Tranding

11:40 AM - 04 Feb 2026

Home / Entertainment / শিক্ষক দিবসে অভিযোগ, কবিতা

শিক্ষক দিবসে অভিযোগ, কবিতা

মহা-সভাস্থলে উচ্ছৃঙ্খল দুঃশাসন মহা-কান্তার আব্রু ধরে টানাটানি করে, প্রতিবাদ প্রতিরোধ স্তব্ধ করে দিতে দুর্যোধন ছড়ায় বিদ্বেষ আর বিভেদের বিষ, প্রহরীর চাবুকে বিক্ষত ন্যায়ের পতাকা।

শিক্ষক দিবসে অভিযোগ, কবিতা

যন্ত্রনার শিক্ষক দিবস
 কল্যান  সরকার
 
পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলার উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং মাদ্রাসাতে সরকার অনুমোদিত আমরাই একমাত্র চুক্তি ভিত্তিক শিক্ষক। আমরা যাঁরা কোনো প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত শিক্ষক নয়। আমরা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অনুমোদিত পদে একমাত্র চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক যাঁদের বেতন সরকারের গ্র্যান্ট-ইন-এইড ( Grant-in aid) থেকে  দেওয়া হয়।


সরকারী নির্দেশিকা অনুসারে একজন পূর্ণ সময়ের শিক্ষক শিক্ষিকার ন্যায় আমারাও সপ্তাহে ৬ দিন সকাল ১০.৩০ থেকে বিকাল ৪.৩০ পর্যন্ত একই দায়িত্ব (  বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ সকল কাজে অংশগ্রহণ  মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের পরীক্ষার নজরদারি,  খাতা দেখা, স্ক্রুটিনি, নির্বাচনী দায়িত্ব পালন সহ সমস্ত শিক্ষা সংক্রান্ত সরকারী কাজে অংশগ্রহন) পালন করে থাকি। 
বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের উচ্চমাধ্যমিক চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক /শিক্ষিকারা আজ এক চরম অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে দিয়ে দিনযাপন করছেন।বর্তমানে ৮০৪ জন এম.এ, এম.এস.সি, এম.কম, ও বি.এড, যোগ্যতা সম্পন্ন  উচ্চমাধ্যমিক চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক শিক্ষিকার দীর্ঘ ১৯ বছর চাকুরী করার পর মাত্র ১৩১২৭ টাকা বেতনে দৈনন্দিন জীবনযাপন কষ্টকর হয়ে উঠেছে।

যেখানে সরকারী চুক্তিভিত্তিক গ্রুপ- সি এবং গ্রুপ -ডি কর্মচারীদের বেতন যথাক্রমে ২১০০০ এবং ১৯০০০ টাকা। এ এক আজব রাজ্য যেখানে শিক্ষকরা গ্রপ - ডি কর্মচারীদের চেয়েও নিচে।আর যখনই ন্যয্য দাবি নিয়ে আন্দোলনে নামা হয় তখন হয় বিরোধী দলের ক্যাডার নয়তো জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা। আমাদের কি অধিকার নেই অন্তত একটা পে-স্কেল পাওয়ার? আর সেই দাবি কার কাছে জনাবো? নিজেকে জনদরদী বললেও রাজ্য সরকার সত্যিই কি আমাদের প্রতি দরদ দেখাচ্ছেন?  


আজ শিক্ষক দিবসে আমরা শিক্ষক হয়েও দীর্ঘ ১৯ বছরে ধরে  বঞ্চনার শিকার। আর আজকের দিনেই আমাদের অঙ্গীকার হোক বাঁচতে যদি হয় বাঁচার মতনই বাঁচবো। অধিকার বুঝে নিতে হয়।অধিকার আদায় করে নিতে হয়।অধিকার আদায় করেই ছাড়বো। 
এইটুকুই অভিযোগ রইল শিক্ষক দিবসে। 

 

 

 কান্তা---- এ যুগের কুরুক্ষেত্র 

   প্রবীর ভদ্র       

পাশার দান ফেলে
কুটিল শকুনি
জিতে গেছে বাজি।
দুর্যোধন দুঃশাসন 
আরো সব কৌরব ভায়েরা
ক্রূর কামনায় ছটফট করে,
ঈপ্সিত মহাকান্তা তাদের দখলে।

দন্ড হাতে অন্ধ ধৃতরাষ্ট্র, 
বিচারের নামে নির্বাক দর্শক। 
অসহায় কুরুবৃদ্ধগণ
অন্তরালে ফেলে দীর্ঘশ্বাস----
নখ-দন্তহীন তারা শকুনির চালে।

দুর্যোধন করে আস্ফালন
চতুর্দিকে সৃষ্টি করে ত্রাস।
নির্বোধ-ভন্ড-দুরাচারী দুঃশাসন---
অমঙ্গল আশঙ্কায় গৃ্হস্থরা থরথর কাঁপে
শিয়ালের মত খ্যাক খ্যাক হাসে দুষ্ট শকুনি।

মহা-সভাস্থলে উচ্ছৃঙ্খল দুঃশাসন
মহা-কান্তার আব্রু ধরে টানাটানি করে,
প্রতিবাদ প্রতিরোধ স্তব্ধ করে দিতে
দুর্যোধন ছড়ায় বিদ্বেষ আর বিভেদের বিষ,
প্রহরীর চাবুকে বিক্ষত ন্যায়ের পতাকা।

অমৃত সমান মহাভারতের কথা
তবে এত হলাহল কোথা থেকে এলো?
দাপায় সবখানে কুটিল শকুনি
দুর্যোধন দুঃশাসনও হাঁকাহাঁকি করে?

ভীত-ত্রস্ত ভারতবাসী ঐক্য গড়ে তোলে
ন্যায়ের পক্ষে নিপীড়িত জনগণ পক্ষাভুক্ত হয়
বিভেদের কালিমা মুছে প্রস্তুতি গড়ে,
পুনর্বার শুরু হবে মহারণ--- মহা-ভারতের।

বাজাও "পাঞ্চজন্য"
উঠুক বেজে "গান্ডীবের" টঙ্কার
গদাঘাতে ভাঙো দুর্যোধনের উরু
দুঃশাসনের রক্তে, 
বেণী বন্ধন করবে 
মুক্তকেশী-কান্তা।

                                                                                                                        

 

Your Opinion

We hate spam as much as you do