Tranding

01:28 PM - 04 Feb 2026

Home / Politics / কলকাতা পুর নির্বাচনে বাম প্রচারে ঝড়। খোলা রাস্তায় ইস্তাহার প্রকাশ। সবুজ শহরের ডাক

কলকাতা পুর নির্বাচনে বাম প্রচারে ঝড়। খোলা রাস্তায় ইস্তাহার প্রকাশ। সবুজ শহরের ডাক

এবারে কলকাতার স্টিয়ারিং বাম দিকে ঘুরিয়ে দিন। ইস্তাহারে বামেরা বলেছে ‘উঠোনে পাঠশালা’র কথা। কল্লোলবাবুর বক্তব্য, ‘‘ঘরোয়া ভাবে এমন পড়াশোনার কাজ শুরু করে তাকে প্রথাগত ধারার সঙ্গে জুড়ে দেওয়া যায়। সে ভাবনা আমাদের আছে।"

কলকাতা পুর নির্বাচনে বাম প্রচারে ঝড়। খোলা রাস্তায়  ইস্তাহার প্রকাশ। সবুজ শহরের ডাক

কলকাতা পুর নির্বাচনে বাম প্রচারে ঝড়। খোলা রাস্তায়  ইস্তাহার প্রকাশ। সবুজ শহরের ডাক 

 

খাদে পড়ার আগে এবারে কলকাতার স্টিয়ারিং বাম দিকে ঘুরিয়ে দিন।

কলকাতা পুর নির্বাচনের আগে শহরবাসীর উদ্দেশ্য বামফ্রন্টের প্রকাশিত পত্রে সতর্কবার্তা উঠে এসেছে। প্রমোটার-সাপ্লায়ার-সিন্ডিকেট-তৃণমূল নেতা-কর্পোরেশন ব্যবসা জমে উঠেছে। মাটির নিচে জলস্তর কমছে। তিন তলার অনুমতি নিয়ে তৈরি হচ্ছে ১০ তলা। কলকাতা এখন ভূমিকম্প প্রবণ শহরের মানচিত্রে।


এই পত্রে বামফ্রন্ট বলেছে, বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে সমুদ্রের জল ঢুকে পড়তে চলেছে পৃথিবীর ২০টি শহরে। সেই তালিকায় রয়েছে কলকাতা। গঙ্গার জল জোয়ারের সময় হাঁটু জলে ভাসবে ইডেন। এই ঘটনা ঘটতে পারে মাত্র ১০ বছর পর। কিছু মানুষের লোভ হবে দায়ী। সে পত্রে আরও অভিযোগ, কলকাতা হয়ে উঠেছে সাইক্লোনের রাজধানী। যশ, আমফনের প্রভাব চোখে পড়েছে। কলকাতার রাস্তায় দুর্যোগে ফলে গাছ পড়েছে। পাড়ায় পাড়ায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। বেআইনি নির্মাণের ফলে জলাশয় কমেছে। কলকাতা হয়ে উঠছে এক মৃত্যুপুরী।

বলা হয়েছে, ১০ বছরের বেশি ক্ষমতায় নেই বামফ্রন্ট সরকার। এখন 'বস্তি রেখে বস্তি উন্নয়ন' বাতিল ধারণা। বস্তি উচ্ছেদ এবং প্রমোটিং ছাড়া তৃণমূলী পুরবোর্ডের গতি নেই। ডেঙ্গু এখন বাৎসরিক মহামারী। পুরসভা শুধু হোর্ডিং লাগিয়েই কাজ সারছে। জনস্বাস্থ্য লাটে উঠেছে। পরিশ্রুত পানীয় জলের দেখা নেই। এছাড়া দিল্লি খুব দূর নয়। কলকাতার বায়ু দূষণের মাত্রা বেড়েই চলেছে। বার বার বলা সত্ত্বেও সিএনজি চালু হচ্ছে না।


কলকাতা পুরসভায় ২৮ হাজার শূন্যপদ। কিন্তু চাকরি হচ্ছে কই? পুরসভাতেই কয়েক হাজার ঠিকা কর্মী। তারা পাকা চাকরি পেলেন না কেন? উত্তর নেই। বামফ্রন্ট বলছে, গ্যাস ও পেট্রোলের দাম বাড়ছে। ফ্রি-ভ্যাকসিন দেওয়ার নামে বেশি ট্যাক্স আদায় করছে কেন্দ্র। রাজ্যের ভাগ পাচ্ছে তৃণমূল সরকার। এদিকে মানুষ দেখছে বাজারে জিনিসের আগুন দাম। বাস-অটোর ভাড়ায় রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ নেই। প্রতি ভোটে তৃণমূলের প্রতিশ্রুতি। বিজেপি-তৃণমূল ধর্মের সুড়সুড়িও দিচ্ছে।  পুরসভা, লোকসভা, বিধানসভার পর আবার পুরভোট। যা অনেক আগেই হওয়ার কথা ছিল। বামফ্রন্টের আবেদন, এবারে কলকাতার স্টিয়ারিং বাম দিকে ঘুরিয়ে দিন।


দলীয় দফতরের চার দেওয়ালের মধ্যে নয়। প্রথা ভেঙে এ বার শহরের প্রাণকেন্দ্রে কার্যত রাস্তায় দাঁড়িয়ে কলকাতা পুরভোটের ইস্তাহার প্রকাশ করল বামফ্রন্ট! সেই ইস্তাহারে জোর দেওয়া হয়েছে ‘গ্রিন সিটি, ফিট সিটি’ গড়ার উপরে। আর রাজনৈতিক ভাবে তাদের আহ্বান, ‘কলকাতার স্টিয়ারিং বাঁ দিকে ঘুরিয়ে দিন’!


ধর্মতলায় লেনিন মূর্তি চত্বরে গত সোমবার দুর্যোগ মাথায় নিয়েই আনুষ্ঠানিক ভাবে ইস্তাহার প্রকাশ করেছেন কলকাতা জেলা বামফ্রন্টের নেতারা। হাজির ছিলেন সিপিএম, সিপিআই, আরএসপি ও ফরওয়ার্ড ব্লকের চার জেলা সম্পাদক কল্লোল মজুমদার, প্রবীর দেব, দেবাশিস মুখোপাধ্যায় ও জীবন সাহা। কলকাতার বর্তমান পরিস্থিতি, দাবি-দাওয়া নিয়ে বামেদের সাম্প্রতিক আন্দোলন এবং বামেদের হাতে পুরবোর্ড এলে তারা কী করতে চায়— এই ভাবনায় সাজানো হয়েছে পুরভোটের ইস্তাহার। কলকাতা জেলা বামফ্রন্টের আহ্বায়ক কল্লোল মজুমদার  বলেন, ‘‘সারা বছর আমরা রাস্তায় আছি। তাই রাস্তায় দাঁড়িয়েই ইস্তাহার প্রকাশ করছি।’’


প্রান্তিক পরিবারগুলির ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার সুয়োগ দিতে পুরসভার স্কুল চলত। তেমন অনেক স্কুলই এখন বন্ধ, কিছু ক্ষেত্রে স্কুলের জমিও হস্তান্তর হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ। ইস্তাহারে বামেরা বলেছে ‘উঠোনে পাঠশালা’র কথা। কল্লোলবাবুর বক্তব্য, ‘‘ঘরোয়া ভাবে এমন পড়াশোনার কাজ শুরু করে তাকে প্রথাগত ধারার সঙ্গে জুড়ে দেওয়া যায়। সে ভাবনা আমাদের আছে।’’

করোনা ও লকডাউনের সময়ে বামেদের উদ্যোগে যদি কলকাতা ও আশেপাশে শ’খানেক শ্রমজীবী ক্যান্টিন চালানো যায়, তা হলে শাসক পক্ষ তা কেন করল না— সেই প্রশ্নও তুলেছেন কল্লোলবাবুরা। ওই ধরনের ক্যান্টিন পুরসভার উদ্যোগে চালানোর প্রতিশ্রুতিও রয়েছে বাম ইস্তাহারে। অতিমারি পরিস্থিতিতে ‘রেড ভলান্টিয়ার্স’ বাহিনী যে ভাবে কাজ করেছে, তাকে পুঁজি করতেও চাইছে বামেরা। প্রার্থী তালিকায় অন্তত ৪২ জন আছেন, যাঁরা ‘রেড ভলান্টিয়ার্স’ হিসেবে কাজ করেছেন। কাজের জন্য বাইরে চলে যাওয়া ছেলেমেয়েদের অনুপস্থিতিতে যে বাবা-মায়েরা এই শহরে নিঃসঙ্গ হয়ে আছেন, তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার রয়েছে ইস্তাহারে। পাশাপাশিই বলা হয়েছে, ‘জোরে ছুটছে আমাদের শহর। খাদে পড়ার আগে এবারে কলকাতার স্টিয়ারিং বাম দিকে ঘুরিয়ে দিন।

 

 

Your Opinion

We hate spam as much as you do