কংগ্রেস হাইকম্যান্ড এবং প্রদেশ কংগ্রেসের সিংহভাগ মনে করছে, বিজেপিকে হারাতে হলে বামেদের সঙ্গে জোট করে লড়াই শ্রেয়। বিরোধী ভোট ভাগ করা যাবে না। প্রকারান্তরে কংগ্রেস চাইছে অন্যদেরও তাঁদের জোটে শামিল করতে। এবং সিপিআইএমকে সঙ্গে নিলে টিপ্রা কংগ্রেসের এই জোটে শামিল হবে, তৃণমূল এখানে বিশেষ কোনো শক্তি নয়।
ত্রিপুরায় বিজেপিকে হারাতে বাম-কংগ্রেস জোটের পক্ষে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব উভয় পক্ষের
January 8, 2023,
ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচন দুয়ারে কড়া নাড়ছে। ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নির্বাচন হওয়ার কথা। যে কোনও দিন ঘোষণা হয়ে যেতে পারে ভোটের দিনক্ষণ। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, এবার ত্রিপুরায় কি কংগ্রেস ও সিপিআইএম জোট করে লড়বে?
কংগ্রেস হাইকম্যান্ড চাইছে বিজেপির বিরুদ্ধে সিপিআইএমের সঙ্গে জোট করে ত্রিপুরায় লড়াই করতে। সম্প্রতি ত্রিপুরার দায়িত্বপ্রাপ্ত এআইসিসি প্রতিনিধি দীপা দাশমুন্সি এ বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছেন। সম্মতি রয়েছে কংগ্রেসে ফিরে আসা ত্রিপুরার অন্যতম প্রধান নেতা সুদীপ রায় বর্মনেরও।
তবে কংগ্রসের একাংশের মধ্যে এখনও দ্বিধা আছে । কারণ এতদিন সিপিআইএমের সঙ্গেই তাঁদের আদর্শগত লড়াই ছিল। গত নির্বাচনে তাঁরা বিরুদ্ধে লড়েছিলেন।
কংগ্রেস হাইকম্যান্ড এবং প্রদেশ কংগ্রেসের সিংহভাগ মনে করছে, বিজেপিকে হারাতে হলে বামেদের সঙ্গে জোট করে লড়াই শ্রেয়। বিরোধী ভোট ভাগ করা যাবে না। প্রকারান্তরে কংগ্রেস চাইছে অন্যদেরও তাঁদের জোটে শামিল করতে। এবং সিপিআইএমকে সঙ্গে নিলে টিপ্রা কংগ্রেসের এই জোটে শামিল হবে, তৃণমূল এখানে বিশেষ কোনো শক্তি নয়।
কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন এই প্রথন সিপিএমের সঙ্গে জোট নিয়ে মুখ খুলেছেন। তিনি বলেছেন, সিপিআইএমের সঙ্গে যাতে কোনও নতুন করে সংঘাতের আবহ তৈরি না হয়, তার জন্য একসঙ্গে চলার দরকার। বিজেপিকে হারাতে গেলে সিপিএমকে সঙ্গে নিয়েই তাদের চলতে হবে। তা না হলে সমস্ত লড়াই বৃথা হতে পারে।
কংগ্রেসের সঙ্গে জোটকে চূড়ান্ত করতে সিপিএমও তৎপর। সিপিআইএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি শীঘ্রই রাজ্যে এসে রাজ্য কমিটির নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে চাইছেন। মানিক সরকারও জোটের পক্ষে। তিনিও জোটের বিরোধিতা করেননি।
ত্রিপুরায় বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই এক নতুন সমীকরণের জন্ম হয়েছে। সব দলেরই একটাই অ্যাজেন্ডা বিজেপি শাসনের অবসান। ফলে সিপিআইএমের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের লড়াই এখন গৌণ হয়ে গিয়েছে। এখন বিজেপিকে মহাশত্রু ভেবে কংগ্রেস ও সিপিআইএম জোট করে চলতে চাইছে।
কংগ্রেস ও সিপিআইএম যদি হাত ধরাধরি করে চলে, তবে কোনও পার্টির শীর্ষ নেতৃত্ব আপত্তি করবে না। অস্বস্তি আসতে পারে রাজ্যস্তর থেকে। সেইসঙ্গে বিজেপিকে হারাতে আর কাদের শামিল করা জরুরি। কংগ্রেস এখন টিপ্রাকে নিয়েও ভাবছে।
We hate spam as much as you do