এসবিআই-এর থেকে তথ্য পাওয়ার পর নির্বাচনী বন্ড নিয়ে যে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন তাতে দেশের কোন কোন সংস্থা নির্বাচন বন্ডের মাধ্যমে কত টাকা করে চাঁদা দিয়েছিল রাজনৈতিক দলগুলিকে, তার তালিকা আছে। কিন্তু কোন সংস্থা থেকে কোন দলে চাঁদা গিয়েছে, তার পৃথক উল্লেখ নেই।
নির্বাচনী বন্ডে কোন সংস্থা কোন দলকে কত দিল তার তথ্য নেই ক্ষুব্ধ সুপ্রিম কোর্টের নোটিশ SBIকে
15th March 2024
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ আসার পর মঙ্গলবার ভারতীয় স্টেট ব্যাঙ্ক জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচনী বন্ডের তথ্য জমা দিয়েছিল। শুক্রবার সেই তথ্য প্রকাশ করার কথা থাকলেও বৃহস্পতিবার রাতেই বন্ডের তথ্য প্রকাশ্যে আনে নির্বাচন কমিশন। তবে এই তথ্য অসম্পূর্ণ, এমনই পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের। সেই প্রেক্ষিতে আবার শীর্ষ আদালতের ধমকের মুখে পড়েছে এসবিআই।
শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট এই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে ফের কার্যত 'ধমক' দিয়েছে এসবিআই কর্তৃপক্ষকে। প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় এদিন জানতে চান, আদালতে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের তরফে কারা এসেছে। তারপরই তিনি বলেন, বিগত ৫ বছরের সমস্ত ডোনেশনের তথ্য জমা দিতে হবে এসবিআই-কে। একই সঙ্গে আদালতের বক্তব্য, বন্ড সম্পর্কিত 'ইউনিক অ্যালফা নিউমারিক নম্বর' জানায়নি স্টেট ব্যাঙ্ক। সেই তথ্যও আদালত জানতে চায়। এই প্রেক্ষিতে শুক্রবারই ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধে নোটিস জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট। আগামী ১৮ মার্চের মধ্যে এই বিষয়ে তাঁদের জবাব তলব করা হয়েছে।
এসবিআই-এর থেকে তথ্য পাওয়ার পর নির্বাচনী বন্ড নিয়ে যে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন তাতে দেশের কোন কোন সংস্থা নির্বাচন বন্ডের মাধ্যমে কত টাকা করে চাঁদা দিয়েছিল রাজনৈতিক দলগুলিকে, তার তালিকা আছে। কিন্তু কোন সংস্থা থেকে কোন দলে চাঁদা গিয়েছে, তার পৃথক উল্লেখ নেই। সুপ্রিম কোর্ট যে 'ইউনিক নম্বর'-এর কথা বলছে, সেই নম্বর দাতা এবং রাজনৈতিক দলের যোগসূত্র করে দিতে ভূমিকা পালন করতে পারে। ফলে সেটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই তথ্যই এসবিআই জমা দেয়নি আদালতে।
গত বুধবার নির্বাচনী বন্ড নিয়ে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া সুপ্রিম কোর্টকে এক হলফনামায় জানিয়েছিল, ২০১৯ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৪ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ২২ হাজার ২১৭টি বন্ড ইস্যু করা হয়েছে। এর মধ্যে ২২ হাজার ৩০টিই ভাঙিয়ে নিয়েছে রাজনৈতিক দলগুলি। বাকি ১৮৭টিও ভাঙানো হয়েছে এবং তার অর্থ জমা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিলে।
যে তথ্য নির্বাচন কমিশন প্রকাশ করেছে তাতে দেখা গেছে, ১ লক্ষ, ১০ লক্ষ এবং ১ কোটি টাকা করে নির্বাচনী বন্ড কেনার উল্লেখ রয়েছে তালিকায়। মোট দু'টি তালিকা প্রকাশ করেছে কমিশন। একটিতে কোন সংস্থা, কবে, কত টাকার বন্ড কিনেছে, তার হিসেব রয়েছে। অন্যটিতে রাজনৈতিক দলগুলি কখন, কত টাকার বন্ড ভাঙিয়েছে, সেই হিসেব রয়েছে। বন্ডের তথ্যে দেখা গেছে অর্থ প্রাপকদলের তালিকায় রয়েছে বিজেপি, কংগ্রেস, ডিএমকে, তৃণমূল, শিরোমণি আকালি দলের মতো দলগুলি।
We hate spam as much as you do