Tranding

02:19 PM - 04 Feb 2026

Home / Politics / ২৯ নভেম্বর থেকে মানুষের অধিকার আদায়ের দাবীতে বাংলা বাঁচাও যাত্রা

২৯ নভেম্বর থেকে মানুষের অধিকার আদায়ের দাবীতে বাংলা বাঁচাও যাত্রা

রাজ্যের মানুষের জীবনজীবিকার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত, জনজীবনের সবচেয়ে জরুরি যে অধিকারগুলি বর্তমান সময়ে আক্রান্ত সেগুলিকে তুলে ধরেই বাংলা বাঁচাও যাত্রা হবে বলে জানিয়েছেন সিপিএম নেতৃত্ব। জল জমি জঙ্গল অর্থাৎ প্রকৃতিকে লুটের থেকে বাঁচানোর দাবি, নদীবাঁধ ও নদীভাঙনের সমস্যা থেকে মানুষকে বাঁচানো, উত্তরবঙ্গের চা শ্রমিকদের বাঁচানো, পরিযায়ী শ্রমিকদের বাঁচানো, বিড়ি শ্রমিকদের বাঁচানো, গিগ শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা, একশো দিনের কাজের অধিকার রক্ষা, ক্ষুদ্রঋণের জাল থেকে মানুষকে বাঁচানো, স্কুল ও শিক্ষা ব্যবস্থা বাঁচানো, গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বাঁচানো, আবাস যোজনায় লুট ঠেকানো, বঞ্চনার হাত থেকে ওবিসি'দের বাঁচানো, বাংলার মেয়েদের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষা এবং ডিয়ার লটারি ও বেআইনি মদের কারবার থেকে সমাজকে রক্ষার দাবির পাশাপাশি বাংলা বাঁচাও যাত্রার থেকে প্রতিটি জেলার ও আঞ্চলিক দাবিগুলিকেও তুলে ধরা হবে।

২৯ নভেম্বর থেকে মানুষের অধিকার আদায়ের দাবীতে বাংলা বাঁচাও যাত্রা

২৯ নভেম্বর থেকে মানুষের অধিকার আদায়ের দাবীতে বাংলা বাঁচাও যাত্রা   

27 নভেম্বর 2025


বামপন্থার পুনরুত্থান ঘটিয়ে বাংলার মানুষের অধিকার রক্ষায় আগামী ২৯ নভেম্বর থেকে 'বাংলা বাঁচাও যাত্রা' শুরু করছে সিপিআই (এম)।  সিপিআই(এম)'র রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেছেন, আগামী ২৯ , নভেম্বর কোচবিহারের তুফানগঞ্জে জনসমাবেশ করে যাত্রার সূচনা হবে। তারপর রাজ্যের উত্তরের জেলাগুলি হয়ে ক্রমশ দক্ষিণে নেমে বাংলা বাঁচাও যাত্রা শেষ হবে ১৭ ডিসেম্বর উত্তর ২৪ পরগনার কামারহাটিতে জনসমাবেশের মধ্য দিয়ে। হেঁটে, গাড়িতে, মোটরসাইকেলে নানাভাবে বাংলা বাঁচাও যাত্রা এগোবে এবং এই সময়কালে মূল যাত্রার পাশাপাশি প্রতি জেলায় বহু যাত্রা সংগঠিত হবে, সমাবেশ হবে, যেগুলি রাজ্যজুড়ে মানুষের অধিকার রক্ষায় লড়াইয়ের বার্তা ছড়িয়ে দেবে।

রাজ্যের মানুষের জীবনজীবিকার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত, জনজীবনের সবচেয়ে জরুরি যে অধিকারগুলি বর্তমান সময়ে আক্রান্ত সেগুলিকে তুলে ধরেই বাংলা বাঁচাও যাত্রা হবে বলে জানিয়েছেন সিপিএম নেতৃত্ব। জল জমি জঙ্গল অর্থাৎ প্রকৃতিকে লুটের থেকে বাঁচানোর দাবি, নদীবাঁধ ও নদীভাঙনের সমস্যা থেকে মানুষকে বাঁচানো, উত্তরবঙ্গের চা শ্রমিকদের বাঁচানো, পরিযায়ী শ্রমিকদের বাঁচানো, বিড়ি শ্রমিকদের বাঁচানো, গিগ শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা, একশো দিনের কাজের অধিকার রক্ষা, ক্ষুদ্রঋণের জাল থেকে মানুষকে বাঁচানো, স্কুল ও শিক্ষা ব্যবস্থা বাঁচানো, গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বাঁচানো, আবাস যোজনায় লুট ঠেকানো, বঞ্চনার হাত থেকে ওবিসি'দের বাঁচানো, বাংলার মেয়েদের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষা এবং ডিয়ার লটারি ও বেআইনি মদের কারবার থেকে সমাজকে রক্ষার দাবির পাশাপাশি বাংলা বাঁচাও যাত্রার থেকে প্রতিটি জেলার ও আঞ্চলিক দাবিগুলিকেও তুলে ধরা হবে। জানানো হয়েছে, এই সব অধিকার রক্ষার জন্য সবার আগে প্রয়োজন মানুষের সর্বজনীন ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র রক্ষা করা, তাই সেটাই হবে এই যাত্রার প্রথম দাবি।

রাজ‍্য সম্পাদক 'সেলিম বলেছেন, বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের মানুষের প্রকৃত সমস্যাগুলির থেকে নজর ঘোরাতে বিজেপি এবং তৃণমূল  ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গা, বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী ইত্যাদির জুজু দেখিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে নিজেদের মধ্যে ভোট ভাগাভাগি করে নিতে চাইবে। সেখান থেকে প্রকৃত সমস্যার দিকে মানুষের নজর ফিরিয়ে আনতে হলে বামপন্থীদের পুনর্জাগরণ ঘটাতে হবে, সেই লক্ষ্যেই বাংলা বাঁচাও যাত্রা।

 

সিপিএমের বক্তব্য , এসআইআর আবহাওয়ায় রাজ্যকে উত্তপ্ত করে তোলা হচ্ছে। বামফ্রন্ট সরকার থাকাকালীন পশ্চিমবঙ্গেই সবার প্রথম পঞ্চায়েত ও পৌর নির্বাচনে ১৮ বছরে ভোটাধিকার দিয়ে গণতন্ত্রের সম্প্রসারণ ঘটানো হয়েছিল। এখন দক্ষিণপন্থীরা ভোটাধিকার সঙ্কুচিত করছে। লোভ দেখিয়ে, গুন্ডা দিয়ে ভোট লুট করেছে, পুলিশ প্রশাসনকে ভোট লুটে ব্যবহার করেছে, এখন নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে ভোটার তালিকাতেই আক্রমণ নামাতে চাইছে। এসআইআর-এ যাতে প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ না যায়, মৃত ও স্থানান্তরিত ভোটারের নাম যাতে তালিকায় না থাকে, তার জন্য আমরা সর্বশক্তি দিয়ে নেমেছি। এসআইআর-কে গুরুত্ব দিচ্ছি বলেই বাংলা বাঁচাও যাত্রা কিছুটা সংক্ষিপ্ত করে নভেম্বরের শেষে শুরু করা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনকে পুরোপুরি ব্যবহার করে তৃণমূল এবং বিজেপি মিলিতভাবে এসআইআর'কে কবজা করতে নেমেছে বলেও অভিযোগ করেছেন রাজ‍্য সম্পাদক  সেলিম। তিনি বলেছেন, 'রোহিঙ্গা আর বাংলাদেশি দেগে দিয়ে নাম কাটার কথা বলে বিজেপি আতঙ্ক ছড়িয়েছে, আর সেই সুযোগে তৃণমূল বিএলও'দের ওপর দখলদারি কায়েম করে এলাকায় এলাকায় মৃতদের নামেও এনুমারেশন ফরম ফিল আপ করিয়ে দিচ্ছে।'

সিপিএমের বক্তব্য , 'বিএলও'দের হাত থেকে ছিনতাই করে ফরম এখন তৃণমূলের হাতে যাচ্ছে কীভাবে? কীরকম নিরাপত্তা দিয়েছে কমিশন? জীবিতদের নাম কাটার বিজেপি'র হুমকির আড়ালে ভোটার তালিকায়

মৃতদের নাম বহাল রাখার বন্দোবস্ত করেছে তৃণমূল। নির্বাচন কমিশন এর দায় অস্বীকার করবে কীভাবে?'

কমিশনের নিযুক্ত বিএলও'দের ওপরে তৃণমূলী দখলদারির নমুনা হিসাবে সোদপুরে একটি বুথের বিএলও'র রেকর্ডেড' ফোন কল সাংবাদিক বৈঠকে শুনিয়েছেন সেলিম। তাতে স্পষ্ট শোনা গেছে যে স্থানীয় এক নেতা এক বিএলও'কে হুমকি দিচ্ছেন, তাঁকে না জানিয়ে এবং তাঁর দলীয় কর্মীদের সঙ্গে না নিয়ে বিএলও যেন কোনও পরিবারকে একটি এনিউমারেশন ফরম দিতে না যান। জেলাগুলি থেকে প্রাপ্ত এরকম বহু অভিযোগ কমিশনের কাছে পাঠানোর কথা জানিয়েছিলেন সেলিম। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, 'মৃত্যু নিবন্ধীকরণের সরকারি খাতা থেকে সরাসরি তথ্য নিয়ে মৃতদের নাম বাদ না দিয়ে এসআইআর'এর নামে কমিশন মানুষের ওপর হয়রানি চাপিয়ে দিয়েছে।  তৃণমূলের বন্দিদশায় বিএলও-দের কাজ করতে হবে আর মৃতদের নাম, ভুয়ো নাম বাদ দেওয়ার জন্য যদি সিপিআই(এম)'র বিএলএ-দেরই লড়াই করতে হবে? সাংবিধানিক তকমা নিয়ে নির্বাচন কমিশন কি তৃণমূল বিজেপি'র দখলদারিতে থাকার জন্য?'

সিপিএমের রাজ‍্য সম্পাদকের মতে
এসআইআর আতঙ্কে মৃত্যুর যে অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি করেছেন সেই সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সেলিম বলেছেন, মৃত্যু হলে তদন্ত করে সত্য প্রকাশ করা হোক। কিন্তু যারা করোনার সময় মৃত্যুর তথ্য দিতে পারেনি, তারা অভয়ার ন্যায় বিচারের জন্য ডাক্তারদের আন্দোলনের সময় রোগী মৃত্যুর ঘনঘন খতিয়ান দিচ্ছিল। এদের কথার কোনও বিশ্বাসযোগ্যতা আছে নাকি!

নিয়ে এসআইআর সিপিআই(এম)'র স্পষ্ট  বক্তব্য  নীতিগতভাবে এসআইআর'র বিরোধী। মানুষকে হেনস্তা করে এসআইআর'র বিহারের ভোটার তালিকায় অতি কম বিদেশি পেয়েছে কমিশন।  কেরালা বিধানসভায় বিরুদ্ধে প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে, তামিলনাডুতে সব দল মিলে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। সরকারে বসে থেকেও মমতা ব্যানার্জি এসব পথে না হেঁটে বিজেপি'র সঙ্গে হাত মিলিয়ে আতঙ্ক ছড়ানোর রাজনীতি করছেন।


বাংলা বাঁচাও যাত্রার উল্লেখ করে 
 সিপিএমের বক্তব্য  কেন্দ্রীয় এবং রাজ্যের শাসক দল বিজেপি ও তৃণমূল বাংলার সর্বনাশ করছে এখনই বাংলাকে বাঁচাতে হবে। ভয়মুক্ত সংকট মুক্ত সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত বাংলা গড়ে তুলতে হবে। এর জন্যই মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে উত্তর থেকে দক্ষিণে রাজ্যজুড়ে যাত্রার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। মূল জাঠার পাশাপাশি অসংখ্য উপজেলা হবে যা সব বুথকে ছুঁয়ে যাবে , যাত্রা পথে বহু সভা সমাবেশ করা হবে মানুষের প্রকৃত সমস্যাগুলো সমাধানে মানুষকে সোচ্চার করে তোলা হবে। তিনি বলেন বামপন্থীরা ছাড়া এ কাজ আর কে করতে পারে? বামপন্থীরা বাংলার ভালো-মন্দ জানে বামপন্থীরাই বাংলার নবজাগরণের ঐতিহ্য বহন করে বামপন্থীরাই অতীতে বাংলাকে তেল তেল করে গড়ে তোলার জন্য কাজ করছে। বামপন্থীরাই এখনো বাংলাকে বাঁচাতে পারে। নিম্ন লিখিত যে মুল দাবিগুলিকে সামনে রেখে বাংলা বাঁচাও যাত্রা হবে ঃ

১) পরিযায়ী শ্রমিক বাঁচাও বাংলা বাঁচাও 
২) স্কুল বাঁচাও বাংলা বাঁচাও 
 ৩) গ্রামীণ স্বাস্থ্য কেন্দ্র বাঁচাও বাংলা বাঁচাও
 ৪) বাংলার মেয়েদের বাঁচাও বাংলা বাঁচাও 
 ৫) রেগা বাঁচাও বাংলা বাঁচাও 
 ৬) বিড়ি শ্রমিক বাঁচাও বাংলা বাঁচাও 
৭) নদী বাঁধ বাঁচাও বাংলা বাঁচাও 
৮)  ডিয়ার লটারি হটাও বাংলা বাঁচাও 
৯) লুটেরাদের হাত থেকে আবাস বাঁচাও 
১০) গিগ শ্রমিকের অধিকার বাঁচাও বাংলা বাঁচাও 
১১) জল জমি জঙ্গল বাঁচাও উত্তরবঙ্গ বাঁচাও 
১২) চা শ্রমিক বাঁচাও বাংলা বাঁচাও 
১৩) ক্ষুদ্র ঋণের জাল থেকে পরিবার বাঁচাও 
 ১৪) ভোটাধিকার বাঁচাও গণতন্ত্র বাঁচাও বাংলা বাঁচাও 
 ১৫) বঞ্চনার হাত থেকে ওবিসিদের বাঁচাও 
১৬)  ক্ষুদ্র ঋণের জাল থেকে পরিবার বাঁচাও বাংলা বাঁচাও 

Your Opinion

We hate spam as much as you do