রাজনৈতিক মহলেরও অনেকেই ব্যাখ্যা করেছেন, সৌরভের সঙ্গে ক্রিকেটার জীবনে রাজনীতি হয়েছে, বিসিসিআই পদেও রাজনীতি হল। এখন সৌরভের উচিত আরও উচ্চপদে দৃষ্টি দেওয়া। রাজনীতির সংকীর্ণ পরিসরে প্রবেশ না করে, আরও উন্মুক্ত করে দেওয়ার দরকার নিজেকে। তিনি নিশ্চিয়ই তেমন কিছু ভাবছেন, যাতে তিনি মাথা উঁচু করে বাংলার গর্বের মর্যাদায় আসীন থাকতে পারেন।
বিজেপিতে যোগ দেননি বলেই সৌরভকে BCCI পদ থেকে সরানো হল?
Wed, Oct 12, 2022,
সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নাম বিসিসিআই সভাপতি হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে মনোনীত না হওয়ার পর থেকেই জল্পনা শুরু হয়েছে। তাঁর অপসারণের পথ ধরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। তৃণমূলের তরফে দাবি করা হয়েছে, সৌরভ বিজেপিতে যোগ দেননি বলে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হল এভাবে। পুরোটাই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা। বিজেপি সেই অভিযোগ যথারীতি উড়িয়ে দিলেও বিতর্কে থেমে থাকছে না।
বঙ্গের মুখ সৌরভ, ভেবেছিল বিজেপি!
সৌরভের বিসিসিআই সভাপতি পদ থেকে অপসারণের খবর সামনে আসার পরই পুরনো বিতর্ক ফের সামনে চলে এসেছে। একুশের নির্বাচনের আগে থেকেই বারবার সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নাম সামনে এসেছে। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন। তিনি বঙ্গ বিজেপির মুখ হতে পারেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে সৌরভের নাম ভাবছে বিজেপি, এমন নানা জল্পনা চলেছিল প্রাক নির্বাচনী পর্বে।
উঠে পড়ল রাজনৈতিক প্রতিহিংসার তত্ত্ব
এমনকী নির্বাচনের সময় অমিত শাহ সৌরভের বাড়িতে গিয়ে সপারিষদ নৈশভোজ সেরেছিলেন। তা নিয়েও কম রটনা হয়নি। তখন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট। আর অমিত শাহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তখনও সৌরভের রাজনীতিতে পদার্পণ নিয়ে জল্পনা ছিল তুঙ্গে। এখন সৌরভ বিসিসিআই সভাপতি পদে পুনর্নির্বাচিত না হতেই উঠে পড়ল রাজনৈতিক প্রতিহিংসার তত্ত্ব।
রাজনীতির অঙ্গনে তাঁর ছায়া পড়েনি।সৌরভ থাকছেন না ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডে, কিন্তু থাকছেন অমিত শাহের ছেলে জয় শাহ। তাই বিরোধীরা এই ইস্যুকে হাতে তুলে নিতে দেরি করেনি। বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হয়েছে তৃণমূল। তবে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে নিয়ে যতই রটনা হোক, তিনি বরাবরই নিশ্চল রয়েছেন। রাজনীতির অঙ্গনে তাঁর ছায়া পড়েনি। তিনি সর্বদা ব্যালান্স করে চলেছেন। কেন্দ্রের বিজেপি আর রাজ্যের তৃণমূল কোনওদিকেই তিনি ঝোঁকেননি। রাজনীতি থেকে নির্দিষ্ট দূরত্ব রেখে চলেছেন। এমনকি বারবার সিপিআইএম এর প্রাক্তন মন্ত্রী অশোক ভট্টাচার্য্যের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন।
তিনি যে একজন আন্তর্জাতিক ফিগার!
মাঝে এমন রটনাও হয়েছিল তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠানো হতে পারে। কোন দল থেকে তিনি রাজ্যসভায় যাবেন, তা নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছিল। কিন্তু সমস্ত জল্পনা কেটে তিনি স্বমহিমায় বিরাজিত থেকেছেন। তিনি ক্রিকেটেই মনোনিবেশ করেছেন। ভারতীয় ক্রিকেটের উন্নতির ভাবনায় সময় দিয়েছেন। তিনি যে একজন আন্তর্জাতিক ফিগার, রাজনীতির কচকচানিতে তাঁর না থাকাই ভালো, সেটা তিনি পরতে পরতে বুঝিয়ে দিয়েছেন। তা বুঝিয়ে দিয়েছেন বলেই, তাঁকে এভাবে সরে যেতে হল বিসিসিআইয়ের পদ থেকে।
রাজনীতির পরিসরে প্রবেশ নয়
রাজনৈতিক মহলেরও অনেকেই ব্যাখ্যা করেছেন, সৌরভের সঙ্গে ক্রিকেটার জীবনে রাজনীতি হয়েছে, বিসিসিআই পদেও রাজনীতি হল। এখন সৌরভের উচিত আরও উচ্চপদে দৃষ্টি দেওয়া। রাজনীতির সংকীর্ণ পরিসরে প্রবেশ না করে, আরও উন্মুক্ত করে দেওয়ার দরকার নিজেকে। তিনি নিশ্চিয়ই তেমন কিছু ভাবছেন, যাতে তিনি মাথা উঁচু করে বাংলার গর্বের মর্যাদায় আসীন থাকতে পারেন।
We hate spam as much as you do