Tranding

02:15 PM - 04 Feb 2026

Home / Article / প্রবন্ধ -- পেগাসাস এর পর গোপনীয়তার কি হবে?

প্রবন্ধ -- পেগাসাস এর পর গোপনীয়তার কি হবে?

পক্ষপাতহীন বিচার বিভাগ, স্বাধীন সংবাদমাধ্যম, শান্তি পূর্ণ উপায়ে প্রতিরোধের অধিকার, এবং অবাধ ও শান্তি পূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে দায়বদ্ধতা প্রতিষ্ঠা : এগুলি হল ভারতীয় সাংবিধানিক ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি , যার দ্বারা সরকারের কার্যনির্বাহী ক্ষমতার উপর নিয়ন্ত্রণ রাখা যায় বলে মনে করা হয়। তথাপি ,পেগাসাস প্রোজেক্টটি জনসমক্ষে আসার পর দেখা গেলো, ভারতীয় সাংবাদিক, সমাজকর্মী সহ একাধিক বিরোধী পক্ষের নেতা-নেত্রীদের উপর একটি স্পাইওয়্যার এর মাধ্যমে এমন ভাবে নজর রাখা হয়েছে , যার দ্বারা তাঁদের জীবন-যাপন এবং কাজের পুঙ্খানপুুঙ্খ বিবরণ সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে । এই ধরনের নজরদারি স্বাধীনভাবে নিজেদের দায়িত্ব পালন থেকে তাঁদের দুরে রাখছে , তাঁদেরকে ভীত-সন্ত্রস্ত করছে এবং ফলস্বরূপ, ভারতীয় সংবিধানের রোধন এবং সমন্বয়ন (checks and balances) এর নীতি কে পঙ্গুকরে দেওয়া হচ্ছে ।

প্রবন্ধ --  পেগাসাস এর পর গোপনীয়তার কি হবে?

পেগাসাস এর পর গোপনীয়তার কি হবে?

বৈভব নিকম , গত ২রা আগস্ট, ২০২১ newsclik এ ইংরাজীতে প্রকাশিত
অনুবাদ - অনির্বান সরকার

(আফগানিস্তানের ঘটনা দেশজুড়ে পেগাসাস স্পাইওয়ারের ব্যবহারের বিষয় কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ কি ঢাকা পড়ে যাচ্ছে?
তাই পেগাসাসকে আলোচনার মধ্যে আনতে হবে  )

newscopes.in  22nd august
মোবাইল বা ল্যাপটপের অনলাইন কাজকর্মের উপর গোপনে নজরদারি চালিয়ে ও বিগ ডাটার প্রসেসিং করে  কোম্পানি গুলি কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে এতো তথ্য সংগ্রহ করতে পারে , যা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ধারণার অতীত।


পক্ষপাতহীন বিচার বিভাগ, স্বাধীন সংবাদমাধ্যম, শান্তি পূর্ণ উপায়ে প্রতিরোধের অধিকার, এবং অবাধ ও শান্তি পূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে দায়বদ্ধতা প্রতিষ্ঠা : এগুলি হল ভারতীয়  সাংবিধানিক ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি , যার দ্বারা সরকারের কার্যনির্বাহী ক্ষমতার উপর নিয়ন্ত্রণ রাখা যায় বলে মনে করা হয়। তথাপি ,পেগাসাস প্রোজেক্টটি জনসমক্ষে আসার পর দেখা গেলো, ভারতীয় সাংবাদিক, সমাজকর্মী সহ একাধিক বিরোধী পক্ষের নেতা-নেত্রীদের উপর একটি স্পাইওয়্যার এর মাধ্যমে এমন ভাবে নজর রাখা হয়েছে , যার দ্বারা তাঁদের জীবন-যাপন এবং কাজের পুঙ্খানপুুঙ্খ বিবরণ সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে । এই ধরনের নজরদারি স্বাধীনভাবে নিজেদের দায়িত্ব পালন  থেকে তাঁদের দুরে রাখছে , তাঁদেরকে ভীত-সন্ত্রস্ত করছে এবং ফলস্বরূপ, ভারতীয় সংবিধানের রোধন এবং সমন্বয়ন (checks and balances) এর নীতি কে পঙ্গুকরে দেওয়া হচ্ছে । একজন বিচারক কি করে তাঁর দায়িত্বপালনে ন্যায়পরায়ণ থাকবেন যখন উনি জানেন যে ওনার অনলাইন কাজকর্মের প্রতিটি পদক্ষেপের উপর নজর রাখা হচ্ছে ? সাংবাদিকরা কি করে তাঁদের সূত্রকে (source) সুরক্ষিত রাখবেন
যদি তাঁদের মোবাইল বা ল্যাপটপে সংরক্ষিত তথ্যকে কোনো অজানা শ্রোতা বা দর্শকের কাছে ফাঁস করে দেওয়া হয় ? এই রোধন ও সমন্বয়ন (checks and balances) এর বিষয়টি ক্রমশঃ ফিকে হতে হতে যদি স্বেচ্ছাচারী (authoritarian)  প্রবণতার জন্ম দেয়, তবে শাসকদলের মন্ত্রীদের উপর নজরদারির ঘটনাতে এই প্রবণতাকে সত্য বলে মনে হয়।

 

এক দশক আগে , সংগৃহীত তথ্যের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পরি কাঠামো তৈরি না করেই ভারত সরকার আধার কার্ডের প্রচলন করে । যখন আদালতে
পিটিশন দায়ের করে এই বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়, তখন তার প্রত্যুত্তরে সরকারের
পক্ষ থেকে বলা হয় যে আধার হলো ঐচ্ছিক। অথচ, কার্যক্ষেত্রে , সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য আধারকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণপত্র হি সে বে গণ্য করা হয়। কোনোরকম তথ্য সুরক্ষা আইন ছাড়াই আধার প্রকল্প চালুকরা হয়। যেহেতু, 'ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা বিল' (Personal Data Protection Bill, সংক্ষে পে PDP বি ল) টি এখনও সংসদে অমীমাংসিত  অবস্থায় আছে , অর্থাৎ পাস হয়নি , তাই বর্তমানে যাবতীয় তথ্যাদির নিয়ন্ত্রণ করা হয় 'তথ্য-প্রযুক্তি আইন' (InformationTechnology Act) এর মাধ্যমে ।

 

 

PDP বি লে র ২৮ নম্বর ধারা অনযুায়ী কোনো ব্যক্তি 'স্বেচ্ছায়' সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মে সরকারি পরিচয়পত্র ব্যবহার করে নিজের সনাক্তকরণ করাতে পারেন। এটি একটি অবাঞ্ছিত বিধান, যা পৃথিবীর অন্য কোনো দেশের গোপনীয়তার
আইনে দেখতে পাওয়া যায় না। এটি বাধ্যতামলূক সনাক্তকরণে র সম্ভাবনাকে সৃষ্টি করে , যে মনটি আধারে র সাথে হয়ে ছিল।

 

সনাক্তকরণের বিষয়টিকে যুক্ত রেখে সরকার তার নজরদারির ক্ষমতাকে অক্ষুণ্ন রাখছে , যা গোপনীয়তা সম্পর্কে উদ্বেগকে  আরো বাড়িয়ে দেয়।
শ্রীকৃষ্ণ কমিটির সুপারিশের উপর ভিত্তি করে প্রস্তুত করা PDP বিল ক্যাবিনেটের অনমুমোদন পায় ২০১৯ সালের ডিসেম্বর  মাসে । যদি ও PDP বিলের খসরা প্রস্তুতকারী কমিটির প্রধান বি এন শ্রীকৃষ্ণ বলেন যে প্রস্তাবিত আইনের সরকারি ব্যাখ্যায়

 

একটি 'বিপজ্জনক' সংস্থান আছে যা "অরওয়েলিয়ান রাষ্ট্র" ("Orwellian state", লেখক George Orwell এর নামানসুারে ) এর প্রতি দিকনির্দেশ করে । খসড়াটিতে সেই উদ্বেগজনক প্রস্তাবগুলো কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির কাজকর্মে পরিবর্তন  সম্পর্কিত, যা কি না শ্রীকৃষ্ণ কমিটির সুপারিশে র থেকে অনেকটাই আলাদা।

যদি কোনো সংস্থা জাতীয় নিরাপত্তা, সামাজিক শঙ্খৃলা, এবং কোনো দেশের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ বৈদেশিক সম্পর্কের স্বার্থে কারও ব্যক্তিগত তথ্যাবলী সংগ্রহ করে পরীক্ষা-নি রীক্ষা করতে চায়, তাহলে সেই সংস্থাকে নিয়মের বিধি -নিষেধ থেকে অব্যাহতি  দেওয়ার অধিকার চায় সরকার।

 

প্রস্তাবটি কাগজে -কলমে বেশ নিরীহ মনে হলেও সরকার কর্তৃক প্রস্তাবিত বিলে ,সংস্থাগুলি কে অব্যাহতি প্রদানের বিষয়ে তত্বাবধান করার জন্য কি পদ্ধতি , কিবা তার রক্ষাকবচ এমনকি কোন কৌশলঅবলম্বন করা হবে সেই সম্পর্কে কিছুই বলা নেই। "সিলেক্ট কমিটির বিলের সেই প্রস্তাবটিকে পরিবর্তন করার অধিকার  আছে । যদি তাঁরা আমায় ডাকেন, আমি তাঁদের বলব এই প্রস্তাব অর্থহীন। আমি বি শ্বাস করি ব্যক্তির গোপনীয়তায়স রকারের প্রবেশাধিকারের উপরবিচারবিভাগের তত্বাবধানমলূক ক্ষমতা থাকা উচিত," জাস্টিস শ্রীকৃষ্ণ ইকোনমিক টাইমস পত্রিকায় এ কথা জানিয়েছেন। এই মহুূর্তে , বিরোধীপক্ষের লাগাতার বিরোধিতায় PDP বিলটিকে জয়েন্ট  পার্লামেন্টারি কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে ।

গোপন ভোট বনাম ভোটে পেশী শক্তি ও অর্থের আস্ফালন

গোপন ব্যালট গণতন্ত্রে র একটি অতি প্রয়োজনীয় শর্ত, কিন্তু বর্তমানে আমাদের এই অতি প্রয়োজনীয় অধিকারকে
পেগাসাস কান্ড ও তার আগের কেমব্রিজ অ্যানালি টিকা পর্বে র পরিপ্রেক্ষিতে পর্যালোচনা করতে হবে । প্রথমটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর ওপর
নজরদারি চালাতে পারে , এবং দ্বিতীয়টি বিগ ডাটা মুল্যায়ন করে ভোটারের আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে । গণতান্ত্রিক শাসন পদ্ধতি গ্রহণ করা হয় কারণ এই শাসন পদ্ধতি জনগণের সহজাত ব্যক্তি স্বাধীনতাকে সুনিশ্চিত করে । নাগরিকেরা স্বাধীনভাবে তাঁদের জনপ্রতিনিধিকে ভোটে র দ্বারা নির্বাচিত করতে পারে । গণতন্ত্রে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত থাকে নির্বাচিত
জনপ্রতিনিধিদের হাতে এবং রোধন ও সমন্বয়ন (checks and balances)
তাঁদের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করে । সেই
কারণেই, কিছুসময় অন্তর, নেতৃত্বদের জনগণের মত জানতে হয়। একটি সুস্থ গণতন্ত্র তার নাগরিককে অর্থ ও পেশীশক্তির  ভয়কে চূর্ণ-বিচূর্ণ করার জন্য গোপন ব্যালটের অধিকার দেয়। নিজেদের মঙ্গলের কথা ভেবে তাঁরা তাঁদের ইচ্ছে মত ভোট  দিতে পারেন। প্রাক-প্রযুক্তি যুগে গোপন ব্যালট যদি অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে পারে , তাহলে এই তথ্যের যুগে আমাদের কাছে কি আছে ? এখন প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে মানষেুষের পছন্দ-অপছন্দকে প্রভাবিত করা যায়।

 

পেগাসাস ঘটনা

ইজরায়লী সংস্থা NSO, যারা পেগাসাস বানিয়েছে , জানিয়েছে যে তারা তাদের স্পাইওয়্যার কোনো বেসরকারি সংস্থাকে
বিক্রি করে না। অতএব, একমাত্র কোনো দেশের সরকারই ওগুলো কিনে থাকতে পারে সংগঠিত অপরাধ ও সন্ত্রাসবাদী
কার্যকলাপকে নিয়ন্ত্রণ করতে । ভারতে গোপনীয়তার অধিকার শর্তহীন নয়। ১৮৮৫ সালে র টেলি গ্রাফ আইন
(Telegraph Act, 1885) ও ২০০০ সালে র তথ্য-প্রযুক্তি আইন (Information Technology Act, 2000) সরকারকে
নজরদারি চালানোর অনমুতি দেয়।
টেলিগ্রাফ আইন অনযুায়ী কয়েকটি
বিশেষ ক্ষেত্রে সরকার ফোনে আঁড়ি পাততে পারে যেমন, দেশের সার্বভৌমত্ব, একতা ও নিরাপত্তা রক্ষার্থে ; অন্য কোনো দেশের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে ; দেশের অভ্যন্তরে শান্তি -শঙ্খৃ লা বজায় রাখা ও কোনো অপরাধে প্ররোচনা
দেওয়া বন্ধ করতে । সংবিধানের অনচ্ছেুচ্ছেদ ১৯(২) এ বর্ণিত বাক-স্বাধীনতার অধিকারের ক্ষেত্রেও একই শর্ত প্রযোজ্য। সংবাদ মাধ্যমে র স্বাধীনতা সুনিশ্চি ত করতে কিছু
অতিরিক্ত রক্ষাকবচ রয়েছে ।
কেবলমাত্র, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারে র স্বরাষ্ট্র দপ্তরে র উচ্চপদস্থ সে ক্রে টারি পর্যায়ে র কোনো
অফি সার এবং অনিবার্য পরিস্থিতিতে ননূ্যতম জয়েন্ট-সেক্রেটারী পর্যায়ের কোনো অফিসার ফোনে আঁড়ি পাতার
(Tapping) অনমুতি দিতে পারেন।
তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৬৯ নম্বর ধারা অনযুায়ী প্রণীত The Information Technology (Procedure for
Safeguards for Interception, Monitoring and Decryption of Information) Rules, ২০০৯ বৈদ্যুতিক
নজরদারির ক্ষেত্রে একটি অতিরিক্ত আইনি কাঠামো প্রদান করেছে । এই ধারাটি "অপরাধে র তদন্তের স্বার্থে " বৃহত্তর ক্ষেত্রে ডিজিটাল তথ্যের ইন্টার্সেপশন, মনিটরিং ও ডেসক্রিপশন এর দ্বারা নজরদারির অনমুতি দেয়। তথ্যপ্রযুক্তি আইন অনযুায়ী যে কোনো বৈদ্যুতিন তথ্যের প্রেরণ (transmission) ইন্টার্সেপ্ট ( অর্থাৎ, কোনো তথ্য প্রেরক ও প্রাপক ছাড়াও অন্য কেউ দেখবে ) করা যাবে । ফলে এটি নজরদারির জন্য সরকারের হাতে আরও বড় অস্ত্র তুলে দিয়েছে ।

অর্থাৎ পেগাসাস-সমতুল্য যে কোনো রকম নজরদারির ঘটনায়, সরকার এই আইনগুলোর আড়ালে নজরদারির কাজ
চালিয়ে যাবে । এই বিষয়টি আমাদের প্রাক্তন কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী রবি শংকর প্রসাদের কথা মনে করিয়ে দেয়নি
বলেছিলেন, যদি ৪৫ টির বেশি দেশ পেগাসাস ব্যবহার করে থাকে , তবে আমরা কেনো "শুধুমাত্র ভারতকে আক্রমণের লক্ষ্য করছি " ? তিনি অবশ্য এটা অস্বীকার করলেন না যে ভারত পেগাসাস সংগ্রহ করে ছিল। বর্তমান কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি ও যোগাযোগ মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণও লোকসভায় জানিয়েছেন যে বেআইনি নজরদারি ভারতবর্ষে অসম্ভব, যদিও তিনি অস্বীকার করেননি যে পেগাসাসকে ভারতে কাজে লাগানো হয়েছিল।
প্রশাসন নজরদারি করছে , এই এক বিন্দু সন্দেহ ও মতামত প্রকাশের স্বাধীনতাকে স্তব্ধ করে দিতে পারে কারণ
মতপ্রকাশকারীকে রাষ্ট্রযন্ত্রের দ্বারা নিপীড়নের ভয় গ্রাস করে । যদি মানষু বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তর্ক না করতে পারে অথবা তাঁর চাহিদার কথা স্পষ্ট করে জানাতে না পারে , এবং যদি সরকার তার প্রণীত নীতি সম্পর্কে সৎ, নির্ভীক ও নিরপেক্ষ প্রতিক্রিয়া না পায়, তাহলে কল্যাণকামী রাষ্ট্র মুখ থুবড়ে পড়ে , এবং গণতন্ত্র ঝুঁকির মুখে এসে দাঁড়ায়।

কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা

কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা বিভিন্ন দেশের লক্ষ লক্ষ ফেসবকু ব্যবহারকারীর তথ্য ব্যবহার করে নির্বাচনী কৌশল তৈরি করে
তাদের বিশ্বজোড়া ক্লায়েন্টদের জন্য। এটি ২০১৬ সালে র আমেরিকার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে প্রভাবিত করে এবং ডোনাল্ড
ট্রাম্পের জয়কে সুনিশ্চিত করে । ভারতবর্ষে র বিভিন্ন পার্টি ও নেতৃত্বের হয়ে ও এটি কাজ করেছে । কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে ব্যবহারকারীর মতাদর্শগত ঝোঁক বোঝার চেষ্টা করে । ঐ ব্যক্তিকে fence-sitter হিসেবে ধরে নেওয়া হয়, অর্থাৎ ধরে নে ওয়া হয় কোনো বিষয় সম্পর্কে ঐ ব্যক্তি নিরপেক্ষ। এইবার তাঁকে বিভিন্ন ধরনের সার্ভে ও সংবাদ পাঠানো হয়। এই দ্বিধাগ্রস্ত ভোটারেরা, যাঁদের হয়তো নির্বাচন ক্ষেত্রে একটি বলিষ্ঠ উপস্থিতি আছে , তাঁদেরকে অনলাইনে এমনসব বিষয়বস্তু দেখানো হয় যা ডেমোক্রেটিক পার্টির অবস্থান বিরোধী কিন্তু রিপাবলিকান পার্টির পক্ষে জনমত গঠনে সক্ষম। এইভাবে এটি আমেরিকার ভোটে রিপাবলিকান প্রার্থীর পক্ষে ও ডেমোক্রেটিক প্রার্থীর বিরুদ্ধে বহু মানষেুষের নির্বাচনী আচরণকে প্রভাবিত করেছে । তাছাড়া, গ্রাহকের সম্মতি ছাড়াই তাঁদের ব্যক্তি গত তথ্য ফেসবকেুকের পক্ষ থেকে কেমব্রিজ অ্যানালিটিকাকে পাঠানো হয়েছিল ব্যবসায়িক স্বার্থে ।
এই ঘটনাতে আমরা দেখতে পেলাম যে তথ্য (data) হল রাজনৈতিক অর্থনীতির একটি আলম্ব (fulcrum) যা ব্যবহার  করে ব্যক্তি -নির্দিষ্ট বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ব্যক্তির সিদ্ধান্তকে , রাজনৈতিক আচরণকে শুধুপ্রভাবিত করাই হয় তাই নয়, তাঁদের সিদ্ধান্ত একরকম তৈরি করে দেওয়া হয়। অনিয়ন্ত্রিত তথ্য সংগ্রহ, ব্যবহার ও প্রেরণ গণতান্ত্রিক কাঠামোতে গুরুতর আঘাত হানতে পারে , যেমনটি আমেরিকার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ঘটেছে । ভোট ব্যবস্থাকে ত্রুটিমক্তু রাখতে হলে , ব্যক্তির নিজস্ব সিদ্ধান্ত, পছন্দ-অপছন্দ ঠিক করার অবকাশ থাকতে হবে । অনলাইনে কিছু পক্ষপাতমলূক বিষয়বস্তু দেখিয়ে ভোটারের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করার কৌশল মক্তু চিন্তার পরিপন্থী। এটি ব্যক্তি স্বাধীনতাকে অগ্রাহ্য করছে এবং ঠিক এই
কারণে ই অবাধ ও শান্তি পূর্ণ ও সত্যি কারের গণতান্ত্রিক নির্বাচনের স্বার্থে তথ্য সুরক্ষা আইন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

 

গোপনীয়তার অধিকার ও গণতান্ত্রিক ক্রিয়াকলাপে যখন একজন মানষেুষের কোনো অধিকার থাকে না, তখন তাঁর ব্যক্তি মর্যাদাও লঙ্ঘিত হয়। জে এস মিল "স্বয়ং-সম্পর্কিত কাজ" (self-regarding action) এবং "অপর-সম্পর্কিত কাজ" (other-regarding action) এর মধ্যে পার্থক্য করেছেন। আগেরটির ক্ষেত্রে , রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ করা উচিত নয় যদি না কোনো ব্যক্তি তাঁর নিজের জন্যই ক্ষতিকর হয়ে ওঠেন। যদিও, পেগাসাসের মত পরিকল্পিত ও ব্যক্তি -নির্দিষ্ট নজরদারি ব্যক্তিগত অধিকার ও মর্যাদাকে লঙ্ঘন করে । এটি দেখা যায়, "অপর- সম্পর্কি ত কাজও" - উদাহরণ স্বরূপ, রাজনৈতিক ক্রিয়াকলাপ এর ক্ষেত্রে - স্বাধীন হওয়া উচিত যাতে মানুষ তাঁর মতামত প্রকাশ করতে পারে এবং নিজেদের সংগঠিত করতে পারে । সুতরাং, সব দিক থেকেই, গোপনীয়তা গনতন্ত্রে শুধুমাত্র কোনো ব্যক্তির মঙ্গল সাধন করে তাই নয়, এটি সার্বজনীন কল্যাণ সাধন করে থাকে ।

(লেখক একজন পি এইচ ডি র ছাত্র। তিনি সাবিত্রী ফুলে পুনে ইউনিভার্সিটি থেকে গোপনীয়তা বিষয়ে গবেষণা করছেন।
মতামত সম্পর্ণূ  ব্যক্তিগত।)
-------------------------------------------

 

Your Opinion

We hate spam as much as you do