Tranding

10:18 AM - 04 Feb 2026

Home / Politics / পাহারায় পাবলিক’ সিপিআইএম এর প্রকাশ TMC দুর্নীতিগ্রস্থদের প্রথম তালিকা

পাহারায় পাবলিক’ সিপিআইএম এর প্রকাশ TMC দুর্নীতিগ্রস্থদের প্রথম তালিকা

সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদকের বক্তব্য, ‘‘যখন ভাইপো’র বিরুদ্ধে ‘লিপ্‌স অ্যান্ড বাউন্ড্স’-এর লুটের কথা আমরা বলেছিলাম, তার পরে আমার কাছেও মামলার হুঁশিয়ারি দিয়ে মোটা মোটা ফাইল পাঠানো হয়েছিল। আমি সে সব ফেলে দিয়েছি। যাদের মান নেই, তাদের মানহানির কী আছে?’’

পাহারায় পাবলিক’ সিপিআইএম এর প্রকাশ TMC দুর্নীতিগ্রস্থদের প্রথম তালিকা

পাহারায় পাবলিক’ সিপিআইএম এর প্রকাশ TMC দুর্নীতিগ্রস্থদের প্রথম তালিকা
  

 

রাজ্য জুড়ে বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় দাদা ও শাসক দলের নেতাদের আঙুল ফুলে কী ভাবে কলাগাছ হয়েছে, তার তথ্য চেয়ে জনতার কাছে আবেদন করেছিল বিরোধী দল সিপিএম। সেই কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছিল ‘পাহারায় পাবলিক’। নিজেদের দলীয় সূত্রে এবং জনতার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ বার ‘পাহারায় পাবলিক’-এর প্রথম ভাগ সামনে আনল সিপিআইএম। স‍্যোসাল মিডিয়া ব্যবহার করেই এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ভাবে প্রচার চালাতে চায় তারা। ‘পাহারায় পাবলিক’-এর প্রথম দফার তথ্য আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রকাশ করে বুধবার আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম জানান ‘‘অভিযুক্তদের নাম-সহ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করা হয়েছে। এ বার পুলিশ-প্রশাসন তদন্ত করে দেখুক। নইলে জনরোষ আছড়ে পড়লে কী হতে পারে, শ্রীলঙ্কায় তার উদাহরণ দেখাই গিয়েছে!’’

 


দুর্নীতি, তোলাবাজির অভিযোগ নিয়ে রাজ্য জুড়ে হইচইয়ের মধ্যেই সিপিএম ‘পাহারায় পাবলিক’ কর্মসূচি ঘোষণা করে নির্দিষ্ট একটি গুগল ফর্‌ম পূরণ করে এই সংক্রান্ত তথ্য দেওয়ার আবেদন জানিয়েছিল মানুষের কাছে। গত দু’মাসে হাজারের বেশি অভিযোগ এসেছে বলে তাদের দাবি। সেলিম এ দিন ব্যাখ্যা দিয়েছেন, বিভিন্ন এলাকা থেকে যাঁদের সম্পত্তির বহর নিয়ে অভিযোগ এসেছে, রাজনীতির চেনা পথের বাইরে তাঁদের আয়ের অন্য কোনও রাস্তা আছে কি না, দলীয় উদ্যোগে তা যথাসম্ভব খোঁজখবর করেই তালিকা প্রকাশ্যে আনা হচ্ছে। তাঁরা রাজনৈতিক প্রচার চালাচ্ছেন, ‘হুইসল ব্লোয়ার’ হিসেবে মানুষকে সর্তক করার চেষ্টা করছেন। এখান থেকে তথ্য নিয়ে কেউ চাইলে স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) নিয়োগ-দুর্নীতির মতো আইনি লড়াই লড়তে পারেন। সেলিমের মন্তব্য, ‘‘রামায়ণে রামের পাদুকা রেখে রাজ্য শাসনের মতো মুখ্যমন্ত্রীর চটি জোড়া সামনে রেখে দেদার লুট চলছে একেবারে পঞ্চায়েত পর্যন্ত! ইতিমধ্যেই হাজারের বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে আমাদের কাছে। সেগুলি যাচাই করার পরে আমরা আপাতত প্রথম পর্যায়ে রাজ্যে লুটের কিছু নমুনা প্রকাশ করছি।’’


কিন্তু এই কর্মসূচির জন্য তাঁদের বিরুদ্ধেও তো কেউ মামলা করতে পারেন? সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকের বক্তব্য, ‘‘যখন ভাইপো’র বিরুদ্ধে ‘লিপ্‌স অ্যান্ড বাউন্ড্স’-এর লুটের কথা আমরা বলেছিলাম, তার পরে আমার কাছেও মামলার হুঁশিয়ারি দিয়ে মোটা মোটা ফাইল পাঠানো হয়েছিল। আমি সে সব ফেলে দিয়েছি। যাদের মান নেই, তাদের মানহানির কী আছে?’’ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বেআইনি সম্পত্তি বানানো, সরকারি প্রকল্পের টাকা গায়েব করা, তোলা আদায়-সহ বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্তদের নাম ঠিকানা-সহ নমুনা প্রকাশ করা হয়েছে ‘পাহারায় পাবলিক’-এর প্রথম পর্যায়ে। ভীতির পরিবেশ কাটিয়ে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে গণ-আন্দোলনই যে বড় হাতিয়ার, সে কথা ফের বলেছেন সেলিম।

গণআন্দোলনকেই হাতিয়ার হিসাবে ব্যাখ্যা করে সেলিম বলেছেন, চুরি, তোলাবাজি, দুর্নীতি ঘটছে সবাই জানে। পাচারের টাকা তো আছেই, ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণের টাকা পেতে গেলে কিংবা কেন্দ্রীয় প্রকল্পে গৃহনির্মাণের টাকা পেতে গেলেও তোলা দিতে হচ্ছে। কিন্তু শাসকদল সন্ত্রাসের মধ্য দিয়ে ভয়ের বাতাবরণ তৈরি করে, এবং জাঁকজমকের নানা কারবারে সেগুলি আড়ালের চেষ্টা করছে। আমরা পাহারায় পাবলিকের মধ্য দিয়ে সেই অপরাধগুলো দৃশ্যমান করে তোলার চেষ্টা করেছি। কারণ আমরা চাই এর ভিত্তিতে রাজনৈতিক আন্দোলন তৈরি হোক। মানুষের আন্দোলন আছে বলেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হচ্ছে, সিবিআই তদন্ত হচ্ছে। দুর্নীতির লঙ্কাকাণ্ড আড়াল করতে অর্জুনের লক্ষ্যভেদ নিয়ে হইচই হচ্ছে, নজর ঘোরানো হচ্ছে পিছনে শকুনির পাশা খেলা থেকে। দুর্নীতিগ্রস্তরা এই ডাল ওই ডাল যে ডালেই গিয়ে বসুক, রেহাই পাবে না। স্টিং অপারেশন চালিয়ে সাংবাদিক স্যামুয়েল ম্যাথু নারদ ঘুষকাণ্ড প্রকাশ্যে এনেছিলেন। কিন্তু কলকাতা পুলিশ ঘুষখোরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে কেস সাজিয়েছিল। আর দিল্লিতে ঘুষখোর সাংসদদের সাংসদপদ খারিজ করা হয়নি, সিবিআই আজ পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি। কেন্দ্র ও রাজ্যের পুলিশ দুর্নীতিগ্রস্তদের পাহারা দিচ্ছে, ন্যায়বিচার পেতে তাই পাবলিককেই পাহারায় নামতে হবে। 

চাকরিতে নিয়োগের দুর্নীতি প্রসঙ্গে প্রশ্নের উত্তরে সেলিম বলেছেন, "চাকরি প্রার্থীদের চাকরি লুট হয়েছে। প্রতিবাদে নামায় পুলিশ দিয়ে তৃণমূলের গুন্ডাদের দিয়ে তাদের ওপরে হামলা হয়েছে। হকের দাবিতে যাঁরা লড়ছেন আমরা তাদের পাশে আছি, ছাত্র-যুব মহিলা আন্দোলনের কর্মীরা তাঁদের সাহায্য করছেন।"

এরাজ্যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিজেপি’র প্রতিবাদ সম্পর্কে প্রশ্নের উত্তরে সেলিম বলেছেন, "ওরা তো ভেজাল বিরোধী। যারা মধ্য প্রদেশে ব্যপম কেলেঙ্কারিতে যুক্ত, তারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কোন মুখে কথা বলবে? নিয়োগ দুর্নীতি বন্ধ করা পরের কথা, ওরা তো সব কেন্দ্রীয় সংস্থায় নিয়োগই বন্ধ করে দিয়েছে"

Your Opinion

We hate spam as much as you do