ত্রিপুরায় গেরুয়া বাহিনীর সুপ্রিমো বিপ্লব দেবকে প্রকাশ্য জনসভা থেকে হুঁশিয়ারি দিতে শোনা যায় : "..... কমিউনিস্টদের বঙ্গোপসাগরে ছুঁড়ে ফেলা হবে। ২০২৩ অব্দি একটাই কাজ আমাদের,কমিউনিস্ট শূন্য ত্রিপুরা, ত্রিপুরাবাসীকে উপহার দেওয়া..."। এরপরই আক্রমণ আরও তীব্র হয়। আক্রান্ত কর্মীকে দেখতে যাওয়ার পথে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, পলিটব্যুরো সদস্য মানিক সরকারের কনভয়ে আক্রমণ শান্ত ত্রিপুরায় এক নতুন দৃষ্টান্ত তৈরী করে
ত্রিপুরায় গেরুয়া তান্ডব অব্যাহত, নিহত সিপিআইএম কর্মী
30 nov 2022
২০১৮ সালের ৯ই মার্চ থেকে এই বছরের ১৪ ই মে। ত্রিপুরায় এই চার বছরে, মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের হাতে উত্তর - পূর্ব ভারতে অবস্থিত রাজ্যটির ব্যাটন থাকাকালীন প্রধান বিরোধী দল সিপিআইএমের ২৪ জন কর্মী মৃত্যুবরণ করেছেন। কয়েক হাজার কর্মী এখনও অব্দি ঘরছাড়া। এছাড়া, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে, বিরোধীদের কণ্ঠস্বর রোধ করতে, বিরোধীশূন্য ত্রিপুরা গড়ার লক্ষ্যে যা যা পন্থা বিজেপি অবলম্বন করেছিল, তা লেখার জন্যে একটি প্রতিবেদন যথেষ্ট নয়। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, পলিটব্যুরো সদস্য মানিক সরকার ও গেরুয়া বাহিনীর তান্ডব থেকে রেহাই পাননি।
ত্রিপুরায় গেরুয়া বাহিনীর সুপ্রিমো বিপ্লব দেবকে প্রকাশ্য জনসভা থেকে হুঁশিয়ারি দিতে শোনা যায় : "..... কমিউনিস্টদের বঙ্গোপসাগরে ছুঁড়ে ফেলা হবে। ২০২৩ অব্দি একটাই কাজ আমাদের,কমিউনিস্ট শূন্য ত্রিপুরা, ত্রিপুরাবাসীকে উপহার দেওয়া..."। এরপরই আক্রমণ আরও তীব্র হয়। আক্রান্ত কর্মীকে দেখতে যাওয়ার পথে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, পলিটব্যুরো সদস্য মানিক সরকারের কনভয়ে আক্রমণ শান্ত ত্রিপুরায় এক নতুন দৃষ্টান্ত তৈরী করে। মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা শপথ নেওয়ার পর অনেকে ভেবেছিলেন যে হয়ত পরিস্থিতির খানিকটা বদল হবে। কিন্তু ত্রিপুরা আছে ত্রিপুরাতেই।
এদিন, পশ্চিম ত্রিপুরার চারিলামে সিপিআইমের জনসভা চলাকালীন বিজেপি কর্মীরা বোমা ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। ঘটনা স্থলেই সিপিআইএম কর্মী শাহীদ মিঞা প্রাণ হারান। অতর্কিত হামলায় প্রাক্তন মন্ত্রী,বিধায়ক ভানুলাল সাহা সহ ১৫জন সিপিআইএম কর্মী এবং একজন সাংবাদিকও গুরুতর আহত হয়েছেন। প্রত্যেকেই হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন। এখনও অব্দি পাওয়া খবর অনুযায়ী, রাজ্য প্রশাসনের তরফ থেকে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি। ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। নতুন মুখ্যমন্ত্রী শপথ নেওয়ার সাড়ে তিন মাসের মাথাতেই এই ঘটনা আবার নতুন করে বিজেপি শাসিত ত্রিপুরার আইন - শৃঙ্খলাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিল। এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।
We hate spam as much as you do