা করেন, যেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একটি বিশেষ সমাবেশে ভাষণ দেন। রাষ্ট্রপতি কোবিন্দ তার ভাষণে জাতির উদ্দেশে বলেন , তারপর উপস্থিত সকলে তাঁর সাথে সংবিধানের প্রস্তাবনা পাঠের অধিবেশনে অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (PMO) এর একটি বিবৃতি অনুসারে, রাষ্ট্রপতি সংসদ ভবনের সেন্ট্রাল হলে গণপরিষদের বিতর্কের একটি ডিজিটাল সংস্করণ প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রী মোদি নয়াদিল্লির বিজ্ঞান ভবনে দুই দিনের সংবিধান দিবস উদযাপনের উদ্বোধন করলেনন এবং সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

এদিকে, কংগ্রেস সহ বেশ কয়েকটি বিরোধী দল এই অনুষ্ঠান বয়কট করেছে। বিরোধী দলগুলি কর্মসূচি থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নেওয়ার পরে বিজেপি কংগ্রেস সহ অন্যান্য দলকে আক্রমণ করেছে। কংগ্রেস, সিপিআইএম সহ  বাম দল, তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি), আরজেডি, শিবসেনা, এনসিপি, এসপি, আইইউএমএল এবং ডিএমকে সহ 14 টি দল আজ সংসদের সেন্ট্রাল হলে অনুষ্ঠিত হওয়া সংবিধান দিবসের অনুষ্ঠান বয়কট করেছে।
 

এদিকে, প্রবীণ বিজেপি নেতা এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল বলেছেন যে কংগ্রেস এবং 14টি বিরোধী দল সংসদে সংবিধান দিবস উদযাপন বয়কট দেশের সংবিধানের অবমাননা। এটি প্রমাণ করে যে কংগ্রেস কেবল নেহেরু পরিবারের নেতাদের সম্মান করতে পারে, বি আর আম্বেদকর সহ অন্য কোনো নেতাকে নয়। এই বিরোধী দলগুলি প্রায়শই মোদী সরকারের কর্ম ও নীতির বিরোধিতা করে এবং তাদের অসাংবিধানিক বলে এবং নিজেদেরকে সংবিধানের রক্ষক বলে, তাই সংবিধান দিবসে গণপরিষদ বয়কট করা অবশ্যই তাদের সম্পর্কে প্রশ্ন তোলে।
 

বিরোধীদের বক্তব্য ভারতীয় সংবিধানকে সবথেকে বেশি যিনি অগ্রাহ্য করছেন, তিনিই সংবিধান দিবসে অংশ নিচ্ছেন? গণতন্ত্রকে যে সরকার প্রতি মুহূর্তে ধ্বংস করছে, তারাই গণতন্ত্রের জয়গান গাইছে সংবিধানকে সামনে রেখে? বিজেপি বিরোধী তাবৎ দল এভাবেই নরেন্দ্র মোদিকে তীব্র আক্রমণ করে সংসদ ভবনে সংবিধান দিবসের অনুষ্ঠান বয়কট করল। শুক্রবার বিরোধীদের সম্মিলিত এই বয়কটে বিজেপি রীতিমতো কোণঠাসা হয়েছে। কারণ, সংসদের শীতকালীন অধিবেশন শুরুর প্রাক্কালেই বিরোধী দল বনাম মোদি সরকারের প্রবল সংঘাতের পূর্বাভাসে স্পষ্ট, বিরোধীরা একজোট।
বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব আশা করেছিল, বিরোধী জোট ছত্রভঙ্গ হয়েছে। কিন্তু সেই আশায় জল ঢেলে দেখা গেল, শুক্রবার সংবিধান দিবসের অনুষ্ঠান বয়কট করল তাবৎ বিজেপি বিরোধী দলই। সংসদ ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানের ওই দৃশ্য থেকেই বার্তা পাওয়া যাচ্ছে, জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপিকে একঘরে করে ফেলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিগত কয়েক বছরে বিজেপির বন্ধুর সংখ্যা কমতে কমতে তলানিতে। তেলুগু দেশম থেকে শিরোমণি অকালি দল। সকলেই একে একে বিচ্ছিন্ন করেছে এনডিএ’র সঙ্গ। এমনকী হঠাৎ এতদিনের বন্ধু বিজু জনতা দল ও তেলেঙ্গানা রাষ্ট্রীয় সমিতির আচরণেও সিঁদুরে মেঘ দেখতে পাচ্ছে বিজেপি নেতৃত্ব। বিরোধীদের সুরেই সম্প্রতি বিজু জনতা দল  ডেটা প্রোটেকশন খসড়া আইনে আপত্তি তুলেছে। তেলেঙ্গানা রাষ্ট্রীয় সমিতিও কেন্দ্র বিরোধী সুর চড়াচ্ছে একের পর এক ইস্যুতে। সুতরাং, যতই ২০২৪ সালে এগিয়ে আসছে, মোদি সরকারের জোট শরিক ও বন্ধুর সংখ্যা কমছে। পক্ষান্তরে, বিরোধী জোটের শক্তিবৃদ্ধি হচ্ছে।
আর সেই নির্দেশ মেনেই রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা কংগ্রেসের মল্লিকার্জুন খাড়গে তৃণমূলসহ প্রত্যেক দলকে সংসদের অন্দরে সমন্বয় সংক্রান্ত বৈঠকে আহ্বান করেছেন। একইভাবে শুক্রবারও তৃণমূল থেকে রাষ্ট্রীয় জনতা দল। সমাজবাদী পার্টি থেকে ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি, সকলেই সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির উপস্থিতি সত্ত্বেও সংবিধান দিবস পালন অনুষ্ঠান বয়কট করে। 
বিরোধীদের অভিযোগ, ২৬ নভেম্বর ১৯৪৯ সালে ভারতের সংবিধান গ্রহণ করা হয়েছিল। বহু দেশি বিদেশি বিশেষজ্ঞ স্বাধীনতার পর আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে, ভারতের গণতান্ত্রিক চরিত্র বজায় থাকবে না। কিন্তু সব আশঙ্কাকে ভ্রান্ত প্রমাণ করে আজও ভারত শক্তিশালী গণতন্ত্র হিসেবে টিকে আছে মাথা উঁচু করে। আর এই সম্মানের চালিকাশক্তি হল সংবিধান। সেই সংবিধানকে প্রতিনিয়ত মোদি সরকার অগ্রাহ্য করছে বলেই বিরোধীদের অভিযোগ। সংবিধান মান্যতা দেয় গণতন্ত্রকে। আর সেই গণতন্ত্রের মন্দির সংসদ। অথচ মোদি সরকার বিরোধীদের গণতান্ত্রিক অধিকারকে পাশ কাটিয়েই একের পর এক বিল পাশ করিয়ে চলেছে। কোনও আলোচনা হয় না, হয়না ভোটাভুটিও, এমনই অভিযোগ। তার প্রতিবাদেই সংসদে প্রতীকী সংবিধান দিবস অর্থহীন। পাল্টা বিরোধীদেরও আক্রমণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, গণতন্ত্রকে যারা সম্মান দিতে জানে না, তাদের জনগণকেও কিছু দেওয়ার নেই।

Your Opinion

We hate spam as much as you do