সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, “এই হামলার একমাত্র উদ্দেশ্য হলো ভেনেজুয়েলার কৌশলগত সম্পদ—বিশেষ করে তেল ও খনিজ সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া।” একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই হামলার নিন্দা জানানোর আহ্বান জানিয়ে একে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করা হয়, যা লাখো মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
খনিজ তেলের দখল নিতে ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ মার্কিন হামলা, লাতিন দেশে সাম্রাজ্যবাদ
০৩ জানুয়ারি ২০২৬,
ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে বেসামরিক ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার (০৩ জানুয়ারি) ভোররাতে রাজধানী কারাকাসে একাধিক বিস্ফোরণের পর এ অভিযোগ করেন ভেনেজুয়েলা সরকারের কর্মকর্তরা।
এক বিবৃতিতে ভেনেজুয়েলা সরকার এই হামলার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে নাগরিকদের আহ্বান জানায় এবং বলে, ওয়াশিংটনের এ ধরনের “অত্যন্ত গুরুতর” সামরিক আগ্রাসন লাতিন আমেরিকাকে অস্থিরতার মুখে ঠেলে দিতে পারে। এই সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন প্রতিহত করতে গোটা দেশকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে, সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশেই ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে এসব হামলা চালানো হয়েছে। শনিবার ভোরের দিকে কারাকাসে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং আকাশে নিচু দিয়ে যুদ্ধবিমান উড়তে দেখা যায়। বিবৃতিতে ভেনেজুয়েলা সরকার নিশ্চিত করেছে যে রাজধানী কারাকাস ছাড়াও মিরান্ডা, লা গুয়াইরা ও আরাগুয়া—এই তিনটি রাজ্যেও হামলা হয়েছে।
সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, “এই হামলার একমাত্র উদ্দেশ্য হলো ভেনেজুয়েলার কৌশলগত সম্পদ—বিশেষ করে তেল ও খনিজ সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া।” একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই হামলার নিন্দা জানানোর আহ্বান জানিয়ে একে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করা হয়, যা লাখো মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
প্রতিবেশী দেশ কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছেন, ভেনেজুয়েলা বর্তমানে হামলার শিকার হচ্ছে। সামাজিক মাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, “এই মুহূর্তে তারা কারাকাসে বোমা হামলা চালাচ্ছে… ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে বোমাবর্ষণ করা হচ্ছে।” একই সঙ্গে তিনি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক আহ্বানের দাবি জানান।
এর কিছুক্ষণ পর সিবিএস নিউজ জানায়, ট্রাম্প সামরিক স্থাপনাসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার নির্দেশ দিয়েছেন।
স্থানীয় সময় রাত প্রায় ২টার দিকে অন্তত সাতটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস। বিভিন্ন এলাকার মানুষ আতঙ্কে রাস্তায় নেমে আসে। ২১ বছর বয়সী অফিসকর্মী কারমেন হিদালগো বলেন, “পুরো মাটি কেঁপে উঠেছিল। এটা ভয়াবহ। দূরে বিস্ফোরণ আর বিমানের শব্দ শুনেছি।”
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কারাকাসের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে—শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত লা কার্লোটা সামরিক বিমানঘাঁটি এবং ফুয়ের্তে তিউনা সামরিক ঘাঁটি, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোর অবস্থান রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। কারাকাসের পূর্বে অবস্থিত আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর হিগুয়েরোতেতেও হামলা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই হামলাগুলো এমন এক সময়ে ঘটল, যখন গত পাঁচ মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে চাপ বাড়িয়ে আসছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই চাপের লক্ষ্য মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া। আগস্টের পর থেকে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার উত্তর উপকূলে ব্যাপক সামরিক শক্তি মোতায়েন করেন এবং তথাকথিত “নার্কো নৌযান”-এর বিরুদ্ধে একাধিক প্রাণঘাতী বিমান হামলা চালান।
ট্রাম্প একাধিকবার ভেনেজুয়েলায় স্থল অভিযান চালানোর হুমকি দিয়েছেন। মাদুরোর ওপর চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা জোরদার, অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং প্রশান্ত মহাসাগর ও ক্যারিবীয় সাগরে মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ ওঠা নৌযানে দুই ডজনের বেশি হামলা চালিয়েছে।
এছাড়া ভেনেজুয়েলার উপকূলের কাছে নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত তেলবাহী জাহাজ জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে আরও কয়েকটি ট্যাংকার অবরোধের নির্দেশ দেন ট্রাম্প, যা দেশটির অর্থনীতিকে আরও চাপে ফেলতেই নেওয়া পদক্ষেপ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
We hate spam as much as you do