জানা গিয়েছে, অজ্ঞাতপরিচয় বিক্ষোভকারীরা কমপক্ষে তিনটি পুলিশের গাড়িতে আগুন লাগিয়েছে। শুধু তাই নয়, অভিযুক্তদের নিয়ে যাওয়া কনভয় লক্ষ্য করেও ইট-পাথর ছোড়ে তারা। সংশ্লিষ্ট ঘটনায় পুলিশ কর্মী এবং কয়েকজন সংবাদিকের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে এখনও পর্যন্ত। পরিস্থিতি বাগে আনতে বিক্ষোভকারীদের ব্যারিকেড ভেঙে ফেলে পুলিশ। ছোড়া হয় কাঁদানে গ্যাসের শেলও। শূন্যে খান কয়েকবার গুলি চালানোর পর ছত্রভঙ্গ হয় বিক্ষোভকারীরা। তবে বিক্ষোভকারীরা তাতেও শান্ত হয়নি
জুবিন গর্গ মৃত্যুকাণ্ডে উত্তাল অসম, অভিযুক্তদের গাড়িতে হামলা!
October 16, 2025
জুবিন গর্গ (Zubeen Garg) মৃত্যুকাণ্ডে তুলকালাম অসমের (Assam) বাকসা জেলা কারাগারের বাইরে। এই মামলায় গ্রেফতার পাঁচ অভিযুক্তকে নিয়ে যাওয়ার সময় কারাগারের বাইরে বিক্ষোভ দেখাল বহু মানুষ। তার পরেই পুলিশের গাড়িতে হামলার অভিযোগ ওঠে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে। অভিযুক্তদের প্রিজন ভ্যানে এক সংশোধনাগার থেকে অন্য সংশোধনাগারে নিয়ে যাওয়ার সময় এই হামলা করা হয় বলে জানা গিয়েছে। জানা যাচ্ছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং টিয়ার গ্যাসের শেল ফাটায়। শেষ পর্যন্ত অভিযুক্তদের নিরাপদে জেলে প্রবেশ করানো হয়।
বুধবার এই মামলায় পাঁচ অভিযুক্তকে গুয়াহাটি স্থানীয় আদালতে তোলা হয়েছিল। আদালতের তরফে অভিযুক্তদের ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন নর্থইস্ট ইন্ডিয়া ফেস্টিভ্যালের আয়োজক ও মূল অভিযুক্ত শ্যামকুণ্ডু মহান্ত এবং জুবিনের ম্যানেজার সিদ্ধার্থ শর্মা। যাঁদেরকে ১ অক্টোবর গ্রেফতার করা হয়েছিল। অন্য তিনজন হলেন গায়কের চাচাতো ভাই সন্দীপন গর্গ। যিনি সিঙ্গাপুরে তাঁর সঙ্গে ছিলেন। রয়েছেন দুই নিরাপত্তারক্ষী নন্দেশ্বর বোরা ও পরেশ বৈশ্য। তাঁদেরকে ৮ ও ১০ অক্টোবর গ্রেফতার করা হয়।
অসম সরকারের পক্ষে আইনজীবী প্রদীপ কোনওয়ার জানান, “পুলিশি হেফাজতের মেয়াদ শেষ হওয়ায় আদালতের নির্দেশে তাদের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।” শুনানির সময় কোনও অভিযুক্তের পক্ষেই আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।
সিঙ্গাপুরে নর্থ-ইস্ট ফেস্টিভ্যালে যোগ দিতে গিয়ে গত ১৯ সেপ্টেম্বর সাঁতার কাটার সময়ে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয় জুবিনের। বিদেশের মাটিতে অসমের ভূমিপুত্রের এহেন আকস্মিক প্রয়াণে অনেকেই ষড়যন্ত্রের আঁচ পেয়েছেন! তার ভিত্তিতেই মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার নির্দেশে জুবিন গর্গের মৃত্যুতদন্তের জন্য সম্প্রতি 'সিট'ও গঠন করে অসম সরকার। এখনও পর্যন্ত গ্রেপ্তারিক সংখ্যা পাঁচ। বুধবারই অভিযুক্তদের ১৪ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের জন্য তাদের ঠিকানা অসমের বকসা জেল। অভিযুক্তদের সেই জেলে নিয়ে যাওয়ার সময়েই পুলিশি কনভয়ে হামলা চালায় একদল ক্ষিপ্ত অনুরাগী।
জানা গিয়েছে, অজ্ঞাতপরিচয় বিক্ষোভকারীরা কমপক্ষে তিনটি পুলিশের গাড়িতে আগুন লাগিয়েছে। শুধু তাই নয়, অভিযুক্তদের নিয়ে যাওয়া কনভয় লক্ষ্য করেও ইট-পাথর ছোড়ে তারা। সংশ্লিষ্ট ঘটনায় পুলিশ কর্মী এবং কয়েকজন সংবাদিকের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে এখনও পর্যন্ত। পরিস্থিতি বাগে আনতে বিক্ষোভকারীদের ব্যারিকেড ভেঙে ফেলে পুলিশ। ছোড়া হয় কাঁদানে গ্যাসের শেলও। শূন্যে খান কয়েকবার গুলি চালানোর পর ছত্রভঙ্গ হয় বিক্ষোভকারীরা। তবে বিক্ষোভকারীরা তাতেও শান্ত হয়নি। জানা গিয়েছে, বকসা জেলের সামনে জায়গায় জায়গায় টায়ার এবং কয়েকটা যানবাহন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে তারা।
We hate spam as much as you do