Tranding

05:10 PM - 04 Feb 2026

Home / Politics / হিন্দু মহাসভার গান্ধী বিরোধিতা! নিন্দায় মুখর বাঙালী তবে অসুর হিসেবে দেখানো নাকি কাকতালীয় ?

হিন্দু মহাসভার গান্ধী বিরোধিতা! নিন্দায় মুখর বাঙালী তবে অসুর হিসেবে দেখানো নাকি কাকতালীয় ?

বাম নেতা নীলোৎপল বসু। তিনি ফেসবুকে প্রতিবাদ জানিয়ে লিখেছেন, 'ব্যাপকতম প্রতিবাদ আর প্রতিরোধে এই অপরাধী ও তাদের সমর্থকদের বিচ্ছিন্ন করতে হবে।' তীব্র প্রতিবাদ করেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমও। তিনি বলেন, "স্বাধীনতা সংগ্রামে গান্ধীজির ভূমিকা অনস্বীকার্য। হিন্দুত্ববাদী নেতাদের হাতে নিহত হয়েছিলেন। এখন প্রতিদিন তাঁর ভাবাদর্শকে খুন করা হচ্ছে।" 

হিন্দু মহাসভার গান্ধী বিরোধিতা! নিন্দায় মুখর বাঙালী তবে অসুর হিসেবে দেখানো নাকি কাকতালীয় ?

হিন্দু মহাসভার গান্ধী বিরোধিতা! নিন্দায় মুখর বাঙালী তবে অসুর হিসেবে দেখানো নাকি কাকতালীয় ?

October 3, 2022


উৎসবে  রাজ্য তোলপাড়। কারণ, মহাত্মা গান্ধীকে অসুর হিসেবে দেবী দুর্গার পদতলে বর্শা বিদ্ধ অবস্থায় একটি প্রতিমা কলকাতাতেই পুজো পাচ্ছে। শুধু রাজ্য নয় এভাবে ‘গান্ধী বধ’ দুর্গামূর্তি দেশের সর্বত্র বিতর্ক তৈরি করেছে। রাজ্য সরকার  নীরব। কেন্দ্র সরকার  নীরব। জাতীয় কংগ্রেস নীরব। তবে গান্ধীকে অসুর হিসেবে কল্পনা করে দুর্গাপূজার প্রবল বিরোধিতা করছেন নেটিজেনরা। তাঁদের ক্ষোভ তুঙ্গে। এই বিতর্কে জড়িয়েছে অখিল ভারতীয় হিন্দু মহাসভা।


হিন্দু মহাসভা সংগঠনটির দুর্গাপূজা নিয়ে তীব্র বিতর্ক চলছে। হিন্দুত্ববাদী এই সংগঠনটির সভাপতি ছিলেন প্রয়াত শ্যামাপ্রসাদ মু়খার্জি। তিনি বিজেপির রাজনৈতিক গুরু বলে স্বীকৃত। ফলে কলকাতার রুবি পার্কে অসুর হিসেবে ‘গান্ধী বধ’ বিতর্কে জড়িয়েছে বিজেপি। তাৎপর্যপূর্ণ, বঙ্গ বিজেপি নীরব।
বিতর্কের জবাব দিয়েছেন পুজোটির উদ্যোক্তা তথা হিন্দু মহাসভার পশ্চিমবঙ্গ সভাপতি চন্দ্রচূড় গোস্বামী। তিনি বলেছেন, গান্ধীকে মানিনা। তবে অসুর হিসেবে গান্ধীকে দেখানো কাকতালীয়।


বিতর্ক এর পরেও বেড়েছে। মূর্তি তৈরি ও সেটি প্যান্ডেলে আনার পর পুজো করা সবই কি কাততালীয়? হিন্দু মহাসভার রাজ্য সভাপতির দাবি, গান্ধীকে জাতির জনক বলে মানিনা। নেতাজীকে শ্রদ্ধা করি। প্রধানমন্ত্রী মোদী যেভাবে গান্ধী স্তুতি করেছেন ২ অক্টোবর তারও বিরোধিতা করছি।

এদিকে বিতর্ক আরও বাড়ছে, কারণ সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন, হিন্দু মহাসভার উদ্যোগে রুবি পার্কের দুর্গাপূজায় ‘গান্ধী বধ’ ছবি ছড়ানোর পর কেন সেই পুজো বন্ধ করা হলনা? অভিযোগ, এলাকার তৃণমূল নেতৃত্ব সবই জানতেন। তাঁরা বিতর্ক হোক এটা চেয়ে প্রথমেই হিন্দু মহাসভাকে আটকাননি।

এই ঘটনার নিন্দা করেছেন বাম নেতা নীলোৎপল বসু। তিনি ফেসবুকে প্রতিবাদ জানিয়ে লিখেছেন, 'ব্যাপকতম প্রতিবাদ আর প্রতিরোধে এই অপরাধী ও তাদের সমর্থকদের বিচ্ছিন্ন করতে হবে।' তীব্র প্রতিবাদ করেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমও। তিনি বলেন, "স্বাধীনতা সংগ্রামে গান্ধীজির ভূমিকা অনস্বীকার্য। হিন্দুত্ববাদী নেতাদের হাতে নিহত হয়েছিলেন। এখন প্রতিদিন তাঁর ভাবাদর্শকে খুন করা হচ্ছে।" 

প্রতিবাদ করেছেন কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরীও। তিনি বলেন, এই ধরনের ঘটনা যারা ঘটিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা হওয়া উচিত। ঘটনা অবাক তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তিনি জানান, এমন ঘটনা ভাবাই যায় না।

স্বাধীনতার মুহূর্তে মহাত্মা গান্ধী কলকাতায় ছিলেন। দেশভাগের ভয়াবহ ধর্মীয় গোষ্ঠিসংঘর্ষ চলছিল। তিনি অনশন শুরু করেন। পরে তাঁর সামনে অস্ত্র নামায় হামলাকারীরা। এরপর দিল্লিতে প্রকাশ্যে গুলি করে খুন করা হয় মহাত্মা গান্ধীকে। খুনি নাথুরাম গডসে হিন্দুত্ববাদী ছিল। তাকে বিশেষ সম্মান করে সংঘ ঘনিষ্ঠ হিন্দুত্ববাদীরা।

অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুত্ববাদীরা বিভিন্ন কৌশলে বাঙালি সংস্কৃতির উপর আঘাত করতে মরিয়া। এতে প্রচ্ছন্ন মদত দেয় সংঘ পরিবার (RSS) ও তাদের ঘনিষ্ঠ বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী সংগঠন। হিন্দু মহাসভা এমনই একটি সংগঠন। আরও অভিযোগ, দুর্গাপূজাকে নবরাত্রি হিসেবে বাঙালিদের মধ্যে চালাতে মরিয়া হিন্দি বলয়ের হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি।

Your Opinion

We hate spam as much as you do