Tranding

05:55 PM - 04 Feb 2026

Home / Politics / কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি ছাড়া অন্য কিচ্ছু জরুরি নয়

কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি ছাড়া অন্য কিচ্ছু জরুরি নয়

কিন্তু দুঃখের বিষয়, যখনই বিজেপি সরকারের কাছে কর্মসংস্থানের দাবি ওঠে, তখন বক্তব্য ওঠে যে দেশ বিপন্ন। আর তৃণমূল সরকারের কাছে কাজের দাবি তুললে অজুহাত আসে যে তা নাকী ফ্যাসিবাদী বিজেপিকে ক্ষমতায় আনবে। আমরা, বেকাররা প্রকাশ্যে আঙ্গুল তুলে বলছি যে আপনারা দুজনেই ফ্যাসিস্ত আর একচেটিয়া কর্পোরেটের দালাল।

কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি ছাড়া অন্য কিচ্ছু জরুরি নয়

কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি ছাড়া অন্য কিচ্ছু জরুরি নয়

২০১৮ সাল। সোনারপুরের সঞ্জীবকে আত্মহত্যা করতে হল স্রেফ কাজ না পাওয়ার কারনে। হ্যাঁ এটাই সত্যি। উন্নয়ন আর আচ্ছে দিনের রাজত্বে একজন শিক্ষিত যুবক, সমস্ত রকম যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও পরীক্ষা দিয়ে কোনোরকম সম্মানজনক কাজ পাননি। কারন সরকার নিয়োগ করতে আগ্রহী নয় অথবা ঘুষের বিনিময়ে অস্থায়ী কাজ জোটাতে হয়। যার নিট ফল আত্মহনন। 
              ২০১১ সালে মা মাটি মানুষের সরকার ক্ষমতায় আসে নানান প্রলোভন আর প্রতিশ্রুতি দিয়ে। উলটোদিকে ২০১৪ সালে ব্যাপক কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আচ্ছে দিনের সরকার তখতে বসে। কিন্তু উভয়ের কেউই প্রতিশ্রুতি পালন করেনি। শিল্পের উজ্জ্বল সম্ভাবনাকে ধ্বংস করেই পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী ক্ষমতায় এসেছিলেন আর এসেই রাজ্যে বিনিয়োগের সম্ভাবনাও ধ্বংস করেছেন। যার নিট ফল পশ্চিমবঙ্গের শিল্পায়ন প্রক্রিয়া স্তব্ধ হয়েছে, কাটোয়া বা শালবনীর প্রকল্পও বিশবাঁও জলে। একাধিক চটকল আর চা বাগান এই উন্নয়নের আমলেই বন্ধ হয়েছে। অন্যদিকে টেট, এসএসসি, পিএসসি সহ একাধিক নিয়োগের পরীক্ষা কার্যত বন্ধ। যে কয়বার পরীক্ষা হয়েছে, তাতে ব্যাপক স্বজনপোষণ এবং দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সল্টলেকের তথ্যপ্রযুক্তি কেন্দ্র কার্যত রুগ্নতার পথে যাচ্ছে। অন্যদিকে রাজ্যের বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক পদ কার্যত শূন্য, যার ফল হল ২০১৮ এর দাঁড়িভিটের ঘটনা। 
           অন্যদিকে আচ্ছেদিনের সরকার কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিলেও তার বাস্তব প্রতিফলন আমরা পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছি। বিভিন্ন সরকারী দফতরে যেমন নিয়োগ কমেছে, তেমনি ছাঁটাই হচ্ছে শূন্যপদ। বিভিন্ন সরকারী ক্ষেত্রে বিলগ্নিকরনের মাধ্যমে কার্যত নিয়োগের প্রক্রিয়ায় তালা দেওয়া হচ্ছে। আউটসোর্সিং এর নামে সরকারী ক্ষেত্রে বেসরকারিকরণের রাস্তা পরিষ্কার করা হয়েছে। অতিমারীর কালে এই ছবি আরও প্রকট হয়েছে। সাম্প্রতিক সমীক্ষায় দেখা গেছে যে অতিমারীর  ফলে বেকারত্ব আর ছাঁটাই এর ব্যাপকভাবে বেড়েছে। পরিযায়ী শ্রমিকদের যন্ত্রনা এবং তাদের পথশ্রম কার্যত চোখে আঙ্গুল দিয়ে বেকারত্বের সমস্যা, বিশেষত পশ্চিমবঙ্গের প্রেক্ষিতকে দেখিয়েছে। এই লেখা যখন নির্বাচনী উত্তাপের আবহে লেখা হচ্ছে, তখন পশ্চিমবঙ্গে বেকারের সংখ্যা এককোটির উপর। শিক্ষক পদপ্রার্থীদের ধর্না-বিক্ষোভ পশ্চিমবঙ্গের বেকার সমস্যার জ্বলন্ত প্রতীকে পরিণত হয়েছে। 
          কিন্তু এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট খুঁজতে গেলে আমরা দেখতে পাই যে অর্থনৈতিক উদারীকরণ এই পরিস্থিতির মূল উদ্গাতা, যার পৃষ্ঠপোষক তৃণমূল এবং বিজেপি উভয় দলই। অর্থনৈতিক উদারীকরণের মূল বক্তব্যই হল সরকারী ক্ষেত্রের বিলগ্নিকরন, সামাজিক উন্নয়নখাতে ছাঁটাই এবং কর্পোরেটদের হাতে সম্পদের মালিকানার একচেটিয়াকরন। যার নিট ফল একদিকে নিয়োগ হ্রাস এবং অন্যদিকে বিলগ্নিকরন। এর ফলে আউটসোর্সিং এর দাপট বাড়ছে, যেখানে কর্মরতদের কোনোরকম সামাজিক সুরক্ষা থাকছে না। শিক্ষা-স্বাস্থ্য সহ পরিষেবাখাতে নিয়োগ বন্ধ করে বা স্বজনপোষণ করে সেই সকল ক্ষেত্রগুলিকে ধ্বংস করে কার্যত সেখানে বিলগ্নিকরনের সুযোগ করে দিয়েছে। অন্যদিকে রাজ্যের শাসকদলের তোলাবাজি রাজ্যে বিনিয়োগের রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে একচেটিয়া কর্পোরেট বা তাদের পেটোয়া দুর্নীতিগ্রস্থ নেতাদের সম্পদ বাড়লেও রাজ্য তথা দেশের অর্থনীতি সংকুচিত হচ্ছে। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা যে ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে তা বিভিন্ন সমীক্ষাতেই পরিষ্কার আর এক্ষেত্রে যে বেকারত্ব অন্যতম কারন তাও বলার অপেক্ষা রাখে না। নিয়োগের প্রশ্নে শাসকের অনীহা এবং বিভিন্ন সরকারী প্রকল্পে দুর্নীতি এই পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। তার বাস্তব প্রতিফলন হল ২০১৮ এর পঞ্চায়েত নির্বাচনে সুবিধাবাদী রাজনৈতিক নেতার মিথ্যা প্রতিশ্রুতিতে ভোটলুঠে গিয়ে শিক্ষিত যুবকের প্রাণহানির ঘটনা। 
          কিন্তু দুঃখের বিষয়, যখনই বিজেপি সরকারের কাছে কর্মসংস্থানের দাবি ওঠে, তখন বক্তব্য ওঠে যে দেশ বিপন্ন। আর তৃণমূল সরকারের কাছে কাজের দাবি তুললে অজুহাত আসে যে তা নাকী ফ্যাসিবাদী বিজেপিকে ক্ষমতায় আনবে। আমরা, বেকাররা প্রকাশ্যে আঙ্গুল তুলে বলছি যে আপনারা দুজনেই ফ্যাসিস্ত আর একচেটিয়া কর্পোরেটের দালাল। আপনাদের কর্মকাণ্ড আসলে দেশের একচেটিয়া কর্পোরেটদের পেট ভরানোর জন্য, যা রাজ্য তথা দেশের বুকে অন্ধকার নামিয়ে আনছে। তাই এই মুহূর্তে আমাদের অর্থাৎ বেকারদের কর্তব্য  সিস্টেম সমেত আপনাদের রাজনৈতিক ভাবে উপড়ে ফেলা আর সেটা আমরা করবই, আমাদের জীবনের স্বার্থে।

Your Opinion

We hate spam as much as you do