মালিক বলেছেন, পুলওয়ামার ঘটনার পর তাঁকে উত্তরাখণ্ডের করবেট ন্যাশনাল পার্কে যেতে বলা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী তখন সেখানে ছিলেন। আমি প্রধানমন্ত্রীকে সেই দিন সন্ধ্যায় বিষয়টি জানিয়েছি। এটা আমাদের দোষ। আমরা যদি বিমান দিতাম তাহলে এমনটা হতো না। তিনি আমাকে বলেছিলেন, ‘তুম অভি চুপ রাহো…’ আমি ইতিমধ্যে কয়েকটি চ্যানেলে এটি বলেছি। তিনি বলেন, ‘ইয়ে সব মাত বোলো, ইয়ে কোই অর চিজ হ্যায়।’ অর্থাৎ এসব বলবেন না। এর পিছনে অন্য কিছু থাকতে পারে। মালিক বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালও আমাকে বলেছিলেন, ‘ইয়ে সব মত বলিয়ে। আপ চুপ রহিয়ে’ (‘এসব বলবেন না। চুপ থাকুন….চুপ থাকুন’।
"মোদী আমাকে চুপ করিয়ে দেন পুলওয়ামা হামলার পর" প্রাক্তন রাজ্যপাল সত্যপাল মালিকের মারাত্মক অভিযোগ
Apr 15, 2023
আগাম জানিয়েছিলেন, রাজ্যপালের দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার পর মুখ খুলবেন। জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যের সেই শেষ রাজ্যপাল সত্যপাল মালিক এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলার ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁকে নিদের্শ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের ব্যর্থতা নিয়ে তিনি যেন মুখ না খোলেন। প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে মালিক আরও বলেছেন, জন্মু-কাশ্মীর সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী অনভিজ্ঞ। তাঁকে ভুল বোঝানো হয়েছিল।
২০১৯-এর ফেব্রুয়ারিতে পুলওয়ামায় আধা সেনার কনভয়ে জঙ্গি হামলার ঘটনার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের বিরুদ্ধে ব্যর্থতার একাধিক অভিযোগ উঠেছিল। প্রথমত, ঘটনাস্থলটি সেনা যাতায়াতের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ জানা সত্ত্বেও গোয়েন্দা সংস্থার কোনও সতর্কবার্তা ছিল না। দ্বিতীয় অভিযোগ ছিল জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় আধা সেনার যাতায়াতের জন্য পাঁচটি সেনা বিমান চাওয়া হয়েছিল। সেই আর্জি কানে তোলেনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। সেই অভিযোগ এবার মান্যতা পেল প্রাক্তন রাজ্যপালের কথায়।
ওই ঘটনার পর ২০১৯-এর ৫ অগাস্টই কেন্দ্রীয় সরকার জম্মু-কাশ্নীরের রাজ্যের মর্যাদা কেড়ে নেয়। আলাদা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ঘোষণা করা হয় লাদাখকে। জম্মু-কাশ্মীরও এখন কেন্দ্রশাসিত রাজ্য। সেই বছরই সংবিধানে জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদার ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদও বিলোপ করে মোদী সরকার। এখনও সেখানে কেন্দ্রীয় শাসন বহাল আছে। বিধানসভা ভোটের নামগন্ধ নেই।
তবে সেবার লোকসভা ভোটের আগে পুলওয়ামার ঘটনায় কেন্দ্র বিস্তর অস্বস্তিতে পড়ে মোদী সরকার। যদিও ভোটের প্রচারে বিজেপি ঘোটা ঘটনাকে দলের অঙ্ক মেনে পাকিস্তানকে নিশানায় কাজে লাগায়। অন্যদিকে, বিরোধীরা অভিযোগ করে সরকারের ভুলেই ৪০ জন জওয়ানকে এভাবে প্রাণ দিতে হল। সেখানে সেনা কনভয়ে হামলা চালিয়েছিল পাক মদতপুষ্ট আত্মঘাতী জঙ্গি সংগঠন।
জম্মু-কাশ্মীরকে রাজ্য থেকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করে তোলার পরই মালিককে মেঘালয়ের রাজ্যপাল করে মোদী সরকার। গত বছরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত সেই দায়িত্ব পালন করার সময় বারে বারেই কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন মালিক। একাধিকবার নিশানা করেছেন প্রধানমন্ত্রীকেও। তারমধ্যে বিমুদ্রাকরণ, বিকর্তিক তিন কৃষি বিল থেকে সিএএ, এমনকী জন্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বিলোপের মতো সিদ্ধান্ত আছে।
তবে লক্ষণীয় হল মোদী সরকার এবং বিজেপি কখনও তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দূরের কথা মালিকের তোলা অভিযোগের জবাব দেয়নি। যেমন বিক্ষুব্ধ সাংসদ বরুণ গান্ধী লাগাতার দল বিরোধী কথা বলে বলে শেষে চুপ করে গিয়েছেন। তিনিও মালিকের তোলা ইস্যুগুলি নিয়ে সরব হয়েছিলেন।
মালিক মেঘালয়ের রাজ্যপাল হয়ে যাওয়ার পর বিস্কোরক অভিযোগ করেছিলেন জন্মু-কাশ্মীরে থাকার সময় তাঁকে বিভিন্ন সরকারি মেগা প্রকল্পে অনুনোদন দিতে চাপ সৃষ্টি, এমনকী কোটি কোটি টাকা ঘুষ দেওয়ারও চেষ্টা হয়। তাঁর অভিযোগের প্রেক্ষিতে সিবিআই জিজ্ঞাসাবাদ করেছে প্রাক্তন এই রাজ্যপালকে। সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতি নিয়ে সিবিআই আগে থেকেই তদন্ত চালাচ্ছে জন্মু-কাশ্নীরে।
একটি সংবাদ পোর্টালকে দেওয়া সাংক্ষাৎকারে সত্যপাল মালিক অবশ্য প্রধানমন্ত্রীকে দুর্নীতির প্রশ্নে ক্লিনচিট দিয়েছেন। কিন্তু পুলওয়ামা নিয়ে যে অভিযোগ তুলেছেন তা দুর্নীতির অভিযোগের তুলনায় কিছু কম নয়। কারণ, ওই ঘটনা নিয়ে বিরোধীরা বারে বারে সরকার, বিশেষ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের ব্যর্থতাকেই দায়ী করেছিল। প্রধানমন্ত্রী তাঁকে সেই বিষয়ে মুখ খুলতে বারণ করেছিলেন বলে প্রাক্তন রাজ্যপালের বয়ান ঘিরে রাজনীতি কোনও দিকে মোড় নেয় সেটাই এখন দেখার।
মালিক বলেছেন, পুলওয়ামার ঘটনার পর তাঁকে উত্তরাখণ্ডের করবেট ন্যাশনাল পার্কে যেতে বলা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী তখন সেখানে ছিলেন। আমি প্রধানমন্ত্রীকে সেই দিন সন্ধ্যায় বিষয়টি জানিয়েছি। এটা আমাদের দোষ। আমরা যদি বিমান দিতাম তাহলে এমনটা হতো না। তিনি আমাকে বলেছিলেন, ‘তুম অভি চুপ রাহো…’ আমি ইতিমধ্যে কয়েকটি চ্যানেলে এটি বলেছি। তিনি বলেন, ‘ইয়ে সব মাত বোলো, ইয়ে কোই অর চিজ হ্যায়।’ অর্থাৎ এসব বলবেন না। এর পিছনে অন্য কিছু থাকতে পারে। মালিক বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালও আমাকে বলেছিলেন, ‘ইয়ে সব মত বলিয়ে। আপ চুপ রহিয়ে’ (‘এসব বলবেন না। চুপ থাকুন….চুপ থাকুন’।
সত্যপাল জম্মু-কাশ্মীর এবং মেঘালয়ের আগে বিহার ও গোয়ার রাজ্যপাল ছিলেন। কোথাও রাজ্য সরকারের সঙ্গে তাঁর বিরোধের নজির নেই। কিন্তু মেঘালয়ে যাওয়ার পর বারে বারে মুখ খুলেছেন জম্মু-কাশ্মীরের অভিজ্ঞতা নিয়ে।
We hate spam as much as you do