স্পিকার কোনও পদক্ষেপ করার আগেই মুখ্যমন্ত্রী বিজেপির অভব্য আচরণের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। তাই তাপস রায়কে সাসপেনশন প্রস্তাব তুলে নিতে অনুরোধ করেন স্পিকার। মুখ্যমন্ত্রীর উদারতার প্রশংসা করে বিরোধী দলনেতাকে সাসপেনশন মোশন প্রত্যাহার করার কথা জানান স্পিকার।
শুভেন্দু ও বিজেপির জন্য বিধানসভায় ক্ষমা চাইলেন 'উদার' মুখ্যমন্ত্রী
Feb 13, 2023
রাজ্যপালের ভাষণ নিয়ে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য ঘিরে সপ্তাহের প্রথম দিনই উত্তপ্ত হয়ে উঠল বিধানসভা। অধিবেশন চলাকালীন অভব্য আচরণের অভিযোগে শুভেন্দু অধিকারীকে সাসপেন্ড করার প্রস্তাবও দেওয়া হল। কিন্তু, তাৎপর্যপূর্ণভাবে বিধানসভা কক্ষে দাঁড়িয়ে বিরোধী দলনেতা ও বিজেপির হয়ে ক্ষমা চাইলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়! তারপরই বিরোধী দলনেতার সাসপেনশন মোশন প্রত্যাহার করে নিলেন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপরই ‘মুখ্যমন্ত্রীর উদারতা’র প্রশংসা করেই বিরোধী দলনেতার সাসপেনশন মোশন প্রত্যাহার করা হল বলে জানিয়েছেন স্পিকার। এই ঘটনা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ এবং বিরোধীদের কাছে বার্তাবহ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
ঠিক কী ঘটেছিল বিধানসভায়? জানা গিয়েছে, এদিন বিধানসভার অধিবেশনে রাজ্যপালের ভাষণ নিয়ে রাজ্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “রাজ্যপালের বক্তব্যে সত্যতা নেই। অর্ধসত্য পরিসংখ্যান রাজ্যপালকে দিয়ে পাঠ করানো হয়েছে। রাজ্যপালের কাছে আমাদের দাবি ছিল, অসত্য ভাষণ তামিলনাড়ুর মতন আপনিও পাঠ না করে টেবিল করে দিন।” তিনি আরও বলেন, “রাজ্যপাল প্রেস রিলিজ করে জানিয়েছেন, রাজ্য সরকারের পাঠানো সমস্ত বিল আমি পাস করছি না। যেমন, আচার্য বিল। রাজ্যপাল বলেছেন, মানছেন না। তার ফলে রাজ্যপালই আচার্য থাকছেন।”
শুভেন্দু অধিকারীর এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “নিয়ম হল, রাজ্যপালের কোনও বক্তব্য থাকলে আমাদের জানাতে পারতেন। উনি কিছু বলেননি। প্রেস বিজ্ঞপ্তি করতে পারেন, কিন্তু আমি কিছু জানি না। এটা না বলাই ভাল।” কিন্তু, স্পিকারের বক্তব্য খণ্ডন করে আরও সুর চড়ান শুভেন্দু। তিনি বলেন, “মিথ্যা মামলায় বিধায়ককে আটকে রাখা হয়েছে। আইনের শাসন নেই। এই মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী জেলে আছেন। কিন্তু রিপোর্টে কিছু বলা হয়নি। সরকার চুপ। এখানে তহবিল অন্যায়ভাবে স্থানান্তরিত করা হচ্ছে। কিছু IAS, IPS বাড়তি ভাতা পাচ্ছেন।”
এসব কথা বিধানসভায় বলা যায় না জানিয়ে স্পিকার বিরোধী দলনেতাকে পুনরায় থামানোর চেষ্টা করলে পাল্টা প্রতিবাদ করেন শুভেন্দু অধিকারী। এরপরই বিধানসভায় হই-হুল্লোড় শুরু হয়ে যায়। স্লোগান দিয়ে অধিবেশন থেকে ওয়াক আউট করে বিজেপি। বিরোধী দলনেতার এই ব্যবহার দুর্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করেন অধ্যক্ষ। এরপরই অভব্য আচরণের অভিযোগ তুলে শুভেন্দু অধিকারীকে সাসপেন্ড করার সুপারিশ করেন তৃণমূলের বিধায়ক তথা মুখ্য সচেতক তাপস রায়। ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সাসপেন্ড করার সুপারিশ করা হয়।
যদিও স্পিকার কোনও পদক্ষেপ করার আগেই মুখ্যমন্ত্রী বিজেপির অভব্য আচরণের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। তাই তাপস রায়কে সাসপেনশন প্রস্তাব তুলে নিতে অনুরোধ করেন স্পিকার। মুখ্যমন্ত্রীর উদারতার প্রশংসা করে বিরোধী দলনেতাকে সাসপেনশন মোশন প্রত্যাহার করার কথা জানান স্পিকার। এভাবে বিরোধী দলের হয়ে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষমা চাওয়া এবং বিরোধী দলনেতার সাসপেনশন প্রস্তাব প্রত্যাহার করার আবেদন জানানো বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এর মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী ও স্পিকার বিরোধীদের বিশেষ বার্তা দিলেন বলেই ওয়াকিবহাল মহলের দাবি।
We hate spam as much as you do