নিরাপদ বলেছিলেন আমি মনে করিয়ে দিতে চাই ২০১১ সালে সরকার ক্ষমতা থেকে চলে গেলেও বসিরহাট কেন্দ্রে তিন বিধানসভা আসনে বামেরা জয়লাভ করে । দুটি বিধানসভায় সিপিএম, একটিতে সিপিআই । ফলে বসিরহাটের মানুষ কিন্তু বাম মনোভাবাপন্ন । মানুষের ঐক্যকে আরো মজুত করার কথা বলার সঙ্গেই প্রকল্পের টাকা লুঠ, আবাসের টাকা লুঠ থেকে শিক্ষা, স্বাস্থ্যর হাল নিয়ে প্রচার করব । বাম জমানার পঞ্চায়েত সুষ্ঠ ব্যবস্থা পরিবেশ ফেরাতে হবে। মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিতে চাই ।
প্রচারের শেষে,বসিরহাটে বামপ্রার্থী নিরাপদ জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী
30 মে, 2024
বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রে লাল ঝান্ডাকে ফেরাতে সিপিএম ভরসা রেখেছে ক্ষেতমজুর আন্দোলনের নেতা নিরাপদ সর্দারের উপর ৷ এক সময় সন্দেশখালির বিধায়ক ছিলেন তিনি ৷ তিনি প্রচারের শেষ লগ্নে যথেষ্ট আশাবাদী।
সাম্প্রতিক সময়ে বারেবারে খবরের শিরোনামে উঠে এসেছে সন্দেশখালি ৷ স্থানীয় মহিলাদের উপর তৃণমূল নেতা, কর্মীদের নির্যাতন থেকে জল, জঙ্গল, জমির অধিকার কেড়ে নেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছে আমজনতা, যা নিয়ে তোলপাড় হয়েছে রাজ্য ৷ এই প্রেক্ষাপটেই একদা বামেদের খাসতালুকে হারানো জমি ফেরানোর লড়াই শুরু করেছে সিপিএম। সন্দেশখালির প্রাক্তন বিধায়ক নিরাপদ সর্দারকে গ্রেফতার ও তাঁর উপর মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে । সন্দেশখালি-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় লাল ঝান্ডা ওড়ানোর চেষ্টা করছে সিপিএম।সন্দেশখালি বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে পড়ে ৷ সন্দেশখালির প্রাক্তন বিধায়ক তথা ক্ষেতমজুর আন্দোলনের নেতা নিরাপদ সর্দার ৷ সন্দেশখালি-সহ গোটা বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রে বেশিরভাগ অংশের মানুষ কৃষক ও ক্ষেতমজুর । তৃণমূল যেভাবে সেখানে রাজত্ব করেছে তাতে সন্ত্রাসের বাতাবরণ তৈরি করেছে । সন্ত্রাস, পাচার থেকে দুর্নীতি এসবে ভোরে গিয়েছে । আমাদের প্রথম কাজ সন্ত্রাস মুক্ত ও দুর্নীতি মুক্ত করা । বেশিরভাগ মানুষ পরিচ্ছন্নতা ভাবমূর্তি চায় । কেউ দুর্নীতি চায় না, কেউ সন্ত্রাস চায় না, কেউ বিভাজন চায় না । এখনকার ইতিহাস তাই বলছে ।নিরাপদ বলেছিলেন আমি মনে করিয়ে দিতে চাই ২০১১ সালে সরকার ক্ষমতা থেকে চলে গেলেও বসিরহাট কেন্দ্রে তিন বিধানসভা আসনে বামেরা জয়লাভ করে । দুটি বিধানসভায় সিপিএম, একটিতে সিপিআই । ফলে বসিরহাটের মানুষ কিন্তু বাম মনোভাবাপন্ন । মানুষের ঐক্যকে আরো মজুত করার কথা বলার সঙ্গেই প্রকল্পের টাকা লুঠ, আবাসের টাকা লুঠ থেকে শিক্ষা, স্বাস্থ্যর হাল নিয়ে প্রচার করব । বাম জমানার পঞ্চায়েত সুষ্ঠ ব্যবস্থা পরিবেশ ফেরাতে হবে। মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিতে চাই ।
তৃণমূলের সময়কালে মানুষ এত অত্যাচারিত হয়েছে কিন্তু প্রকাশ করতে পারছিল না । শুধু সন্দেশখালির একটা ঘটনা গোটা রাজ্যকে শুধু নাড়িয়ে দেয়নি, বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রে এই ঘটনার ব্যাপক প্রভাব পড়েছে । বিজেপির প্রশ্নে মানুষের মনে কিন্তু প্রশ্ন উঠছে । সন্দেশখালির মানুষ বিভাজন আগেও চাইত না এখনো চায় না । সেই বিভাজনের প্রচার করছে বিজেপি । বসিরহাট সাব ডিভিশনের বিজেপি ফ্যাক্টর হবে না ।
জেতা নিয়ে কতটা আশাবাদী ৷ বসিরহাটে কি ফের লাল ঝান্ডা উড়বে ?নিরাপদ জানিয়েছিলেন আমরা অন্য রাজনৈতিক দলের মতো বলি না ৫ লক্ষ ভোটে জিতব । আমরা বাস্তব অবস্থা মেনে চলি । আমার জেলে যাওয়া, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা বা ক্ষেতমজুর আন্দোলন সব মিলিয়ে লাল ঝান্ডা পক্ষে একটা হাওয়া উঠেছে । এবারে মানুষ সব উপেক্ষা করে লাল ঝান্ডা পক্ষে থাকবেন । কারণ তৃণমূল দুর্নীতিগ্রস্ত, বিজেপি মানুষদের ভাগ করতে চায়। বসিরহাটের মানুষ বিভাজন চায় না, দুর্নীতি চায় না। তাই হাওয়া বইছে বামপন্থার দিকে । নিশ্চই আত্মবিশ্বাস আছে বসিরহাটের মানুষের উপর ৷ যখন লাল ঝান্ডা দুর্বল হয়েছে তারা বারেবারে আমাদের জিতিয়েছে ৷ আমার বিশ্বাস মানুষ এবারেও লাল ঝান্ডাকে জিতিয়ে সংসদে পাঠাবে ৷
বসিরহাট জুড়ে আজ সকাল শেষ বেলায় বিভিন্ন বাজারে জনসমাগমের জায়গায় নিরাপদ ঘুরলেন জনগণের যথেষ্ট সাড়া আছে বলে তিনি মনে করেন।
এই কেন্দ্রে 2009 জয়লাভ করেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী হাজি নুরুল ইসলাম । এরপরে 2014 সালে ইদ্রিশ আলি ও তারপর নুসরত জাহান জয়লাভ করেন 2019 সালে । এর আগে এই কেন্দ্রে টানা ন'বার লোকসভা ভোটে জয়লাভ করে সিপিআই। ইন্দ্রজিৎ গুপ্ত থেকে অজয় চক্রবর্তী মতো মানুষ সিপিআই থেকে জিতে এই কেন্দ্র থেকে লোকসভায় গিয়েছেন।
We hate spam as much as you do